Ahona-Chandni: 'মাকে অস্বীকার করা যায় না, যাকে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে…’, চাঁদনির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অকপট অহনা
‘আসলে মানুষ যাকে সবচেয়ে ভালোবাসে তার আঘাতটা মনে রাখতে চায় না’, তিনি ভুল ছিলেন না। দীপঙ্করকে বিয়ের সিদ্ধান্তে আজও অটল অহনা।
‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র মিশকা চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন অহনা দত্ত। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেও যে এতটা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, অহনার কেরিয়ার তারই বড় উদাহরণ। তবে কেরিয়ারের পাশাপাশি অহনার ব্যক্তিগত জীবন হামেশাই থেকেছে লাইমলাইটে।

তাঁর প্রেম থেকে বিয়ে, সব নিয়েই বিতর্ক অন্তহীন। আসলে ডিভোর্সি, বয়সে অনেকটা বড় দীপঙ্করের সাথে অহনার সম্পর্ক মানতে পারেননি তাঁর সিঙ্গল মাদার চাঁদনি। মূলত দীপঙ্করের সঙ্গে ঘর বাঁধতে মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের পাঠ চোকান অহনা। মাত্র ২১ বছর বয়সী মা হওয়ার অভিজ্ঞতা এসেছে তাঁর জীবনে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবন বেছে নেওয়া, সংসার সামলানো এবং একইসঙ্গে কেরিয়ারকে গুরুত্ব দেওয়া—সবকিছু নিয়েই নিজের ভাবনা জানিয়েছেন তিনি।
মায়ের প্রতি মনোভাব ও স্মৃতি নিয়ে অহনার বক্তব্য:
মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠতেই উঠে আসে তাঁর জীবনের একটি কঠিন অধ্যায়। অহনার কথায়, মাকে অস্বীকার করার কিছু নেই। এক পডকাস্টে নায়িকা বলেন, ‘আমি কোনোদিনও কাউকে অস্বীকার করিনি, অস্বীকার করার জায়গাও নেই। মাকে অস্বীকার করা যায় না। তবে একটা সময়কে আমি অস্বীকার করব’।’
ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে কাটানো বহু সুন্দর স্মৃতি এখনও তাঁর মনে রয়েছে। একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, খাওয়া কিংবা নাচ শেখার দিনগুলির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আই ওয়াজ দ্য ক্লোজেস্ট টু মাই মাদার। মানে, মা আমার কাছে বিশাল বড় একটা জিনিস ছিল, আছে এবং সারাজীবন থাকবে। তবে তার পরে একটা অধ্যায় আমার মনে নেই। আসলে মানুষ যাকে সবচেয়ে ভালোবাসে তার আঘাতটা মনে রাখতে চায় না। আগে আমরা একসাথে অনেক ঘুরতে যেতাম, খেতে যেতাম... মায়ের কাছে আমার প্রথম নাচ শেখা, মায়ের সাথেই আমার ডান্স করা। তাই সেটা আমার অস্বীকার করার কোনো জায়গাই নেই।'
অতীতের তিতো অভিজ্ঞতা ও বর্তমান অবস্থান:
নিজে মা হওয়ার পর কি মনে হয়েছে, কোনও জায়গায় তাঁর মা সঠিক ছিলেন? উপস্থাপকের এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট জবাব দিয়ে অহনা বলেন, ‘আমি সঠিক ছিলাম, আমি এটুকুই জানি! এবার বাকি তো অনেকদিনই ঠিক-ভুল থাকে।’
মা হওয়ার পর দায়িত্ববোধ যে বেড়েছে, তা স্বীকার করলেও অহনা মনে করেন, সন্তান তাঁর স্বাধীনতা কিংবা কাজের ইচ্ছাকে থামিয়ে দেয়নি। নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপন, অভিনয় এবং মেয়েকে সময় দেওয়া—সবকিছু সুন্দরভাবে সামলাচ্ছেন তিনি।
অতীতের কিছু অধ্যায় নিয়ে আর ফিরে তাকাতে না চাইলেও বর্তমান জীবন নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট অহনা। বরং নিজের মেয়েকে বড় করতে গিয়ে সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং দায়িত্বের অর্থকে আরও নতুনভাবে বুঝতে পারছেন বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। মায়ের সঙ্গে দূরত্বের পুরনো অধ্যায় বদলে যাবে নাকি নিজের তৈরি করা বর্তমান জীবন নিয়ে তিনি এগিয়ে যাবেন—এই উত্তর সময়ের হাতেই তোলা রইল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


