‘গণতন্ত্রের পক্ষে শকিং!’ ইস্তফায় অনীহা মমতার, নজিরবিহীন আক্রমণ রামগোপাল বর্মার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যোগ হলো এক নতুন নাটকীয় মোড়। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে রীতিমতো স্তম্ভিত বলিউড পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা (RGV)।
২০২৬-এর মে মাস। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী। নির্বাচনে হারের পরে সাধারণত নৈতিক দায়ভার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তেমনটা না ঘটায় অবাক হয়েছেন অনেকেই। আর এই তালিকায় এবার নাম লেখালেন পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা।

আরজিভি-র বিস্ফোরক মন্তব্য:
নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাম গোপাল ভার্মা জানান, পরাজয়ের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ার না ছাড়ার এই জেদ তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি মনে করেন, এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ধাক্কা। পরিচালক আকারে-ইঙ্গিতে বোঝাতে চেয়েছেন যে, জনগণের রায় স্পষ্ট হওয়ার পরেও ক্ষমতার আঁকড়ে থাকাটা কাম্য নয়।
বিজেপি বনাম তৃণমূল সংঘাত:
রাজ্যে বিজেপির উত্থান এবং তৃণমূলের এই ফলাফল নিয়ে দিল্লির রাজনীতিতেও কম্পন শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবির যখন মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে সরার দাবি জানাচ্ছে, তখন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আরজিভি-র মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়:
রাম গোপাল ভার্মার এই পোস্টের নিচে নেটিজেনদের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, ‘আরজিভি একদম সঠিক কথা বলেছেন, এটা ক্ষমতার লোভ ছাড়া আর কিছু নয়।’ আবার কেউ মমতার সমর্থনে বলছেন, ‘পরিচালকের উচিত নিজের সিনেমার দিকে মন দেওয়া, বাংলার রাজনীতি বাঙালিরা বুঝে নেবে।’
প্রেক্ষাপট ২০২৬:
২০২১-এর বিপুল জয়ের পর ২০২৬-এর এই নির্বাচনে তৃণমূলের পিছু হটা এবং তার পরবর্তী সাংবিধানিক সংকট এখন জাতীয় স্তরের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাম গোপাল ভার্মা, যিনি রাজনীতি ও ক্ষমতার লড়াই নিয়ে ‘সরকার’-এর মতো ছবি তৈরি করেছেন, তাঁর কাছে বাস্তব জীবনের এই ‘পাওয়ার গেম’ সিনেমাকেও হার মানাচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


