Kangana Ranaut: ‘IAS পরে হবেন,আগে রান্না শিখুন', UP রাজ্যপালের ‘আদর্শ মা’ হওয়ার পাঠে সায় কঙ্গনার
কর্মরত মহিলারা আইএএস (IAS) অফিসার হলেও তাদের রান্না শেখা উচিত এবং প্রথমে একজন ‘দক্ষ মা’ হওয়া প্রয়োজন— উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়।
বলিউডের ‘কন্ট্রোভার্সি কুইন’ তথা হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডির বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut) নিজের মন্তব্যের জেরে আবারও খবরের শিরোনামে। এবার উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের (Anandiben Patel) এক বিতর্কিত মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে নেটপাড়ায় জোর চর্চার মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।

চাকরিজীবী মহিলাদেরও পরিবারের জন্য রান্না শেখা উচিত— রাজ্যপালের এই বয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের ছোটবেলার গল্প শুনিয়েছেন কঙ্গনা।
উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আসলে কী বলেছিলেন?
সম্প্রতি এক সভায় উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল বলেন, ‘আজকের দিনে মহিলাদের তাঁদের পরিবারের জন্য রান্না করা শেখা উচিত, আপনি শিক্ষিকাই হোন কিংবা আইএএস (IAS) অফিসার। আপনাকে প্রথমে একজন দক্ষ মা হতে হবে। একজন মায়ের দায়িত্ব কী? নিজের মেয়েকে সব দিক থেকে তৈরি করা, যাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাকে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। আর যদি সমস্যা আসেও, সে যেন নিজের দক্ষতায় তা সামলাতে পারে।’
রাজ্যপালের সমর্থনে কঙ্গনার ‘পুতুল খেলার’ স্মৃতিচারণ
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ রাজ্যপালের এই বক্তব্যের ভিডিওটি শেয়ার করে তাঁর পাশে দাঁড়ান কঙ্গনা। নিজের ছোটবেলার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, আমার ভাই ফুটবল আর ক্রিকেট খেলত, কিন্তু আমি খুব যত্ন করে পুতুলের ঘর বানাতাম, তাদের জামাকাপড় সেলাই করতাম এবং তাদের জন্য রান্না করতাম। বাড়ির সবাই এটা দেখে খুব মজা পেত। আমি ছোট ছোট উনুন বানিয়ে পুতুলের মা সেজে খেলতাম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা এমন কোনো বিষয় নয় যা আমাদের আলাদা করে শিখতে হবে। ঈশ্বর আমাদের ওপর মানবজাতিকে লালন-পালন করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন এবং এটাই আমাদের আসল স্বভাব। এই কারণেই মহিলাদের দেবী, শক্তি, অন্নপূর্ণা, মাতা এবং আরও কত নামে ডাকা হয়। তবে এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভালোবাসার মানুষকে খাওয়ানো, যত্ন নেওয়া এবং লালন-পালনের মধ্যে এক পরম আনন্দ রয়েছে।’
কঙ্গনার মন্তব্যে ফুঁসে উঠল নেটপাড়া
কঙ্গনার এই ‘মাতৃত্ব ও নারীত্বে’র মহিমাকে একেবারেই ভালো চোখে দেখেননি নেটনাগরিকদের একাংশ। অনেকেই এই মন্তব্যকে ‘পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা’র প্রতিফলন বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। একজন ইউজার লিখেছেন, ‘লালন-পালন করা ঈশ্বরের উপহার হতে পারে, কিন্তু কেউ কোনো কাজে পারদর্শী মানেই যে সে কাজটা করতে ভালোবাসে, এমনটা নয়।’
অপর একজন ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘রান্না করার কাজটিকে যুগের পর যুগ ধরে পিতৃতন্ত্রের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কঙ্গনার মতো একজন প্রভাবশালী মানুষের মুখে এর মহিমাকীর্তন অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
আইনি জটিলতায় কঙ্গনার ‘কুইন ২’
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনীতির পাশাপাশি কঙ্গনার ফিল্মি কেরিয়ারও এই মুহূর্তে বেশ টালমাটাল। সম্প্রতি তিনি নিজেক২০১৩ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘কুইন’-এর সিক্যুয়েল ‘কুইন ২’ (Queen 2)-এর শুটিং শেষ করেছেন। বিকাশ বহল পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে। আসল ছবির প্রযোজনা সংস্থা ‘ফ্যান্টম স্টুডিওস’ বোম্বে হাইকোর্টে ২৫০ কোটি টাকার একটি মামলা দায়ের করে দাবি করেছে যে, ওনাদের লিখিত অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে এই সিক্যুয়েলটি তৈরি করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


