Paayel Sarkar: ‘স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ে যাওয়ার পর ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে!’ টলিপাড়ার নোংরা রাজনীতি নিয়ে সরব পায়েল সরকার

পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার সমীকরণও যে আমূল বদলাতে শুরু করেছে, তার এক বড় প্রমাণ মিলল অভিনেত্রী পায়েল সরকার-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। এবার টলিপাড়ার অন্দরের ‘স্বজনপোষণ’ ও ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

May 20, 2026, 16:56:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই টলিউডের অন্দরের জমে থাকা ক্ষোভ আর ফিসফাস এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করল। গত কয়েক বছর ধরে স্টুডিয়োপাড়ার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া রাজনৈতিক খবরদারি এবং স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন প্রথম সারির অভিনেত্রী পায়েল সরকার। বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করলেন, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়ার কারণে কীভাবে গত কয়েক বছরে টলিপাড়ার বহু প্রতিভাবান শিল্পীকে কোণঠাসা (Cornered) করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নিজের ক্যারিয়ারের এক অন্ধকার অধ্যায়কে সামনে এনে পায়েল জানান, কীভাবে বড় বড় প্রজেক্ট থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

‘স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ে যাওয়ার পর ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে!’ বিস্ফোরক পায়েল সরকার
‘স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ে যাওয়ার পর ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে!’ বিস্ফোরক পায়েল সরকার

‘যোগ্যদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল’:

গত মে মাসে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা পায়েল মনে করেন, এই নতুন সরকার টলিউডের জন্য এক নতুন সকাল নিয়ে আসবে। টলিপাড়ার সাথে রাজনীতির এই মাখামাখি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পায়েল বলেন, 'এতদিন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর রাজনীতির যে ব্যাপক প্রভাব ছিল, তার ফলে যা হওয়ার ঠিক তাই হয়েছে— যাঁরা সত্যিকারের যোগ্য এবং প্রতিভাবান শিল্পী, তাঁদের ইচ্ছে করে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, কোণঠাসা করা হয়েছিল। এটা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমি গত ২০ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি, বহু বড় পরিচালকের সাথে কাজ করেছি। খুব ছোট বয়স থেকে টলিউডকে দেখছি, তাই গত কয়েক বছরে এর অবক্ষয়টা আমি খুব ভালোভাবেই লক্ষ্য করেছি।'

ফোন করে বাদ, মেলেনি ন্যূনতম সৌজন্যতাও:

নিজের সাথে ঘটা একাধিক অন্যায়ের খোলসা করে পায়েল জানান, বড় প্রযোজনা সংস্থার ছবি থেকেও তাঁকে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে হয়েছে। পায়েলের কথায়, “এটা বলতে আজ আমারও খারাপ লাগছে, কিন্তু আমিও এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছি। অন্তত ২-৩ বার বড় প্রজেক্টের অফার পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে আমাকে সিনেমা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এমনও হয়েছে যে, আমি ছবির চিত্রনাট্য পড়তে (Script Reading) যাচ্ছি, আর ঠিক তার আগে আমাকে ফোন করে বলা হলো— ‘আজকের রিডিংটা হচ্ছে না, পরে জানানো হবে’। ব্যস, তারপর আর কোনোদিন ওনাদের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি। পরে দেখলাম, সেই চরিত্রে অন্য কোনো অভিনেত্রীকে কাস্ট করে নেওয়া হয়েছে।'

অভিনেত্রী ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, ‘সিনেমায় কাকে নেওয়া হবে সেটা পরিচালকের সিদ্ধান্ত হতেই পারে, কিন্তু আমাকে অফার করার পর যখন বাদ দেওয়া হচ্ছে, তখন ন্যূনতম সৌজন্যতা দেখিয়ে একটা ফোন তো করাই যায়! সেইটুকু ভদ্রতাও টলিউডের একাংশ দেখায়নি। আমি আজ পর্যন্ত এই নিয়ে কারও কাছে কোনো সহানুভূতি বা দয়া ভিক্ষা করতে যাইনি।’

রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিদায় এবং নতুন সরকার আসার পর পায়েল আশাবাদী যে, এবার অন্তত টলিউড মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবে এবং মেধার ভিত্তিতে কাজ হবে, কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতার ভিত্তিতে নয়।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More