রবীন্দ্রসদনে একনায়কতন্ত্র! 'মমতার গান গাইতে শ্রীরাধাকে বাধ্য করেছেন ইন্দ্রনীল', তোচনের অভিযোগের জবাব গায়িকার
কাটমানি-তোলাবাজির অভিযোগের পর ফের বিতর্কে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা গান জোর করে শিল্পীদের দিয়ে গাওয়ানোর অভিযোগ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে।
গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটমানি তোপের পর এবার তৃণমূলের গায়ক-নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন কলকাতার জনপ্রিয় ইভেন্ট ম্যানেজার তোচন ঘোষ। টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তোচনবাবুর দাবি, রবীন্দ্রসদনের যাবতীয় অনুষ্ঠান কার ইশারায় চলবে, তা ঠিক করতেন খোদ ইন্দ্রনীল। শুধু তাই নয়, সংস্কৃতি উৎসবের মঞ্চে অন্য শিল্পীদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ও ইন্দ্রনীলের সুরে গান গাইতে চরম চাপ দেওয়া হতো বলেও তোপ দেগেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই মর্মে গড়িয়াহাট থানায় ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তোচন ঘোষ।

রবীন্দ্রসদনের বাইরে চেয়ার পেতে নিয়ন্ত্রণ!
ইন্দ্রনীল সেন তৎকালীন সরকারের ডানহাত ছিলেন বলে দাবি করে তোচন ঘোষ জানান, রবীন্দ্রসদনে অনুষ্ঠান করার জন্য তিনি নিজের কোম্পানি ভয়েজ অফ ভিশন-এর পক্ষ থেকে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় রবীন্দ্রসদন পুরোটা কন্ট্রোল করতেন ইন্দ্রনীল। তোচনবাবুর অভিযোগ, প্রতিদিন বেলা তিনটে-চারটের পর নিজের অনুগামীদের নিয়ে রবীন্দ্রসদনের বাইরে চেয়ার পেতে বসে থাকতেন ইন্দ্রনীল সেন। কে হল পাবে আর কে পাবে না, পুরো বিষয়টাই ওঁর আঙুলের ইশারায় চলত। ইন্দ্রনীলের কাছের মানুষ ছাড়া অন্য কোনো ভালো শিল্পী সেখানে সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগই পেতেন না। বছরের পর বছর ধরে এই স্বজনপোষণ ও অন্যায় চলেছে বলে ক্ষোভ উগরে দেন এই ইভেন্ট ম্যানেজার।
শ্রীরাধাকে জোর করে গান গাওয়ানো হয়েছিল?
সবচেয়ে বড় বোমাটি তোচন ঘোষ ফাটিয়েছেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে। তোচনবাবুর দাবি, তিনি নিজে শ্রীরাধাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন যে এত বড় মাপের ক্লাসিক্যাল শিল্পী হয়েও কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এবং ইন্দ্রনীলের সুরে গান গাইলেন? তোচনবাবুর কথায়, শ্রীরাধা নাকি তাঁকে ফোনে স্বীকার করেছেন যে ওঁর ওপর প্রচণ্ড প্রেশার তৈরি করা হয়েছিল। জোর করেই নাকি ইন্দ্রনীল সেন তাঁকে দিয়ে ওই গান গাইয়েছিলেন। তোচনবাবুর মতে, শুধু শ্রীরাধা নন, ইন্ডাস্ট্রির বহু নামী শিল্পীর মনেই ইন্দ্রনীলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমে রয়েছে, যা এবার একে একে বাইরে আসবে।
অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা জবাব শ্রীরাধার
তোচন ঘোষের এই বিস্ফোরক দাবির পর তোলপাড় শুরু হতেই অবশ্য মুখ খুলেছেন খোদ শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়। তোচনবাবুর এই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে গায়িকা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, তোচনদা হঠাৎ এটা কেন করছেন বা এর পেছনে ওঁর স্বার্থটা কী, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।
স্বজনপোষণের অভিযোগ উড়িয়ে শ্রীরাধা সাফ জানান, তিনি গত ৪০ বছর ধরে গান করছেন। দল বা রাজনৈতিক রং দেখে তিনি কোনোদিন গান করেননি। বাম আমল থেকে শুরু করে সব সরকারের সময়েই তিনি মঞ্চ মাতিয়েছেন। শ্রীরাধার বক্তব্য, যাঁরা তাঁকে গান গাইতে ডাকেন, তাঁরা ওঁর যোগ্যতা এবং সাধনা দেখেই ডাকেন। নতুনদের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। কে কী প্রশ্ন তুলছেন, তা তাঁদের নিজেদের দায়িত্বে তুলছেন, এই বিষয়ে ওঁর আর নতুন কিছু বলার নেই। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রিন রুম সিন্ডিকেটের পর তোচন ঘোষের এই থানা-পুলিশ এবং মমতার গান গাওয়ানোর এই নতুন বিতর্ক টলিপাড়ার রাজনীতিকে যে আরও গরম করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


