‘১০ বছর বয়সে রজস্বলা হয়ে মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছিল! ১৩ বছরের মেয়ের শরীরটাকে ছিঁড়ে শেষ করে দিল’, বারুইপুর কাণ্ডে সরব পৌষমিতা

বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে নিজের জীবনের প্রথম পিরিয়ডসের ট্রমা এবং মেয়েদের শরীরের স্বাধীনতা হরণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে দীর্ঘ পোস্ট করলেন অভিনেত্রী পৌষমিতা গোস্বামী।

Published on: Jul 7, 2026, 10:30:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সমাজ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের পাশাপাশি এবার টলিপাড়ার তারকাদের প্রতিবাদের ভাষা আরও তীব্র ও ধারালো হয়ে উঠছে। বারুইপুরের এই নারকীয় ঘটনা এবং সামগ্রিকভাবে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষার অভাব নিয়ে সমাজমাধ্যমে এক রক্তক্ষরণকারী, দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট লিখলেন অভিনেত্রী পৌষমিতা গোস্বামী।

'১৩ বছরের মেয়ের শরীরটাকে ছিঁড়ে শেষ করে দিল’, বারুইপুর কাণ্ডে সরব পৌষমিতা
'১৩ বছরের মেয়ের শরীরটাকে ছিঁড়ে শেষ করে দিল’, বারুইপুর কাণ্ডে সরব পৌষমিতা

নিজের ১০ বছর বয়সে প্রথম পিরিয়ডস বা রজস্বলা হওয়ার ব্যক্তিগত ট্রমা থেকে শুরু করে বারুইপুরের নির্যাতিতার ওপর হওয়া পৈশাচিকতার তুলনা টেনে পৌষমিতা সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে এক চরম দাবি জানিয়েছেন।

‘১০ বছর বয়সে আমার শরীর নিয়ে সবাই ডিক্টেট করছিল…’

পৌষমিতা তাঁর লেখার শুরুতে নিজের শৈশবের এক গভীর ক্ষত তুলে ধরেছেন। যখন তাঁর বয়স মাত্র দশ, তখন তিনি প্রথম রজস্বলা হন। সেই সময়ের অসহায়তার কথা মনে করে তিনি লেখেন, ‘আমার দশ বছর বয়স, রজস্বলা হলাম। তাও আমি কিছু বুঝতেই পারিনি... বাড়িতে কান্নাকাটি শুরু হলো, হঠাৎ আমার পোশাকের অনেক কিছু বদলে গেল কেন! আমি বাধ্য হলাম স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে, কেন! কেন আমার জীবনের স্বাধীনতা একদিনের মধ্যে অর্ধেক হয়ে গেল!!’

তিনি আরও জানান, পরের দিন বাবা-মা তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জীবনের প্রথমবার এক অপরিচিত পুরুষের সামনে তীব্র যৌন অস্বস্তি ও ডুকরে কান্না পেয়েছিল তাঁর। কিশোরী মনে হয়েছিল, এই শরীরটা নিয়ে যেন সবাই কাটাছেঁড়া করছে আর ডিক্টেট করছে কী করতে হবে। প্রতি মাসের এই নিয়মের কথা জেনে তাঁর ‘মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছিল’, কারণ এই পুরো ঘটনার জন্য ওঁর থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি।

'যে মেয়েটি ধর্ষিতা হলো, সে কি নিজের শরীরটাকে চেনার সময় পেয়েছিল?'

অনুমতি, শরীর, স্পর্শ, যৌনতা ও কাম— এই শব্দগুলোকে একটিই ইকোসিস্টেমের অংশ বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ১০ বছর বয়সে যখন শরীরটাই চেনা যায় না, যখন পেলভিক বোনের মধ্যে থাকা যৌনাঙ্গের দাম মেয়েদের সারাজীবন ধরে দিতে হয়— তা বোঝার আগেই বারুইপুরের মতো নৃশংসতার শিকার হতে হচ্ছে শিশুদের।

বারুইপুরের নাবালিকার প্রতি হওয়া অত্যাচারের কথা টেনে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন, ‘যে মেয়েটি এইটুকু বয়সে ধর্ষিতা হলো, সে কি নিজের শরীরটাকে নিজেই চিনে ওঠার সময় পেয়েছিল!! একটা পেলব শরীর যে সবে মুগ্ধতার ভাষা শিখছে, শরীর টের পাচ্ছে কিন্তু মন টের পাচ্ছে না— সেই শরীরটাকে ছিঁড়ে, খুবলে, টেনে হিঁচড়ে শেষ করে দিল ধর্ষকেরা। তারা আমাদের মতোই কেউ, আমাদের আশেপাশেই গা ঢাকা দিয়ে থাকে।’

‘ধর্ষকদের ময়দানে আনুন, আমরা টিকিট কেটে ওদের অঙ্গহানি দেখতে যাবো’

আজকের দিনে কন্যাসন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আশঙ্কাপ্রকাশ করে পৌষমিতা রাজ্য সরকারের কাছে এক নজিরবিহীন ও চরম শাস্তির দাবি তুলেছেন। অপরাধীদের আড়ালে শাস্তি না দিয়ে জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ধর্ষকদের চিহ্নিত করে কন্যা সন্তানের মায়েদের হাতে, আমাদের হাতে তুলে দিন রাজ্য সরকার। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট কাকে বলে সারা পৃথিবীকে নিদর্শন দিয়ে যাবো। অনুরোধ, আপনারা ধর্ষকদের ধরার পর জনতার থেকে লুকিয়ে শাস্তি দেবেন না। ময়দানে ধরে নিয়ে আসুন, আমরা টিকিট কেটে দেখতে যাবো ওদের একের পর এক অঙ্গহানি। কথা দিলাম।’

বারুইপুর কাণ্ডের পর অভিনেত্রী পৌষমিতা গোস্বামীর এই পোস্টটি নেটিজেনদের রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েদের শরীরের ওপর হওয়া জন্মগত সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর এই চরম ক্ষোভ আজ প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের মনের আগ্নেয়গিরিকেই যেন প্রতিধ্বনিত করেছে।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More