হু হু করে কমছে রেটিং! ‘লহ গৌরাঙ্গ’-র পর এবার টার্গেট ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল?

ভূতের মুখোশ বেশিদিন টেকে না, হুঁশিয়ারি পরিচালক অরিত্রর। কার উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ তাঁর?

Published on: Jan 24, 2026, 11:30:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ঠিক যেন এক মাসের পুরনো স্ক্রিপ্ট! আবারও কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ফেক প্রোফাইল ভূত’। ২৩শে জানুয়ারি ছবি মুক্তি পেতে না পেতেই বড় অভিযোগ পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়। ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেলের নির্দেশক জানান, নির্দিষ্ট কিছু বড় প্রযোজনা সংস্থা বা পরিচালকের ছবি মুক্তি পেলেই যেন ময়দানে নেমে পড়ছে একদল ভাড়াটে ট্রোলার। এবার এই পরিকল্পিত ডিজিটাল আক্রমণের শিকার— সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’।

হু হু করে কমছে রেটিং! ‘লহ গৌরাঙ্গ’-র পর এবার টার্গেট ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল?
হু হু করে কমছে রেটিং! ‘লহ গৌরাঙ্গ’-র পর এবার টার্গেট ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল?

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: মাত্র এক মাস আগেই রানা সরকার প্রযোজিত এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ মুক্তির সময় দেখা গিয়েছিল একই চিত্র। মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘বুক মাই শো’ (BookMyShow)-তে ১/১০ রেটিং দিয়ে ছবিটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় গোটা টলিউড রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, এমনকি লালবাজারের সাইবার সেলেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাস কাটতে না কাটতেই সেই অশুভ শক্তির ছায়া পড়ল ভানুপ্রিয়ার ওপর।

ষড়যন্ত্রের ছক: অভিযোগ উঠছে যে, এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রোডাকশন হাউজ (যাদের নাম টলিউডের অন্দরে কান পাতলে এখন সবার মুখেই শোনা যাচ্ছে) সুপরিকল্পিতভাবে টাকা দিয়ে ‘বট’ এবং ‘ফেক আইডি’ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেগেটিভিটি ছড়াচ্ছে। ছবির গুণমান বিচার করার আগেই ঢালাও নেতিবাচক রেটিং দিয়ে দর্শকদের বিভ্রান্ত করাই এদের মূল লক্ষ্য।

এই নিয়ে এবার সরব হলেন পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়। তিনি ফেসবুকে চাঁচাছোলা আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, 'নেগেটিভ ভোটিং ভূতের হামলা আবার শুরু হয়ে গেছে। শুধু নেগেটিভ ভোটিং ভূত নয়—ট্রোল ভূত, ফেক প্রোফাইল ভূত, বট বাহিনী সব একসঙ্গে নামানো হয়েছে ময়দানে। অদ্ভুত কাকতালীয়ভাবে, কিছু নির্দিষ্ট প্রোডাকশন হাউজ বা পরিচালকের ছবি মুক্তি পেলেই এই ভূতুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়। ঠিক এক মাস আগেই আমরা দেখেছি—শ্রদ্ধেয় রানা সরকার প্রযোজিত, সৃজিত মুখার্জী পরিচালিত “লহ গৌরাঙ্গের নাম রে” মুক্তির পর কীভাবে হুহু করে নামানো হয়েছিল রেটিং। সেই অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল প্রায় গোটা টলিউড, লালবাজার অভিযানও হয়েছিল। এক মাস কাটতে না কাটতেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।

এবার নিশানা—ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল।

মুক্তির দিন থেকেই ভাড়া করা লোক, ফেক আইডি আর বট ব্যবহার করে গড়ে ১০-এ ১ রেটিং দিয়ে বুক মাই শো-তে পরিকল্পিতভাবে ছবি ডোবানোর চেষ্টা চলছে। সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেগেটিভিটি ছড়ানো হচ্ছে। এইসব কীর্তির নেপথ্যে কার হাত রয়েছে, সেটা গোটা টলিউড এতদিনে বুঝে গেছে। আশা করি আপনারাও বুঝতে পারছেন। একটাই কথা—সাবধান। ভূতের মুখোশ বেশিদিন টেকে না।

খুব তাড়াতাড়িই আলোয় আসবে কারা শিল্পের বিরুদ্ধে, কারা পরিশ্রমের বিরুদ্ধে এই নোংরা খেলাটা খেলছে। ভানুপ্রিয়া শুধু ভূতের গল্প নয়—এটা সত্য আর মিথ্যার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে সত্যই শেষ পর্যন্ত জিতবে।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More