‘দৃশ্যম ৩’-এ কীভাবে ফের পুলিশকে বোকা বানাল বিজয়? ফাঁস হল কঙ্কাল রহস্য, রয়েছে একের পর এক টুইস্ট

‘দৃশ্যম: দ্য ফাইনাল কনক্লুশন’-এ ফের অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বিজয় সালগাঁওকর। পুলিশ যতই একের পর এক প্রমাণ জোগাড় করুক, প্রতিবারই এক ধাপ এগিয়ে থেকেছে বিজয়। কিন্তু কীভাবে সাজানো হয়েছিল গোটা পরিকল্পনা? কোথা থেকে এল পিন্টোর কঙ্কাল? ফাঁস হল ছবির বড় রহস্য।

Published on: Oct 7, 2026, 15:01:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

অজয় দেবগনের ‘দৃশ্যম: দ্য ফাইনাল কনক্লুশন’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে চর্চা চলছে। বহু বছর ধরে একটি খুনের ঘটনা কীভাবে আড়াল করে রেখেছে বিজয় সালগাঁওকর এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে ফের নিজের পরিবারকে বিপদ থেকে বাঁচাল, সেটাই এই ছবির মূল আকর্ষণ। তৃতীয় পর্বে বিজয়ের সামনে এবার আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর বরাবরের মতো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর পরিকল্পনাতেও রয়েছে একের পর এক চমক।

দৃশ্যম দ্য কনক্লুশনের এন্ডিং।
দৃশ্যম দ্য কনক্লুশনের এন্ডিং।

এবার বিজয়ের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

আগের দুই ছবিতে বিজয়কে পুলিশ অফিসার গায়তোন্ডে এবং মীরা দেশমুখের মতো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু এবার তাঁর সামনে রাজবীর সিং (জয়দীপ আহলাওয়াত)। নিজেকে ‘শনি’ বলে পরিচয় দেওয়া রাজবীরের দাবি, কারও জীবনে সে ঢুকলে বহু বছর পর্যন্ত সেখান থেকে সরে যায় না।

ছবির শুরু থেকেই একের পর এক টুইস্ট আসতে থাকে। এমনকী সামান্য সময়ের জন্য চোখ সরালেও গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য মিস হয়ে যেতে পারে।

এতদিন দর্শক জানতেন, প্রথম ছবিতে বিজয় একটি নির্মীয়মাণ পুলিশ স্টেশনের মাটির নিচে সমীরের দেহ লুকিয়ে রেখেছিল। দ্বিতীয় ছবিতে অবশ্য জানা যায়, সেখানে সমীরের দেহ নয়, অন্য কারও দেহ রাখা হয়েছিল। তৃতীয় পর্বে এসে সেই রহস্যেরই উত্তর মেলে—কঙ্কালটি কার ছিল এবং এতদিন সমীরের দেহ কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল বিজয়?

কীভাবে শুরু হয় তদন্ত?

তৃতীয় পর্বে তদন্ত নতুন মোড় নেয়, যখন প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে পুলিশ স্টেশনের মাটিতে পাওয়া ডিএনএ সমীরেরই। ফলে ফের বিপদের মুখে পড়ে বিজয় এবং তার পরিবার।

এর পাশাপাশি তদন্তে আসে ইন্দ্রজিৎ শেট্টি (প্রকাশ রাজ)। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে বিজয়ের গল্পের ফাঁকফোকর খুঁজে সত্যিটা বের করে ফেলবেন। বিজয়ের অতীত থেকে শুরু করে তার ধর্ম, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ—সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেন শেট্টি। কিন্তু প্রতিবারই তাঁর প্রশ্নের পাল্টা যুক্তি নিয়ে হাজির থাকে বিজয়।

শেষ পর্যন্ত তদন্ত এসে দাঁড়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে।

যে দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল পুলিশ

প্রথমত, ক্রিস্টোফার পিন্টোর কঙ্কাল কি এখনও তাঁর কবরেই রয়েছে?

দ্বিতীয়ত, ২৩ জুলাই ঠিক কোথায় ছিল বিজয় সালগাঁওকর?

এই দুই প্রশ্নের উত্তরই বদলে দেয় গোটা তদন্তের গতিপথ।

কে এই ক্রিস্টোফার পিন্টো?

পিন্টোর ডিএনএ-ই সেই কঙ্কালে পাওয়া যায়, যা পুলিশ স্টেশনের মাটিতে মিলেছিল। এরপর গোটা গোয়ায় সেই ডিএনএ-র সঙ্গে মিল খুঁজতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয়, কঙ্কালটি ক্রিস্টোফার পিন্টোর।

এরপর তদন্তকারীদের সামনে আরও একটি প্রশ্ন আসে—পিন্টোর কফিনে কি সত্যিই তাঁর কঙ্কাল রয়েছে?

কবর খুঁড়ে পুলিশ যখন কফিন থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে, তখন মনে হয় তদন্ত নতুন করে বিজয়ের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পেয়েছে। কিন্তু একই সময়ে আদালতে ২৩ জুলাইয়ের একটি রেকর্ডিং শোনানো হয়। সেখানে শোনা যায়, বিজয় বাড়িতে রয়েছে এবং স্ত্রীকে খাবার গরম করতে বলছে।

এই দুই ঘটনা একই সময়ে ঘটায় তদন্তকারীরা আরও বড় ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়।

বিজয়ের আসল চাল

আসলে এখানেই রয়েছে বিজয়ের সবচেয়ে বড় চাল। পুলিশ যাতে তাঁকে নজরে রাখে, সেই সম্ভাবনা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক ছিল সে। এমনকী সাধারণ প্রতিবেশীর ছদ্মবেশে তার পরিবারের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও বুঝতে পেরেছিল বিজয়।

এরপর পরিবারের সঙ্গে মিলে সে তৈরি করে নিখুঁত পরিকল্পনা। নিজের কণ্ঠস্বর আগেই রেকর্ড করে রাখে বিজয়। পরে সেই রেকর্ডিং এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে মনে হয় ২৩ জুলাই সে বাড়িতেই ছিল।

অর্থাৎ আদালতে যে কথোপকথন শোনানো হয়, সেটি বাস্তবে সেই দিনের বিজয়ের উপস্থিতির প্রমাণ নয়। বিজয় তখন অন্য জায়গায় ছিল এবং নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছিল।

তাহলে পিন্টোর কঙ্কাল এল কোথা থেকে?

এখানেও রয়েছে বিজয়ের আরেক চাল। পিন্টোর কবর থেকে যে কঙ্কাল উদ্ধার হয়, সেটি আসলে আসল পিন্টোর কঙ্কাল নয়।

ডিএনএ প্রমাণ থেকেই জানা যায়, পিন্টোর আসল কঙ্কাল এখনও এভিডেন্স রুমে রয়েছে। আর সেই কঙ্কালই বিজয় ব্যবহার করেছিল সমীরের দেহের পরিবর্তে।

তাহলে পিন্টোর কবর থেকে পাওয়া কঙ্কালটি এল কোথা থেকে? বিজয় নিজের পরিচিতদের সাহায্যে পিন্টোর কঙ্কালের মতো দেখতে আরেকটি কঙ্কাল তৈরি করায়। এমনকী তার জন্য একটি পুরনো কফিনও জোগাড় করা হয়।

এভাবেই পুলিশকে ফের ভুল পথে চালিত করার ব্যবস্থা করে বিজয়।

তবে বিজয় ঠিক কীভাবে গোটা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেছিল এবং সমীরের আসল দেহের কী হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে হলে দেখতে হবে ‘দৃশ্যম: দ্য ফাইনাল কনক্লুশন’। ছবির শেষ অংশেই রয়েছে এই রহস্যের আসল সমাধান।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More