Gaurav Khanna: ‘গৌরব বাচ্চা চায়, আমি ওকে দিতে পারব না, মা হতে চাই না’, ডিভোর্সে নিয়ে চাঁচাছোলা আকাঙ্ক্ষা!
‘৯৯% মানুষ সন্তান নেওয়ার জন্যই বিয়ে করে, গৌরব ভুল নয়’— অকপট আকাঙ্ক্ষা। বরের দাবি যুক্তিসঙ্গত মানলেও মা হতে রাজি নন আকাঙ্ক্ষা। নিজের স্বাধীনতাকেই গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
টেলিভিশন দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা গৌরব খান্না। বিগ বস জয়ের পর চর্চায় থেকেছেন অনুপমা খ্যাত গৌরব। অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোলা (Akanksha Chamola)-র সাথে তাঁর সাজানো সংসার যে এভাবে ভেঙে যাবে, তা হয়তো কেউই কল্পনা করতে পারেননি। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের বিতর্কিত রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’ (Lock Upp 2)-এর প্রিমিয়ারে এসে আকাঙ্ক্ষা যখন ঘোষণা করেন যে তিনি গৌরবের থেকে ডিভোর্স (Divorce) নিচ্ছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্তব্ধ হয়ে যান ওঁর অনুরাগীরা। ২০১৬ সালে চার হাত এক হওয়ার পর দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের এই পরিণতি কেন হলো, তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না।

অবশেষে শো-এর তৃতীয় পর্বে সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা এবং সুফি মোতিওয়ালার সামনে নিজের বিচ্ছেদের আসল কারণটি মেলে ধরলেন আকাঙ্ক্ষা।
‘আমি মাতৃত্বের জন্য তৈরি নই’— আকাঙ্ক্ষা চামোলা
সংসার এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গৌরবের সাথে তাঁর কোথায় মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা খোলসা করে আকাঙ্ক্ষা বলেন, ‘যখন আমাদের বিয়ে হয়েছিল, তখন আমার মধ্যে মাতৃত্বের প্রতি কোনওরকম টান ছিল না। তবে আমি ভেবেছিলাম সময়ের সাথে হয়তো তা তৈরি হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি উপলব্ধি করি যে আমি এই সবের জন্য তৈরিই নই। শুরুতে গৌরব এই বিষয়টা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ওঁর সেই ভাবনাটা বদলে যায়।’
আকাঙ্ক্ষা আরও যোগ করেন, ‘গৌরব এখন সন্তান চায়, কিন্তু আমি ওকে সেটা দিতে পারব না। আমার মধ্যে এই অনুভূতিটাই নেই, যা আমি ওকে অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম। যখন আমি নিজে বুঝতে পারি যে বাচ্চার দেখভাল বা ফ্যামিলি বাড়ানোর জন্য আমি তৈরি নই, আমি সরাসরি ওকে বলেছিলাম— যদি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাও, তবে চলে যেতে পারো।’
‘৯৯% মানুষ সন্তান নেওয়ার জন্যই বিয়ে করে, গৌরব ভুল নয়’— অকপট আকাঙ্ক্ষা
বাস্তব সত্যকে মেনে নিয়ে আকাঙ্ক্ষা বলেন যে গৌরব নিজের জায়গায় একদমই ভুল নন। তিনি বলেন:
‘চলুন একটু সৎভাবে ভাবা যাক... ৯৯% মানুষ কেন বিয়ে করে? কারণ তারা সন্তান চায় এবং নিজেদের বংশ বা পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, নইলে কেনই বা কেউ বিয়ে করবে? গৌরব ওঁর জায়গায় ঠিক আছে। এরপর যখন বিগ বস (Bigg Boss)-এ ও গেল, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে ও কতটা তীব্রভাবে বাবা হতে চায়, কিন্তু আমি ওঁর এই ইচ্ছে পূরণ করতে পারছি না। তাই আমি ওকে আর এই পরিস্থিতির মধ্যে ঝুলিয়ে রাখতে চাইনি।’
আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি শুধু নিজে বাচ্চার জন্ম দেওয়াই নয়, এমনকি কোনও সন্তান দত্তক (Adopt) নিতেও রাজি নন। তিনি নিজের জীবনে সম্পূর্ণ ‘চাইল্ড-ফ্রি’ (Child-free) বা সন্তানহীন থাকতে চান।
গৌরবের আত্মত্যাগ এবং বিগ বসের সেই বিতর্ক
বিচ্ছেদের এই খবর নিয়ে গৌরব খন্না এখনও কোনও মন্তব্য করেননি, কারণ তিনি এই মুহূর্তে ‘খাতরোর কি খিলাড়ি ১৫’র শুটিংয়ে ব্যস্ত। তবে গত বছর ‘বিগ বস’-এর ফাইনাল সপ্তাহে এই সন্তান না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল গৌরবকে।
সে সময় মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে গৌরব অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে, তিনি নিজে বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসেন এবং বাবা হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খুব কম পুরুষই আছেন যাঁরা নিজের মনের সুপ্ত ইচ্ছের চেয়ে স্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও ভালো থাকাকে বেশি সম্মান জানান। গৌরব বলেছিলেন, এটি ওঁর কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় এবং তিনি আজীবন স্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ওঁর পাশে থাকবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মতাদর্শের অমিলই তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়াল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


