সোনাম ওয়াংচুককে নিয়ে চুপ আমির, একদিনের প্রতীকি অনশনে ‘রং দে বসন্তী’ অভিনেতা অতুল!
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতেই একদিনের অনশন পালন করছেন বিশিষ্ট অভিনেতা অতুল কুলকার্নি।
পরিবেশকর্মী এবং শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-এর সমর্থনে এবার এগিয়ে এলেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা অতুল কুলকার্নি (Atul Kulkarni)। ‘রং দে বাসন্তী’ খ্যাত এই অভিনেতা নিজের সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই নিজের বাড়িতেই একদিনের জন্য প্রতীকী অনশন পালন করবেন তিনি।

এর মাধ্যমে অভিনেতা যেমন সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন, তেমনই সরকারের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে তারা অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসে এই অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করে।
কেন এই অনশনের সিদ্ধান্ত? অতুলের ব্যাখ্যা
ভিডিও বার্তায় অতুল কুলকার্নি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ওঁর এই একদিনের অনশন পালনের পেছনে মূলত দুটি অত্যন্ত সহজ ও মানবিক কারণ রয়েছে।
প্রথমত, আন্দোলনকারীদের কষ্টের ভাগ নেওয়া: অতুল জানান যে, সোনম ওয়াংচুক এবং তাঁর সহযোগীরা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং যে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করছেন, তিনি দূর থেকে হলেও সেই কষ্টের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে চান।
দ্বিতীয়ত, সরকারের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আর্জি: তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে তারা এই বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করে এবং আলোচনার দরজা খুলে দেয়।
ভিডিও বার্তায় ঠিক কী বললেন অভিনেতা?
হিন্দি ভাষায় দেওয়া নিজের ভিডিও বার্তায় অতুল কুলকার্নি বলেন, ‘নমস্কার, আমি অতুল কুলকার্নি। আগামীকাল (আজ) ১৬ জুলাই আমি আমার নিজের বাড়ি থেকেই একদিনের অনশন করছি। এই অনশনের দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সোনমজি এবং ওঁর সঙ্গীরা যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, আমি সেই কষ্টের অংশীদার হতে চাই। আর দ্বিতীয়ত, আমি আমাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করতে চাই যেন তারা তাদের সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সোনমজি ও ওঁর সহযোগীদের মনে হয়েছে যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক কিছু পরিস্থিতির কারণেই তাঁরা এই দাবিগুলো তুলছেন। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে আমাদের সরকার হয়তো সেই কারণগুলোর সাথে একমত নয় এবং তারা মনে করছে এই দাবিগুলো যুক্তিযুক্ত নয়।’
অতুল মনে করেন, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু সমাধান সূত্র একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব, জেদ ধরে বসে থেকে নয়। পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-এর আমরণ অনশন আন্দোলন অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে পদার্পণ করেছে। NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছেন তিনি। আজ তাঁর এই আন্দোলনের ১৯তম দিন। হিন্দি সিনেমা ‘৩ ইডিয়টস’ (3 Idiots)-এর আমির খানের চরিত্রের অনুপ্রেরণা সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
একটানা ১৯ দিন খাদ্য গ্রহণ না করায় ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গেছে। তিনি অত্যন্ত দুর্বল বোধ করছেন এবং তাঁর শরীরে পেশীর ক্ষয় শুরু হয়েছে।
মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণ ও আইনি পদক্ষেপ: বর্তমানে চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার কড়া নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। তাঁর ইসিজি (ECG) রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও উদ্বেগ কমছে না। এদিকে সোনাম ওয়াংচুকের জরুরি চিকিৎসার হস্তক্ষেপ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব তলব করেছে।
অনশন প্রত্যাহারের সমস্ত অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে সোনম নিজের সিদ্ধান্তে অনড় আছেন। উল্টে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে তিনি তাঁর সমর্থকদের এক শান্তিপূর্ণ ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad) মার্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


