আসিনের মেয়ে ৯ বছর বয়সেই জানে ১২টি ভাষা! মোবাইল নয়, শুধু বই, সন্তানকে মানুষ করার সবটুকু কৃতিত্ব বউকেই দিলেন রাহুল
একসময় দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অসিন। আমির খানের বিপরীতে ‘গজনি’ ছবিতে বলিউডে পা রাখার পরও কেরিয়ারের মধ্যগগনে অভিনয় ছেড়ে দেন। ২০১৬ সালে মাইক্রোম্যাক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মাকে বিয়ে করে সংসারে মন দেন তিনি।
একসময় দক্ষিণী ছবির পর্দায় দাপিয়ে অভিনয় করেছেন অসিন থোট্টুমকাল। তামিল ও তেলুগু ছবিতে একের পর এক সাফল্যের পর আমির খানের বিপরীতে ‘গজনি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডেও নিজের জায়গা করে নেন অভিনেত্রী। তবে কেরিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৬ সালে মাইক্রোম্যাক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মার সঙ্গে বিয়ের পর থেকে অভিনয় জগৎ থেকে দূরেই রয়েছেন অসিন। এবার তাঁর জন্মদিনে স্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন কথা বললেন রাহুল।

জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা অসিন!
২৬ অক্টোবর ৪১ বছরে পা দিয়েছেন অসিন। অভিনেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর স্বামী রাহুলের পুরনো একটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মাইগভ ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথোপকথনে রাহুল জানিয়েছিলেন, অসিনকে বিয়ে করা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।
রাহুলের কথায়, জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও অসিন তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগান। কোনও সমস্যা তৈরি হলে স্ত্রীই তাঁকে দুশ্চিন্তা না করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর কাজের প্রতি ভালোবাসা ও স্বপ্নকে বোঝেন অসিন। রাহুলের বিশ্বাস, জীবনে এমন একজন সঙ্গী থাকলে অনেক কঠিন পথও সহজ হয়ে যায়।
স্ত্রীর ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাহুল আরও বলেন, জীবনসঙ্গীর কাজ হওয়া উচিত পাশে থেকে উৎসাহ দেওয়া, পিছিয়ে টেনে ধরা নয়। অসিন তাঁর জীবনে ঠিক সেই মানুষ, যিনি প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন। তাঁর অবদান কতটা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও জানিয়েছেন রাহুল।
মেয়েকে বড় করছেন অন্যভাবে, নেই টিভি বা মোবাইলের অভ্যাস!
রাহুল ও অসিনের মেয়ে আরিন রায়ন শর্মার জন্ম ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে। মেয়ের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার ধরন নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন রাহুল। তাঁর দাবি, আরিনের বয়স যখন সাত ছিল, তখনই সে প্রায় ১২টি ভাষা বুঝতে ও বলতে পারত বলে তিনি জানিয়েছিলেন। সেই তালিকায় রয়েছে কোরিয়ান, জাপানি, থাই ও চিনা ভাষাও। অথচ নিজের পক্ষে দু'টি ভাষার বেশি সাবলীলভাবে বলা কঠিন বলে মজা করেছেন রাহুল।
মেয়ের প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে স্ত্রীর অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব সামলানো থেকে শুরু করে সন্তানকে বড় করে তোলা—সব ক্ষেত্রেই অসিনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন রাহুল। তাঁর মতে, বাইরের জগতের ব্যস্ততার পাশাপাশি বাড়ির দায়িত্বও সামলাতে হয়। তাঁদের সংসারে সেই দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন অসিন।
বাড়িতে নেই টিভি, মোবাইল! বই পড়েই সময় কাটায় আরিন
সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে অসিন ও রাহুলের নিয়মও বেশ আলাদা। রাহুল জানিয়েছেন, মেয়েকে এখনও পর্যন্ত টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিন টাইম দেওয়া হয়নি। তাঁদের বাড়িতে বইয়ের সংখ্যা এতটাই বেশি যে আরিনের স্কুলের বইয়ের সংগ্রহকেও তা ছাপিয়ে যেতে পারে।
আরিন বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু তার জন্য অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইও বাড়িতে মজুত করে রেখেছেন তাঁরা। মজা করে রাহুল বলেন, মেয়েকে এখনই দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বসিয়ে দিলেও যেন খুব একটা ক্ষতি নেই! অবশ্য এই বইপড়ার অভ্যাস এবং পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করার পিছনে অসিনের অবদানকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।
শেষবার কোন ছবিতে দেখা গিয়েছিল অসিনকে?
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অল ইজ ওয়েল’ ছবিতে শেষবার বড়পর্দায় দেখা গিয়েছিল অসিনকে। ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন অভিষেক বচ্চন, ঋষি কাপুর ও সুপ্রিয়া পাঠক। এরপর বিয়ের পর থেকে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন অভিনেত্রী। আপাতত স্বামী ও মেয়েকে নিয়েই তাঁর সংসার।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


