Subhahsree-Deoshree: ‘নিজের চোখে জল নিজেই মুছেছি!’ বোনে বোনে মুখ দেখাদেখি বন্ধ! দিদির সঙ্গে ঝামেলা শুভশ্রীর?
৪২-এ পা দিলেন শুভশ্রীর দিদি। দু-টো বিয়ে টেকেনি। নতুন প্রেমের চর্চার মাঝেই বোনুর সঙ্গে ঝামেলার জেরে ফের সংবাদ শিরোনামে দেবশ্রী।
টলিউডের ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। একটা সময় দিদি দেবশ্রীর সাথে সর্বত্র দেখা যেত তাঁকে। দুজনের মিষ্টি সম্পর্কের কথা সবারই জানা ছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে স্টুডিও পাড়ার অন্দরে কান পাতলেই দুই বোনের সম্পর্কের সমীকরণ বদলানোর ফিসফাস শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই জল্পনার আগুনে যেন এক বালতি ঘি ঢালল দেবশ্রীর ৪২তম জন্মদিন।

নিজের জন্মদিনে দেবশ্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও শক্তিশালী পোস্ট শেয়ার করেছেন। ওদিকে শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ থাকলেও দিদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাননি শুভশ্রী। ইনস্টাগ্রামে দুজনে দুজনকে বহুদিন আগেই আনফলো করেছেন। এবার জন্মদিনেও এল না বোন শুভশ্রীর তরফ থেকে কোনো শুভেচ্ছা বার্তা।
‘তুমি শক্তিশালী, তুমি সুন্দর’— জন্মদিনে দেবশ্রীর আবেগঘন পোস্ট
নিজের ৪২ বছর বয়সে পা দিয়ে জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর লড়াই ও একাকীত্ব নিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ও মন ছুঁয়ে যাওয়া পোস্ট করেছেন সিঙ্গেল মাদার দেবশ্রী। তিনি লেখেন: 'আজ যখন জীবনের অধ্যায়গুলোর দিকে ফিরে তাকাই, তখন শুধু সংগ্রামগুলোই দেখি না; দেখি সেই বিপুল শক্তি যা এগুলোকে জয় করতে লেগেছিল। একজন সিঙ্গেল মাদার হওয়া মোটেও সহজ জার্নি ছিল না। সন্দেহের দিন ছিল, বিনিদ্র রাত ছিল আর ছিল অন্তহীন লড়াই। কিন্তু আজ ৪২-এ দাঁড়িয়ে আমি যে নারী হয়ে উঠেছি, তার জন্য অত্যন্ত গর্বিত।
আমি প্রতিটা ঝড় সামলেছি, নিজের চোখের জল নিজেই মুছেছি এবং আমার ছোট্ট পৃথিবীর জন্য (ছেলে অনীশের জন্য) একটা সুন্দর, সুখী জীবন গড়ে তুলেছি। আজ আমি উদযাপন করছি আমার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা, আমার হাসি আর আমার উপার্জিত শান্তিকে।
প্রিয় নিজেকে ধন্যবাদ, কখনো হাল না ছাড়ার জন্য। তুমি শক্তিশালী, তুমি সুন্দর এবং সেরা সময়টা এখনও আসতেই বাকি।'
শুভশ্রীর নীরবতা: ফাটলের গুঞ্জনে সিলমোহর?
দেবশ্রীর এই পোস্টটিতে ওঁর কাছের মানুষ ও অনুরাগীরা শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিলেও, টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী তথা দেবশ্রীর নিজের বোন শুভশ্রীর তরফ থেকে কোনো লাইক, কমেন্ট বা শুভেচ্ছা পোস্ট দেখা যায়নি। আর এতেই দুই বোনের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বের তত্ত্বটি আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।
কেন চিড় ধরল দুই বোনের সম্পর্কে?
ঘনিষ্ঠ মহল এবং টলিপাড়ার সূত্র অনুযায়ী, দুই বোনের মধ্যে এই দূরত্ব হঠাৎ তৈরি হয়নি। এর নেপথ্যে মূলত তিনটি কারণ উঠে আসছে। এতদিন দেবশ্রীকে ইন্ডাস্ট্রিতে সকলে শুভশ্রীর দিদি হিসাবে চিনলেও গত কয়েক বছরে সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। বেশকিছু সিরিয়াল ও সিনেমায় অভিনয় করে নজর কেড়েছেন দেবশ্রী।
ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশের দাবি, সন্তানদের লালন-পালন বা সন্তানদের বিষয় কেন্দ্র করে দুই বোনের মধ্যে বেশ কিছু বৈষয়িক ও মানসিক মতানৈক্য তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে সম্পর্কে পাঁচিল তুলেছে।
রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত: অনেকের মতে, দিদি দেবশ্রীর রাজনৈতিক অবস্থানই এই দূরত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বছর কয়েক আগেই নরেন্দ্র মোদীর ভক্ত দেবশ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি (BJP)-তে যোগদান করেছিলেন। রাজ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক পালাবদলের অনেক আগে থেকেই তিনি গেরুয়া শিবিরের সক্রিয় সদস্য। অন্যদিকে, শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তারকা বিধায়ক ছিলেন। ফলে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুর অবস্থানই হয়তো পারিবারিক সম্পর্কে চিড় ধরিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


