‘এই বাঙালি বিরোধী সরকারি নির্দেশকে অস্বীকার করতে হবে', বাগেশ্বর বাবা-কাণ্ডে শুভেন্দু সরকারকে তোপ অরিত্রর
‘অসভ্যতা শুরু করেছে সরকার ও প্রশাসন, যে সরকার জাতি হিসেবে আমার ভাবাবেগ ও জাত্যাভিমানে আঘাত করে সেই সরকারের কোনো আইন ও প্রশাসনিক অর্ডারকে একজন নাগরিক হিসেবে আমি মানি না’, কড়া অবস্থান অরিত্রর। ধেয়ে এল কটাক্ষ।
দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় এসে বাগেশ্বর ধাম সরকারের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার একটি বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাঙালির প্রথাগত খাদ্যাভ্যাস ও দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যে বাঙালি অস্মিতা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এই মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে এবার সুর চড়ালেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অরিত্র দত্ত বণিক এক বিস্ফোরক পোস্ট শেয়ার করেন। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস, ঐতিহ্য এবং পুজো-আচারের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি সরকারি ও প্রশাসনিক নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিত্রের কড়া বার্তা:
পোস্টে নিজের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়ে অরিত্র লিখেছেন: ‘বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও পুজো আচার নিয়ে আমাদের ধর্মে আঘাত করে পাখণ্ডী বলা ভণ্ড বাগেশ্বরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, ওনার ছবি পোড়ানোয় কলকাতা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড় শুরু করেছে, বাংলায় দাঁড়িয়ে এই বাঙালি বিরোধী সরকারি নির্দেশকে অস্বীকার করতে হবে। অসভ্যতা শুরু করেছে সরকার ও প্রশাসন, যে সরকার জাতি হিসেবে আমার ভাবাবেগ ও জাত্যাভিমানে আঘাত করে সেই সরকারের কোনো আইন ও প্রশাসনিক অর্ডারকে একজন নাগরিক হিসেবে আমি মানি না।’
তীব্র ট্রোল ও নেটপাড়ার প্রতিক্রিয়া:
তবে এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ার বড় একটি অংশের রোষের মুখে পড়েছেন অভিনেতা। কমেন্ট সেকশনে তাঁর ওপর ধেয়ে এসেছে একের পর এক কটাক্ষ ও ট্রোল।
‘চটিচাটা’ ও ‘মাকু’ বলে আক্রমণ: বামপন্থী বা প্রগতিশীল মানসিকতার পোস্ট করায় নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘মাকু’ (বামপন্থী সমর্থক) বলে বিদ্রুপ করছেন। আবার একইসঙ্গে অনেকে তাঁকে ‘চটিচাটা’ (মমতার-সমর্থক) বলেও ট্রোল করেছে।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ: বাগেশ্বর বাবার ভক্ত ও সমর্থকরা অরিত্রর পোস্টকে ‘হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান’ বলে ব্যাখ্যা করে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
ঠিক কী বলেছিলেন বাগেশ্বর বাবা?
মমতা সরকারে আমলে বাংলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা পেয়েছিলেন, কিন্তু শুভেন্দু সরকারের সময়ে বাগেশ্বর বাবা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে সাড়ম্বরে ধর্মীয়সভা করলেন। সেখানেই তিনি বলেন, 'যাঁরা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা পাষণ্ড। পুজো প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা খাবার খাওয়া হয়। সেগুলি হওয়া উচিত নয়। আমি আশা করব, এবার হিন্দু বাঙালি জাগবে এবং পুজোর সময়ে আর ননভেজ (মাছ-মাংস-ডিম) খাবে না।'
বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে বহিরাগত সংস্কৃতির চাপিয়ে দেওয়া বনাম ঐতিহ্য—এই দুই মেরুর লড়াইয়ে অরিত্রের এই স্পষ্টবাদী ও চরম প্রতিবাদী পোস্ট এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


