প্রাণখোলা হাসি, শপিং মুড অন- রাহুলের মৃত্য়ুর ৩ মাস পার, জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্বেতা! ছন্দে ফিরছেন ভোলে বাবা নায়িকা?
বুধবার ছিল অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রর জন্মদিন। নায়ক রাহুলের মৃত্যুর পর অন্তরালেই ছিলেন ভোলে বাবা নায়িকা। এদিন বন্ধুর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে দেখা মিলল অভিনেত্রীর।
টেলিভিশন অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ তিনটে মাস। সহ-অভিনেতার এই অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তাঁর কাছের মানুষ তথা ‘ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের নায়িকা শ্বেতা মিশ্র (Shweta Mishra)। রাহুলের মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগে পর্যন্ত দুজনে একসঙ্গে শ্যুটিং করছিলেন। একসঙ্গেই জলে পড়েন তাঁরা। শ্বেতাকে সময়মতো উদ্ধার করা গেলেও প্রাণ বাঁচেননি রাহুলের।

এর পর থেকে শ্বেতা নিজেকে পুরোপুরি জনসমক্ষ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন, আসেননি সংবাদমাধ্যমের সামনেও। ওঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে জানানো হয়েছিল, শ্বেতা তীব্র ট্রমার (Trauma) মধ্যে রয়েছেন এবং ওঁর পক্ষে এই গভীর শোক সামলে ওঠা এখনও কঠিন হচ্ছে।
অবশেষে তিন মাস পর নিজের জন্মদিনের বিশেষ দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা মিলল অভিনেত্রীর। ইনস্টাগ্রামের হাত ধরে আরও একবার অনুরাগীরা তাঁদের প্রিয় শ্বেতার হাসিমুখ দেখার সুযোগ পেলেন।
জন্মদিনে দুই বন্ধুর নিখাদ আনন্দের ঝলক
দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে শ্বেতার দেখা মিলল ওঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী প্রিয়াঙ্কা সাহার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে। শ্বেতার জন্মদিনে প্রিয়াঙ্কা তাঁদের দুজনের কাটানো কিছু সেরা মুহূর্তের একটি সুন্দর কোলাজ ভিডিও শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানান। সেই ভিডিওতে দুই বান্ধবীর নিখাদ আনন্দ, খুনসুটি এবং বন্ধুত্বের গভীর রসায়ন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ভিডিওর ক্যাপশনে প্রিয়াঙ্কা অত্যন্ত আবেগঘন ও মিষ্টি ভাষায় লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় অদ্ভুত মানুষ, বাতাসাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা! তুমি সেই বিরল মানুষদের একজন যে মন থেকে ভীষণ দয়ালু, চিন্তাশীল এবং অবিশ্বাস্য রকমের উদার; কিন্তু একই সাথে তোমার মধ্যে চমৎকার রসবোধও আছে, যা তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোকে অনেক বেশি মজাদার করে তোলে। সত্যি বলতে, তোমার এই যত্নশীল স্বভাবটা সবসময় আমার ভেতরের সবচেয়ে সেরা রূপটাকে বাইরে নিয়ে আসে— অন্তত যখন আমরা দুজনে একা থাকি তখন তো বটেই। ছোট ছোট জিনিসগুলো সবসময় মনে রাখার জন্য এবং এমন কিছু বিষয়ে একসাথে হাসার জন্য ধন্যবাদ যা নিয়ে সম্ভবত আমাদের হাসা উচিত নয়। তুমি পাশে থাকলে প্রতিদিনের এই জীবনপথ চলা লাখ গুণ সহজ ও সুন্দর হয়ে যায়। দিনটি তোমার খুব ভালো কাটুক!’
'চিরকালের জন্য'— বন্ধুকে পালটা ধন্যবাদ শ্বেতার
প্রিয়াঙ্কার শেয়ার করা এই ভিডিওর ক্লিপগুলো বর্তমান সময়ের নাকি রাহুলের মৃত্যুর আগের পুরনো কোনও মুহূর্তের, তা অবশ্য এই পোস্টে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে বিষণ্ণতা আর শোকের পরিবেশ কাটিয়ে প্রিয় বন্ধুর এই ভালোবাসাময় শুভেচ্ছাকে এড়িয়ে যাননি শ্বেতা। তিনি প্রিয়াঙ্কার পোস্টে পালটা কমেন্ট করে ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষেপে লেখেন, ‘পাগলি!! হ্যাঁ রে সবসময় এবং চিরকালের জন্য’।
শোক কাটিয়ে ফেরার আশায় ভক্তরা
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে শ্বেতার এই সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স বা আড়াল হওয়া নিয়ে অভিনেত্রীর অনুরাগীরাও বেশ চিন্তিত ছিলেন। জন্মদিনের হাত ধরে হলেও শ্বেতা যে আবার একটু একটু করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ওঁর পাশে প্রিয়াঙ্কার মতো ভালো বন্ধুরা রয়েছে— এই ঝলক দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শ্বেতার ভক্তকূল। সকলেই আশা করছেন, শ্বেতা খুব দ্রুত এই ট্রমা কাটিয়ে উঠে আবার নিজের চেনা ছন্দে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফিরে আসবেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


