‘নিজের শারীরিক গঠন..’, বেড়েছে ওজন, সিনেমায় ফিরতে জিমে সায়ন্তিকা! রাজের পথে হেঁটে রাজনীতি ছাড়বেন?
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার নিজের আসল পেশা অর্থাৎ অভিনয়েই মন দিতে চান বরাহনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনীতি ও বিনোদন জগত নিয়ে তাঁর আগামীর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্র শান্ত হয়েছে। গত ৪ মে ফল প্রকাশের পর বদলে গিয়েছে অনেক সমীকরণ। বরাহনগর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের গ্লানি নাকি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ? ঠিক কোন মানসিক অবস্থায় রয়েছেন অভিনেত্রী? দীর্ঘ জ্বরের পর সুস্থ হয়ে মুখ খুললেন সায়ন্তিকা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— ‘হার মানে তো জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’

পরাজয় ও মানুষের প্রত্যাশা:
ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী বা তৃণমূল সাংসদ দেবের মতো সরাসরি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা না বললেও, সায়ন্তিকার গলায় এখন ক্লান্তি আর আত্মসমীক্ষার সুর। তিনি আনন্দবাজার অনলাইনকে বলেন, ‘একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। হয়তো আমার থেকে মানুষের আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। আমিই হয়তো সাধারণের আশা পূরণ করতে পারিনি। তবে চেষ্টার খামতি রাখিনি কোনোদিন।’ সায়ন্তিকার মতে, বরাহনগরের নতুন বিধায়ক সজল ঘোষকে নিয়ে তাঁর আলাদা করে কিছু বলার নেই, কারণ জনমতই শেষ কথা। সায়ন্তিকার কাছে হার হজম করাটা নতুন কিছু নয়, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও বাঁকুড়ায় লড়ে হেরেছিলেন। কিন্তু দু-টো হারের মধ্যে তফাৎ বিস্তর।
সে'বার বিপুল সিট নিয়ে নবান্নে ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এইবার রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে।
ক্যামেরার সামনে ফেরার প্রস্তুতি:
গত কয়েক বছর রাজনীতির ময়দানে কড়া রোদে ঘুরে বেরিয়েছেন। ফলে শরীরচর্চায় অনেকটাই ফাঁক পড়েছে। সায়ন্তিকা জানান, এবার তিনি নিজের পুরনো জায়গায় ফিরতে চান। তাঁর কথায়, ‘আমার যে পেশা অভিনয়, সেটাতেই মন দিতে চাই। তার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই, নিজের শারীরিক গঠন ঠিক করতে চাই। আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে চাই।’
সহকর্মীদের পথেই কি সায়ন্তিকা?
ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন তিনি আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। দেব-ও রাজনীতিতে বেশি জড়াতে নারাজ। সায়ন্তিকা এখনই রাজনীতির পাট চুকিয়ে দেওয়ার কথা না বললেও, তাঁর ফোকাস যে এখন স্টুডিয়োপাড়া, তা পরিষ্কার। বড়পর্দায় ফেরার জন্য ইতিমধ্যেই নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
এর আগে রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন মিমি, নুসরতরা। সায়ন্তিকাও কি সেই তালিকায় নাম লেখাবেন? উত্তর দেবে সময়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


