'কম্প্রোমাইজ' করার প্রস্তাব! কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি ‘রাঙামতি’ মনীষা, কী জানালেন
অভিনয় জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না মনীষা মণ্ডলের। কেরিয়ারের শুরুতেই তাঁকে কাস্টিং কাউচের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি সমাজের কটূক্তি ও নানা বাধা পেরিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি সেই অজানা সংগ্রামের গল্পই শোনালেন তিনি।
ছোটপর্দায় নিজের অভিনয় দিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন মনীষা মণ্ডল। কিন্তু ক্যামেরার সামনে পৌঁছানোর পথটা তাঁর জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানালেন, কেরিয়ারের শুরুতে তাঁকেও কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পাশাপাশি, অভিনয় পেশা নিয়ে সমাজের কটূক্তি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথাও অকপটে ভাগ করে নিলেন তিনি।

অভিনয়ের স্বপ্নপূরণের পথে ছিল একের পর এক বাধা
মডেলিংয়ের জগৎ থেকে অভিনয়ে পা রাখেন মনীষা। কিন্তু সুযোগ পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন তাঁকে একাধিক অডিশন দিতে হয়েছে। দিনের পর দিন চেষ্টা করেও কাজ না পাওয়ায় মানসিক চাপ যেমন ছিল, তেমনই রাত করে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের নানা বিদ্রূপও শুনতে হয়েছে তাঁকে।
শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর মাকেও নানা অপমানজনক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকেই ইঙ্গিত করে বলতেন, অভিনয় জগতে প্রতিভার চেয়ে অন্য বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়। তবে এই ধরনের মন্তব্যে ভেঙে না পড়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন মনীষা।
'কম্প্রোমাইজ' কথার প্রকৃত অর্থ পরে বুঝেছিলেন
অভিনয়ের শুরুর দিকে একটি কাজের জন্য ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। কথাবার্তা অনেকটাই এগোনোর পর তাঁকে বলা হয়, কাজটি পেতে হলে 'কম্প্রোমাইজ' করতে হবে।
ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর হওয়ায় প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, বিষয়টি হয়তো সাধারণ কোনও সমঝোতার প্রসঙ্গ। কিন্তু পরে যখন ওই ব্যক্তি স্পষ্টভাবে নিজের উদ্দেশ্য জানিয়ে দেন, তখনই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন অভিনেত্রী। কোনও দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গেই সেই ব্যক্তির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। মনীষার কথায়, অভিনয় জীবনে এমন অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তাঁকে মাত্র একবারই হতে হয়েছে।
আপাতত মডেলিংয়ে ব্যস্ত, অপেক্ষায় ভালো চরিত্রের
স্টার জলসার অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'রাঙামতি তীরন্দাজ'-এ মুখ্য চরিত্র ‘রাঙামতী’ হিসেবে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন মনীষা। 'রাঙামতী' চরিত্রের জন্য তাঁকে তীরন্দাজি শিখতে হয়েছিল, পুরুলিয়া গিয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশের আগে মনীষা দীর্ঘদিন মঞ্চাভিনয় ও শর্ট ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিনয়ের ভিত গড়ে ওঠে থিয়েটারের হাত ধরেই। তিনি আইপিটিএ (IPTA) মুম্বই এবং কিস্সা কোঠি নাট্যদলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। এই সময়ে 'হার লেটারস', 'বাকরি'-সহ একাধিক নাটকে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।
ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আপাতত মডেলিংয়ের কাজেই বেশি সময় দিচ্ছেন । তবে অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। উপযুক্ত গল্প ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের প্রস্তাব এলে আবারও ছোটপর্দা বা অন্য মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ফিরতে চান পর্দার ‘রাঙামতি’ মনীষা।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


