সময় রায়নার ‘নাল্লা’ মন্তব্যে অপমানিত? এল অর্চনা পুরন সিংয়ের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এ অর্চনা পুরন সিংয়ের স্বামী ও দুই ছেলেকে ‘নল্লে’ বলে রসিকতা করেছিলেন সময় রায়না। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় বিতর্ক। এবার সেই মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন অর্চনা ও তাঁর ছেলে আর্যমান। জানালেন, তাঁরা বিষয়টি অপমান হিসেবে নেননি।
‘দ্য কপিল শর্মা শো’-এর বিচারকের আসনে দেখা যায় অভিনেত্রী অর্চনা পূরণ সিংকে। সম্প্রতি স্বামী পরমিত শেট্টি এবং দুই ছেলে আর্যমান ও আয়ুশ্মানকে নিয়ে সময় রায়নার জনপ্রিয় শো ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এ হাজির হয়েছিলেন অর্চনা। সেখানে অর্চনা ও সময়কে নিজেদের মধ্যে খুনসুটিও করতে দেখা যায়।

শো চলাকালীন অর্চনার স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে রসিকতা করে তাঁদের ‘নাল্লা’ অর্থাৎ অকর্মণ্য বলে মন্তব্য করেন সময় রায়না। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের সমালোচনার মুখে পড়েন সময়। তবে এবার সেই মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছে অর্চনার পরিবার। জানানো হয়েছে, তাঁরা বিষয়টিকে মোটেই অপমান হিসেবে নেননি, বরং পুরো ঘটনাটিকে নিছক মজা হিসেবেই দেখেছেন।
সময়ের মন্তব্য নিয়ে কী বলল অর্চনার পরিবার?
অর্চনা পূরণ সিংয়ের ছেলে আর্যমান শেট্টি তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘আর্য ভ্লগস’-এ একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন। সেখানেই সময় রায়নার মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তাঁরা। ভিডিয়োতে অর্চনা, আর্যমান এবং পরমীত শেট্টিকে একসঙ্গে দেখা যায়।
আর্যমান জানান, তাঁরা সময়ের করা মজাগুলিকে যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, ঠিক সেইভাবেই নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগতভাবে সময়ের মন্তব্যে তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউই আহত হননি।
‘এটা একটা মজা, আর তাতে কোনও সমস্যা নেই’
আর্যমান বলেন, সাধারণত এই ধরনের বিতর্ক নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন না। কিন্তু এবার তাঁর মনে হয়েছে বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। বলেন, সময়ের সেই রসিকতাও তাঁর কাছে যথেষ্ট মজার ছিল। কারণ, তাঁরা যখন বাড়িতে থেকে ভ্লগ তৈরি করেন, তখন এমন নানা মুহূর্ত স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।
আর্যমান আরও বলেন, ‘প্রথমেই পরিষ্কার করে দিই, এটা একটা মজা এবং এতে কোনও সমস্যা নেই। আমাকে বা আমার পরিবারের কাউকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য সময়ের ছিল না।’
অর্চনার দুই ছেলেকে ‘নাল্লা’ বলেছিলেন সময়
প্রসঙ্গত, ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এ অর্চনার পরিবারকে নিয়ে মজা করতে গিয়ে সময় রায়না বলেছিলেন, অর্চনার ভ্লগে তিনি দেখেছেন যে তাঁর স্বামী কোনও কাজ করেন না এবং তাঁর দুই ছেলেও নাকি ‘নাল্লা’। সেই সময় অর্চনার দুই ছেলে দর্শকাসনে প্রথম সারিতে বসেছিলেন।
সময় রায়নার এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাঁর সমালোচনা শুরু করেন। কেউ কেউ দাবি করেন, অর্চনা ও তাঁর পরিবারের অপমান করা হয়েছে।
‘ও আমাদের ছোট করার চেষ্টা করেনি’
তবে সেই দাবি মানতে নারাজ অর্চনা ও তাঁর ছেলে। আর্যমান জানান, সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ভালো এবং তাঁদের ছোট করা বা আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্যই সময়ের ছিল না।
অর্চনাও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, অনেকে মনে করতে পারেন যে একটা সীমা পেরিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু যে ব্যক্তিকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে এবং যে ব্যক্তি মজা করছেন—দু’জনেরই যদি কোনও সমস্যা না থাকে, তাহলে অন্যদের এতটা ক্ষুব্ধ হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’ আর্যমানের মতে, বর্তমানে কমেডি নিয়ে দর্শকদের একটা অংশ খুব বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়েছেন।
‘আমি জানতাম, ওটা কী ধরনের শো’
অর্চনা আরও জানান, ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এ যাওয়ার আগে তিনি ভালোভাবেই জানতেন অনুষ্ঠানটি কী ধরনের। তাই সেখানে হওয়া কথাবার্তাকে তিনি কখনওই গায়ে মাখেননি।
অর্চনা বলেন, ‘যাঁদের আমাদের জন্য খারাপ লাগছে, তাঁদের বলব, দয়া করে এমনটা করবেন না। আমি জানতাম, আমি কোন ধরনের শো-তে যাচ্ছি। এটা সিরিয়াসলি নেওয়ার মতো অনুষ্ঠানই নয়, শুধুই হাসি-মজার জন্য।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার একটুও খারাপ লাগেনি। অনেকে বলছেন, আমার পরিবারের অপমান হয়েছে। কিন্তু অপমান তখনই বলা যেত, যদি সত্যিই কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্য থাকত। সময় শুধু সকলকে হাসানোর জন্য একটা মুহূর্ত তৈরি করতে চেয়েছিল। আমার কাছে সেই পাঞ্চের উদ্দেশ্য সেটাই ছিল। ল্যাটেন্ট-এ যাওয়ার জন্য আমার কোনও আফশোস নেই।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


