Alpha Trailer: ‘সীতা এবার লঙ্কা নিজেই জ্বালাবে…’, আলিয়ার হাতে বধ হবে ‘রাবণ’ ববি! আলফায় চমক হৃতিকের ক্যামিও
অবশেষে প্রকাশ্যে আলিয়া ভাটের স্পাই থ্রিলার আলফার ট্রেলার। ‘ওয়ার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মেজর কবির (হৃতিক রোশন) এই ছবির সবচেয়ে বড় চমক। আলিয়া ও শর্বরীকে বাঁচাতে স্পেশাল এন্ট্রি নিচ্ছেন নায়ক।
টিজার মুক্তির পর থেকেই আলিয়া ভাটের (Alia Bhatt) ভক্তরা খুশি হলেও, ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন শর্বরী ওয়াঘ (Sharvari Wagh)-এর অনুগামীরা। অভিযোগ ছিল, ছবির প্রথম প্রোমোতে শর্বরীকে প্রায় দেখাই যায়নি। তবে বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) ছবিটির অফিশিয়াল ট্রেলার আসতেই সেই সমস্ত ক্ষোভ এক লহমায় দূর হয়ে গেল। পরিচালক শিব রাওয়াইল ট্রেলারে শর্বরীকে কেবল যোগ্য সম্মানই দেননি, বরং আলিয়া ও শর্বরীর অ্যাকশন জুটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন।

একই সাথে ট্রেলারে খোলসা হয়েছে ছবির মূল প্লট, যেখানে রামায়ণের এক আধুনিক ও রক্তক্ষয়ী রূপক তুলে ধরা হয়েছে। আর ট্রেলারের একেবারে শেষ দৃশ্যে রয়েছে এমন এক ধামাকা সারপ্রাইজ, যা দেখে থিয়েটারে দর্শকদের চিৎকার করা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
ববির তৈরি ‘খুনী মেশিন’ আলিয়া
ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে একটি কাঁচের ঘেরাটোপে বন্দি এক শিশুকে, যাকে দেখে মূল খলনায়ক ফতেহ (ববি দেওল) ঘোষণা করে— ও এই মেয়ের নাম রাখল ‘সীতা’। এরপরই দেখা যায়, ফতেহ কীভাবে ছোটবেলা থেকে সীতাকে এক নৃশংস, নির্মম ‘কিলিং মেশিন’ বা অ্যাসাসিন হিসেবে গড়ে তুলছে, যে শুধু কমান্ড পেলেই লক্ষ্যবস্তুকে খতম করতে পারে।
ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েসওভারে আলিয়া ভাট (সীতা) ববি দেওলকে এক ‘অসুর’ বা রাক্ষসের সাথে তুলনা করে বলেন, যে এক রাজকন্যাকে হরণ করেছিল। তবে আলিয়া স্পষ্ট করে দেন—'রামায়ণের সীতা রামের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু এই সীতা নিজেকে উদ্ধার করতে এবং ফতেহের তৈরি অপরাধের ‘লঙ্কা’ ধ্বংস করতে নিজের সবটুকু শিক্ষা দিয়ে লড়াই করবে।'
স্পাই ববি বনাম অনিল কাপুরের গাইডেন্সে আলিয়া-শর্বরী
গল্পের মোড় ঘোরে যখন ফতেহ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সে আসলে একজন প্রাক্তন ভারতীয় স্পাই, যে দেশের ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়। ট্রেলারে ববির হুঙ্কার— ‘ইন্ডিয়া নে আলফা কি কদর নেহি কি, অব ইন্ডিয়া আলফা সে ডরেগা!’ (ভারত আলফাকে সম্মান দেয়নি, এবার ভারত আলফাকে ভয় পাবে)।
কিন্তু দেশের ক্ষতি করার এই রাস্তার মাঝখানে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে ফতেহরই নিজের তৈরি সৃষ্টি ‘সীতা’। এই মিশনে আলিয়ার সাথে যোগ দেন দুর্ধর্ষ শর্বরী ওয়াঘ। আর এই দুই লেডি স্পাইকে ব্যাকস্টেজ থেকে গাইড করতে দেখা যায় বর্ষীয়ান অভিনেতা অনিল কাপুরকে।
শেষ দৃশ্যের মহাচমক: এন্ট্রি নিলেন ‘মেজর কবির’!
ট্রেলারের সবচেয়ে বড় মাস্টারস্ট্রোকটি রাখা ছিল একেবারে শেষের জন্য। আলিয়া ও শর্বরীর মিশন যখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে, তখনই তাঁদের সাহায্য করতে স্ক্রিনে এন্ট্রি নেন স্বয়ং হৃতিক রোশন। ‘ওয়ার’ (War) এবং ‘ওয়ার ২’ (War 2)-র সেই আইকনিক চরিত্র ‘মেজর কবির ধালিয়াল’ হিসেবেই এই ছবিতে ক্যামিও করছেন হৃতিক। ট্রেলারে যদিও কেবল হৃতিকের রহস্যময় চোখ দুটোই দেখানো হয়েছে, কিন্তু ওয়াইআরএফ (YRF) স্পাই ইউনিভার্সের ভক্তদের জন্য ‘কবির’-এর এই এক ঝলক উপস্থিতিই সোশ্যাল মিডিয়ায় সুনামি আনার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।
শর্বরীর কম উপস্থিতি বিতর্ক ও আলিয়ার মজার পোস্ট
টিজারে শর্বরীকে না রাখায় ইন্টারনেটে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, ট্রেলার মুক্তির আগে তা মজার ছলে সামাল দেন স্বয়ং আলিয়া ভাট। শর্বরীর সাথে কয়েকটি মিষ্টি ছবি শেয়ার করে আলিয়া আঙুল দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দেন— শর্বরী এই ছবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ট্রেলারে তা প্রমাণিত।
আলফা হ'ল ওয়াইআরএফ স্পাই ইউনিভার্সের নতুন কিস্তি। আলফা ৩রা জুলাই পর্দায় আসতে চলেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


