সয়েছেন গর্ভপাতের যন্ত্রণা, ৫ নম্বর বিয়ের সাড়ে ৩ মাসের মাথায় মা হলেন সুস্মিতা! কী অনুভূতি সায়কের প্রাক্তন বউদির?

মা হলেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। গত মার্চে শুভাশিস দে-র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন সুস্মিতা। বিয়ের সময়ই প্রায় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন অভিনেত্রী।

Published on: Jul 6, 2026, 18:16:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অভিনেত্রী তথা উদ্যোগপতি সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy)-এর জীবন যেন কোনও টানটান চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। বিতর্ক, সমালোচনা আর একাধিক বিয়ে পেরিয়ে এবার ‘অপুর সংসার’ অভিনেত্রীর জীবনে এল সবচেয়ে মধুর মুহূর্ত। মা হলেন সুস্মিতা। ব্যবসায়ী শুভাশিস দে-র সঙ্গে পঞ্চম বার ছাদনাতলায় বসার মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথাতেই সন্তানের জন্ম দিলেন অভিনেত্রী।

সয়েছেন গর্ভপাতের যন্ত্রণা, ৫ নম্বর বিয়ের সাড়ে ৩ মাসের মাথায় মা হলেন সুস্মিতা! কী অনুভূতি সায়কের প্রাক্তন বউদির?
সয়েছেন গর্ভপাতের যন্ত্রণা, ৫ নম্বর বিয়ের সাড়ে ৩ মাসের মাথায় মা হলেন সুস্মিতা! কী অনুভূতি সায়কের প্রাক্তন বউদির?

সোশ্যাল মিডিয়ায় মা হওয়ার এই আনন্দঘন খবরটি নিজেই ভাগ করে নিয়েছেন সুস্মিতা (যিনি অভিনেতা সায়কের প্রাক্তন বৌদি হিসেবেও টলিপাড়ায় পরিচিত)। বিগত ৭ বছরের দীর্ঘ লড়াই, কষ্ট এবং প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণার পর মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে এক আবেগঘন পোস্ট লিখেছেন তিনি।

‘২০১৯ সালের ১৯ মার্চ যে স্বপ্নটা থেমে গিয়েছিল…’

সুস্মিতা তাঁর পোস্টে অতীতের এক বুকফাটা যন্ত্রণার কথা স্মরণ করেছেন। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তিনি ওঁর প্রথম সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সেই ক্ষতের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘২০১৯ সালের ১৯ মার্চ যে স্বপ্নটা থেমে গিয়েছিল, আজ যেন তারই নতুন করে শুরু। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষা, লড়াই, অগণিত কষ্ট আর না-পাওয়ার যন্ত্রণার পর আজ আমি মাতৃত্বের স্বাদ পেলাম। এটা কোনো শারীরিক অক্ষমতার লড়াই ছিল না, ছিল সময়, পরিস্থিতি আর অনেক অদৃশ্য বাধার বিরুদ্ধে এক নিরন্তর সংগ্রাম।’

প্রথম সন্তানকে হারানোর সেই গভীর ক্ষত বুকে নিয়েই এবারের গোটা গর্ভাবস্থার জার্নিটা সম্পূর্ণ আড়ালে এবং নীরবে আগলে রেখেছিলেন সুস্মিতা। তাঁর কথায়, গতবার সবটা ভাগ করে নিলেও, এবার সব শুভশক্তির আশীর্বাদে, কু-নজর আর অভিশাপকে হারিয়ে সন্তানের আগমনের দিনেই সবাইকে সুখবরটা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

‘অনেকেই চায়নি আমি মা হই’— স্বামীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুস্মিতা

নিজের এই কঠিন মাতৃত্বের সফরে পঞ্চম স্বামী শুভাশিস দে-র অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। সুস্মিতা জানান, যখন চারপাশের অনেকেই তাঁর ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল, এমনকি অনেকেই মনে-প্রাণে চেয়েছিল তিনি যেন কোনওদিন মা না হতে পারেন, তখন শুভাশিস পাহাড়ের মতো স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

স্বামীর উদ্দেশ্যে সুস্মিতা লেখেন, ‘যখন আমি ভেবেছিলাম হয়তো এই জীবনে আর কোনোদিন ‘মা’ ডাক শোনার সৌভাগ্য আমার হবে না, তখন ও আমার স্বপ্নটাকে নিজের স্বপ্ন করে আগলে রেখেছে, ভরসা দিয়েছে, লড়াই করার শক্তি দিয়েছে। আজ আমার মাতৃত্বের পূর্ণতার গল্পে ওর ভালোবাসা, বিশ্বাস আর অবিচল সঙ্গ সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে থাকবে চিরকাল।’

সমস্ত বিতর্ককে হারিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায়

টলিপাড়ার অভিনেতা সায়কের প্রাক্তন বৌদি হওয়ার সুবাদে এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক ওঠানামার কারণে সুস্মিতাকে প্রায়শই ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। মাত্র সাড়ে তিন মাস আগেই শুভাশিসের সাথে তাঁর পঞ্চম বিয়ের খবরটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম চর্চা হয়নি। তবে সমস্ত বিতর্ক, সমালোচনা ও কুৎসাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়ে জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অধ্যায়টি পূর্ণ করলেন সুস্মিতা। তাঁর এই অলৌকিক আনন্দের দিনে অনুগামীরা নবজাতক ও নতুন মাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More