রাজেশ খান্নার এক ফ্লপে পথে বসেছিল পরিবার! বাবার চোখের জল দেখে নায়ক হওয়ার শপথ নেন এই তারকা

প্রযোজক বাবার চোখের জল মুছতে হিরো হওয়ার শপথ নিয়েছিলেন তিনি। চার দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে দিয়েছেন অজস্ত্র হিট ছবি। কে এই নায়ক?

Published on: May 2, 2026, 07:30:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আজ অনিল কাপুর মানেই ‘ঝাকাস’ এনার্জি আর চিরযৌবন। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। এক সময় সুপারস্টার রাজেশ খান্নার একটি ছবি ফ্লপ হওয়ায় কার্যত পথে বসেছিল কাপুর পরিবার। সেই চরম অসহায়তা আর বাবার অপমানের বদলা নিতেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্ট্রাগল শুরু করেছিলেন অনিল।

রাজেশ খান্নার এক ফ্লপে পথে বসেছিল পরিবার! বাবার চোখের জল দেখে নায়ক হওয়ার শপথ নেন এই তারকা
রাজেশ খান্নার এক ফ্লপে পথে বসেছিল পরিবার! বাবার চোখের জল দেখে নায়ক হওয়ার শপথ নেন এই তারকা

রাজেশ খান্নার সেই ফ্লপ আর বাবার কান্না:

অনিল কাপুরের বাবা সুরিন্দর কাপুর ছিলেন একজন প্রযোজক। তিনি রাজেশ খান্নাকে নিয়ে একটি বড় বাজেটের ছবি তৈরি করেছিলেন। সবার আশা ছিল ছবিটি ব্লকবাস্টার হবে, কিন্তু বাস্তবে তা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ছবি পিটতেই বদলে যায় মানুষের রঙ। অনিল জানান, ‘বাবা যখন ছবির কাজে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন, তখন এয়ারপোর্টে তাঁকে কেউ নিতে পর্যন্ত আসেনি। বাড়ি ফিরে বাবার চোখে জল ছিল না ঠিকই, কিন্তু চোখের কোণটা চিকচিক করছিল। সেই দৃশ্য আমি ভুলতে পারিনি।’

ইন্ডাস্ট্রির প্রিয় রাঁধুনি ছিলেন মা:

অভাবের দিনগুলোতেও কাপুর পরিবারের আতিথেয়তায় খামতি ছিল না। অনিল স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘চেম্বুরে আরকে স্টুডিওর পাশেই আমরা থাকতাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমার মা লেজেন্ডারি রাঁধুনি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কোনো শ্যুটিং চললে আমাদের বাড়ি থেকেই খাবার যেত। বিয়ের সমস্যা হোক বা বাচ্চা হওয়ার পরামর্শ— সবাই মায়ের কাছে ছুটে আসতেন।’

বাবার জেদ ও অনিলের লড়াই:

প্রযোজকের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও অনিলের জন্য লঞ্চিংয়ের মঞ্চ সাজানো ছিল না। সুরিন্দর কাপুর পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, ‘অভিনেতা হতে চাও হও, কিন্তু আমি তোমার জন্য ছবি বানাব না। কাজ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।’ এরপরই বাবার হার্ট অ্যাটাক এবং শারীরিক অসুস্থতা অনিলকে মানসিকভাবে বদলে দেয়। অনিল বুঝতে পারেন, বাবার অসম্মান ঘোচাতে হলে তাঁকে বড় অভিনেতা হতেই হবে।

শূন্য থেকে শিখর:

১৮-১৯ বছর বয়সেই কাজের সন্ধানে টো টো করে ঘুরেছেন অনিল। বাবার অসুস্থতার দিনে যখন কোনো বড় হিরো তাঁদের ছবিতে কাজ করতে রাজি হচ্ছিল না, তখন অনিল মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন, ‘আমাকে হিরো হতেই হবে।’ শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। পরবর্তীকালে বাবার প্রযোজনায় ‘লোফার’, ‘জুদাউ’, ‘পুকার’-এর মতো একাধিক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More