'ভারতে বহুবিবাহ বেআইনি, সংবাদমাধ্যম কীভাবে দ্বিতীয় স্ত্রী বানিয়ে প্রচার চালায়?’ বিস্ফোরক হিরণ-পত্নী অনিন্দিতা
ডিভোর্স মামলা আদালতে বিচারাধীন, আইনত এখনও অনিন্দিতাই হিরণের স্ত্রী। অথচ সংবাদমাধ্যমে ঋত্বিকা গিরিকে হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করায় চটলেন অনিন্দিতা।
বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন গত নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। হিরণের এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জেরেই শুরু হয়েছিল বিজেপি বিধায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া।

ঋত্বিকা গিরির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কানাঘুষো থাকলেও তাঁর সঙ্গে বিয়ের ছবি পোস্ট করে দ্বিতীয় বিয়ের ঘোষণা সারেন হিরণ। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী অনন্দিতা দাবি করেন, দুজনের ডিভোর্স এখনও হয়নি। আইনত তিনি হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী। আপাতত দুজনের ডিভোর্স মামলা আদালতে বিচারাধীন। তারপরেও বিধানসভা ভোটের টিকিট পান হিরণ, পদ্ম-শিবিরের হয়ে জয় লাভও করেন।
পরবর্তীতে বিধায়ক হিরণের পাশে একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা মিলেছে ঋত্বিকার। সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁকে হিরণের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ তকমা দেওয়া হয়েছে। মিডিয়ার একাংশের প্রচারের বিরুদ্ধে এবার তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন হিরণের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। ভারতে হিন্দুদের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ যে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক, সেই আইনি ভিত্তি তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমের একপেশে প্রচারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি তুলে অনিন্দিতার প্রশ্ন:
অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি ভারতীয় আইন ও সংবিধানের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অনিন্দিতা জানান, বহুবিবাহ বা বহুপত্নীত্ব/বহুপতিত্ব ভারতের আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955) এবং হিন্দু কোড বিল অনুযায়ী এক স্ত্রী বা এক পতি থাকা বাধ্যতামূলক। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতি বা আইনি বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ের কোনো স্থান আইনে নেই।
অনিন্দিতার মতে, দেশের সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভকে উপেক্ষা করে যারা বা যেসব সংবাদমাধ্যম বহুবিবাহের পক্ষে সওয়াল করছে কিংবা বেআইনি সম্পর্ককে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে প্রচার করছে, তারা প্রত্যক্ষভাবে দেশের আইন ও সংবিধান অমান্য এবং লঙ্ঘন করছে।
ঋত্বিকাকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বানানোর প্রচারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক:
অনিন্দিতা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, একটি নিষিদ্ধ এবং বেআইনি বিষয়কে সংবাদমাধ্যম কীভাবে এত উৎসাহ ও উৎফুল্লতার সঙ্গে প্রচার করতে পারে? নৈতিকতা বা মানবিকতার কথা বাদ দিলেও, আইনের চোখে যা অপরাধ, তাকে এভাবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সওয়াল: যারা এ ধরনের বেআইনি বিষয়ের হয়ে সওয়াল করছে বা প্রচার চালাচ্ছে, তারাও সমানভাবে আইন ভঙ্গ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও ঋত্বিকা গিরিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের এই সুস্পষ্ট আইনি ও কঠোর অবস্থান টলিপাড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


