'ভারতে নারীদের জন্য আইন পুরুষদের চেয়ে ভালো', কেতন আগরওয়াল কাণ্ডে বার্তা আমাল মালিকের
'ইনস্টাগ্রামের জন্য বিয়ে, না সত্যিকারের সংসার?'— কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের পর এমনই প্রশ্ন তুললেন আমাল মালিক। এক্স-এ করা দীর্ঘ পোস্টে নারীদের নিরাপত্তা, সম্পর্কের প্রত্যাশা এবং আইনের অপব্যবহার নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন গায়ক।
কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন গায়ক-সুরকার আমাল মালিক। নারীদের নিরাপত্তার পক্ষে সওয়াল করার পাশাপাশি তিনি আইনের অপব্যবহার এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতা নিয়েও খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন।

কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন আমাল মালিক
সম্প্রতি কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন গায়ক ও সুরকার আমাল মালিক। তাঁর মতে, ভারতে নারীদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি, তবে সেই আইনকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা কখনওই উচিত নয়।
সাবেক টুইটার ‘এক্স’-এ পোস্ট করা একটি দীর্ঘ বার্তায় আমাল লিঙ্গ-সমতা, সম্পর্কের দায়বদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
‘পুরুষরাও শান্তি চায়’
নিজের পোস্টে আমাল লেখেন, ‘আপনারা কি মনে করেন পুরুষরা শান্তি ছাড়া আর কিছু চায়? যৌনতা তো সর্বত্রই আছে। আপনাদের সবারই একটা লম্বা তালিকা থাকে যে আপনারা কী চান, বিশেষ করে যখন বিয়ে এবং প্রস্তাবের বিষয় আসে।’
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি কি ইনস্টাগ্রামে দেখানোর মতো একটা বিয়ে চান, নাকি সত্যিকারের দাম্পত্য জীবন? লোনাভালায় মধুচন্দ্রিমা কাটানো কি যথেষ্ট নয়? নাকি মনে হয়, সত্যিই ভালোবাসলে বিদেশেই নিয়ে যেতে হবে? আমরা সবাই ভালো জীবন চাই, কিন্তু মালদ্বীপে গেলেই কি ভালোবাসা বদলে যায়?’
কেতনকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য
কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু প্রসঙ্গে আমাল লেখেন, ‘এই মানুষটার সঙ্গে এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। তাঁর হাসি আর চোখের দিকে তাকান। বিয়ে করে তিনি কতটা খুশি ছিলেন, সেটাই স্পষ্ট। কেতনকে খুব নিষ্পাপ ও স্নেহময় মানুষ বলে মনে হতো।’
আরও একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তাকে হত্যা করার জন্য যে পরিমাণ পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। এর সামান্য অংশই যথেষ্ট ছিল 'না' বলার জন্য। যদি অন্য কাউকে ভালোবাসতেন, তাহলে সেটাই জানিয়ে দেওয়া যেত।’
নারীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা
আমাল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘প্রিয় নারীগণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুরুষদের জন্য আপনাদের অনেক অন্যায় সহ্য করতে হয়েছে। তার জন্য আমি দুঃখিত এবং সেই ক্ষোভ আমি বুঝি। নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই জরুরি, কিন্তু সেই লড়াইটা শুধু তাদের বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত, যারা আপনাদের দমিয়ে রাখতে চায়, নিজেদের সম্পত্তি মনে করে কিংবা কী পরবেন, কীভাবে থাকবেন তা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।’
‘বিষাক্ত সম্পর্কের দায় দুই পক্ষেরই’
পোস্টের শেষে আমাল বলেন, ‘সবকিছুকে বিষাক্ত বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং নিজের দায় এড়িয়ে যাওয়ার ফলে আমরা প্রকৃত সমস্যাগুলো দেখতে পাই না। শারীরিক নির্যাতন যেমন বিষাক্ত, তেমনই অর্থের পেছনে ছোটা, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য বিয়ে করা কিংবা কোনও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ না থাকা সত্ত্বেও একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেওয়াও সমানভাবে বিষাক্ত।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


