West Bengal Election 2026: 'পলিটিক্যাল ব়্যালি না মাচা..' ভোট প্রচারে কত লাখ নেন তারকারা? রেট চার্ট ফাঁস করলেন শুভ্রজিৎ
West Bengal Election 2026: নির্বাচনী প্রচার যে কেবল জনসেবা নয়, বরং বর্তমান সময়ে তা এক বিশাল ‘লাভজনক ব্যবসা’ এবং আকর্ষণীয় ‘কেরিয়ার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই রূঢ় বাস্তব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রের।
নির্বাচন শেষ। অপেক্ষা ৪ঠা মে-র। বাংলার নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। গোটা নির্বাচনী প্রচার জুড়ে বাংলার রাস্তাঘাটে ছিল গ্ল্যামারের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন দলের তারকা প্রার্থী থেকে তারকা প্রচারকরা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন গরমের দাবদাহকে উপেক্ষা করে। কেউ হেলিকপ্টারে চড়ে ঘুরছেন, আবার কাউকে দেখা যাচ্ছে হুডখোলা গাড়িতে হাত নাড়তে। কিন্তু এই ‘জনসেবা’ কি একেবারেই নিঃস্বার্থ? পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রর দাবি শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও। তাঁর মতে, এই প্রচার আসলে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এক ধরনের ‘মাচা’ বা টাকার বিনিময়ে শো।

শুভ্রজিৎ-এর বিস্ফোরক দাবি:
সম্প্রতি শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, যে সব সুপারস্টারদের দেখতে মিছিলে মানুষের ঢল নামছে, অথচ প্রেক্ষাগৃহে তাঁদের ছবি এক সপ্তাহও টেকে না। সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সেই বোমা ফাটিয়েছেন ‘দেবী চৌধুরানী’ পরিচালক শুভ্রজিৎ। তিনি লেখেন, অধিকাংশ তারকাই একেকটি রোড-শোর জন্য ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। আর এই লেনদেন হয় সম্পূর্ণ নগদ বা ক্যাশ-এ। হাতে পুরো টাকা না আসা পর্যন্ত এই সব তারকারা নাকি বাড়ি থেকেই বেরোতে চান না।
শুভ্রজিতের দাবি, এদের অধিকাংশেরই কোনও রাজনৈতিক আদর্শ নেই, এমনকি সাধারণ মানুষের ভালো-মন্দ নিয়েও তাঁরা ভাবেন না।
তালিকায় নজর প্রশাসনের:
কেবল টাকা নেওয়ার তথ্য ফাঁস করেই থামেননি শুভ্রজিৎ। তিনি সরাসরি এক হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনের উচ্চপদে তাঁর অনেক প্রভাবশালী বন্ধু রয়েছেন। তাঁদের মারফত তিনি জানতে পেরেছেন, প্রতিটি র্যালি এবং এই আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। শুভ্রজিতের কথায়, ‘লিস্ট তৈরি হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।’ প্রসঙ্গত, চলতিবার তৃণমূলের হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছে দলের তারকা সাংসদদের। দেব তো গোটা বাংলা চষে বেরিয়েছেন। এছাড়াও সৌমিতৃষা কুণ্ডু, বনি-কৌশানি, শ্রাবন্তীরাও প্রচারে নেমেছিলেন। ইন্দ্রাণী হালদার, সোনামণি সাহা থেকে শুরু করে পরমব্রত চট্টোপাধ্য়ায় পর্যন্ত তৃণমূলের হয়ে প্রচার সেরেছেন। গেরুয়া শিবিরের হয়েও প্রচারে বেশ কিছু তারকা মুখ চোখে পড়েছে।

দলের প্রচারে টাকা নেয় এমপি-রাও?
ভোট প্রচারে কি দলের এমপি রাও টাকা নেন? সুজয়ের পোস্টে এক নেটিজেন জানতে চান শুভ্রজিৎ-এর কাছে। রেট চার্ট ফাঁস করা পরিচালক দাবি করেন, ‘এটা যারা সিজনাল বার্ডস (মরশুমি পাখি) তারা। এমএলএ (MLA), এমপি (MP)-দের কাছে তো আরও বেশি টাকা আসে প্রচার করার জন্য। কোটি কোটি টাকা— ক্যাশ এবং কাইন্ড দুটোর মাধ্যমেই। এবারের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিটি নগদ লেনদেন কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে। হেলিকপ্টারসহ যাতায়াত খরচ, গ্রাউন্ড লেভেলের কর্মীদের খাবার এবং ভাতার খরচ, প্রচারের ভিড় বাড়াতে লোকেদের পেমেন্ট, গ্রাউন্ড এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রমোশন, পিআর (PR) এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের পেমেন্ট— এতে কত কোটি কোটি টাকা যে লাগে! তার ওপর নিজের নামে নমিনেশন এনলিস্ট করানোর জন্য পার্টি ফান্ডে ডোনেশন তো আছেই। সেখানে সবাইকে দিয়েও এমএলএ বা এমপি-দের নিজেদের পকেটে কোটির অঙ্কে লাভ হয়। এটা একটা বড় ব্যবসা এবং অত্যন্ত লাভজনক একটা কেরিয়ার’।
সুজয় প্রসাদের কটাক্ষ:
সুজয় প্রসাদও নিজের পোস্টে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যখন অভিনেতাদের ছবি হলে কেউ দেখতে যায় না, তখন রাজনীতির আঙিনায় তাঁদের দেখতে কেন এই উন্মাদনা? সুজয়ের মতে, এই তারকারা আদতে জনবিচ্ছিন্ন, যাঁর প্রতিফলন ঘটে বক্স অফিসে।
শুভ্রজিৎ মিত্রর এই সরাসরি আক্রমণ টলিপাড়ার তারকা-রাজনীতিবিদদের অস্বস্তিতে ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


