‘সেই আনন্দের কাছে দুনিয়ার সমস্ত কষ্ট তুচ্ছ’, ৪০০ পরিবারকে দত্তক নিলেন রশ্মিকা, কেন এই উদ্য়োগ?

পর্দায় তিনি ‘জয় আম্মা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সেই চরিত্র থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ৪০০টি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রশ্মিকা।

Published on: Oct 14, 2026, 19:00:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দক্ষিণ ও বলিউডের জনপ্রিয় তারকা রশ্মিকা মন্দানা ও স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডার বিয়ের পর এটিই তাঁদের প্রথম যৌথ ছবি। তাঁদের আসন্ন বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রণবলী’ (Ranabaali) আগামী ১৬ই অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। তবে ছবি মুক্তির আনন্দের মাঝেই এক অভূতপূর্ব ও মহৎ সামাজিক উদ্যোগের কথা প্রকাশ করে ভক্তদের হৃদয় জয় করে নিলেন রশ্মিকা।

‘সেই আনন্দের কাছে দুনিয়ার সমস্ত কষ্ট তুচ্ছ’, ৪০০ পরিবারকে দত্তক নিলেন রশ্মিকা, কেন এই উদ্য়োগ?
‘সেই আনন্দের কাছে দুনিয়ার সমস্ত কষ্ট তুচ্ছ’, ৪০০ পরিবারকে দত্তক নিলেন রশ্মিকা, কেন এই উদ্য়োগ?

পর্দায় তিনি ‘জয় আম্মা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সেই চরিত্র থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ৪০০টি অসহায় পরিবারের তিন মাসের সম্পূর্ণ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় রেশনের দায়িত্ব দত্তক হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৪০০ পরিবারের দত্তক ও সমাজসেবা:

ইন্সটাগ্রামে নিজের টিম কর্তৃক রেশন বিতরণের একটি আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করে রশ্মিকা জানান, প্রতি তিন মাস অন্তর ৪০০টি পরিবারকে এভাবে সাহায্য করা হবে এবং আগামী এক বছর ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে। উদ্দেশ্য— যাতে পরিবারগুলো এই সময়ে টাকা জমিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের হৃদয়ের কথা প্রকাশ করে রশ্মিকা লেখেন—

‘আপনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন, তা মাঝে মাঝে আপনাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আপনারা অনেকেই জানতে চান পর্দায় ‘জয় আম্মা’র সঙ্গে আমার কোনো মিল আছে কি না। আমার উত্তর— হ্যাঁ, আছে! আমি সবসময় চেয়েছি ভালোবাসার বিনিময়ে মানুষের জন্য কাজ করতে। আমার টিম চেয়েছিল এই কাজটা গোপনে রাখতে, তবে আমি আজ প্রকাশ করছি কারণ— আমার এই প্রচেষ্টা যদি আপনাদের কাউকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে, তবেই এই মহৎ কাজ সার্থক হবে।’

অভিনেত্রী আরও যোগ করেন— ‘গত বেশ কয়েক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম, না ঘুমোনো রাত, আঘাত, কষ্ট এবং চোখের জলের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে যদি এই মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানো যায়, তবে সেই আনন্দের কাছে দুনিয়ার সমস্ত কষ্ট তুচ্ছ!’

‘রণবলী’ ছবির প্রেক্ষাপট:

রাহুল সংক্রান্ত্যায়ন পরিচালিত ‘রণবলী’ ছবিটি ভারতের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার ও মর্মান্তিক অধ্যায়— ১৮৭৬-৭৮ সালের ‘গ্রেট ফেমিন’ বা ছিয়াত্তরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সত্য ঘটনার পটভূমিতে তৈরি এক কাল্পনিক প্রেম ও সংগ্রামের কাহিনি। তৎকালীন ব্রিটিশ আমলের খরা, সরকারের চরম অবহেলা এবং শস্য রফতানির ফলে লাখ লাখ মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিলেন।

ছবিতে বিজয় দেবরাকোন্ডাকে এক বিদ্রোহী যোদ্ধার ভূমিকায় দেখা যাবে, যিনি ব্রিটিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে নিজের জনপদকে বাঁচাতে লড়াই করেন। আর রশ্মিকা অভিনয় করেছেন তাঁর সহধর্মিনী ও এই বিদ্রোহের অন্যতম সঙ্গী ‘জয় আম্মা’র চরিত্রে।

ছবিতে রশ্মিকা-বিজয়ের অনবদ্য কেমিস্ট্রি দেখার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে অভিনেত্রীর এই অনন্য উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সিনেমাপ্রেমী ও পুরো বিনোদন জগত।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More