রাজেশ খান্নার 'আশীর্বাদ' বাংলো কি ভূতুড়ে? মিডিয়ার মুখে তালা ঝোলাল বম্বে হাইকোর্ট!
২০১২ সালে মৃত্যু হয় কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্নার। তাঁর আর্শীবাদ বাংলোর মালিকানা বদল হয়েছে আগেই। ভাঙা পড়েছে পুরোনো নির্মাণও।
বলিউডের প্রথম 'সুপারস্টার' রাজেশ খান্নার বিখ্যাত বাংলো 'আশীর্বাদ' ঘিরে একের পর এক ভুয়ো ও ভূতুড়ে খবর ছড়ানোয় এবার চরম ক্ষুব্ধ বোম্বে হাইকোর্ট! মুম্বইয়ের ব্যান্ডস্ট্যান্ডের এই ঐতিহাসিক বাড়িকে অভিশপ্ত, ভূতুড়ে বা দুর্ভাগ্য়ের প্রতীক বলে দাবি করা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কড়া নির্দেশ দিল আদালত। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া স্রেফ চমক তৈরি করতে একটি বাড়িসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো মালিকের সম্মানের ওপর আঘাত এবং মানহানিকর!

কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন বর্তমান মালিক?
রাজেশ খান্নার প্রয়াণের পর ওঁর পরিবারের থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকায় এই বাংলোটি কিনে নিয়েছিলেন বিখ্যাত ব্যবসায়ী শশী শেট্টি। পরবর্তীতে ওনারা পুরনো জীর্ণ কাঠামোটি ভেঙে নিজেদের থাকার জন্য চার তলার এক আধুনিক বাসভবন তৈরি করেন, তবে ভালোবাসা আর স্মৃতির খাতিরে বাড়ির নাম সেই 'আশীর্বাদ'-ই রেখে দেন।
কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছু ডিজিটাল মিডিয়া ও ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের সবচেয়ে ভূতুড়ে বাড়িগুলোর তালিকায় 'আশীর্বাদ'-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়। নিজের বাসভবন নিয়ে এই ধরনের কুৎসা ও বিভ্রান্তিতে জেরবার হয়ে আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন শশী শেট্টি। হাইকোর্ট তাঁর আর্জিকে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছে এবং আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই জাতীয় খবর প্রকাশ বা সম্প্রচারে কড়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
রূপোলি ইতিহাসের অনন্য সাক্ষী এই 'আশীর্বাদ'
বলিউডের রাজকীয় ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বাসভবনের নাম: ১৯৫০-এর দশকে মাত্র ৬৫ হাজার টাকায় এই বাংলো কিনেছিলেন অভিনেতা রাজেন্দ্র কুমার। এই বাড়িতে পা রাখার পরেই ওঁর ঝুলিতে আসে পর পর ব্লকবাস্টার ছবি, হিন্দি সিনেমা ওনাকে নাম দেয় জুবলি কুমার।
পরবর্তীতে ৩.৫ লাখ টাকায় রাজেন্দ্র কুমারের থেকে বাড়িটি কিনে নেন রাজেশ খান্না। এই ‘আশীর্বাদ’-এ থাকার সময়েই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের প্রথম অফিশিয়াল 'সুপারস্টার' হয়ে ওঠেন তিনি।
নস্টালজিয়া বনাম ভূতের গুজব
রাজেশ খান্নার ইচ্ছা ছিল ওঁর প্রয়াণের পর এই বাড়িটিকে এক সুবিশাল জাদুঘরে রূপান্তর করা হোক। তবে ওঁর মৃত্যুর পর পরিবার বাড়িটি বিক্রি করে দেয় এবং ২০১৬ সালে নতুন মালিক এসে পুরনো বাড়ি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করেন। তবে বাড়ি বদলালেও 'আশীর্বাদ'-এর আবেগ যে এখনো কমেনি এবং সেই বাড়িতে ভুয়ো ভূতের গল্প বানিয়ে টিআরপি তোলার খেলা যে আর চলবে না, বোম্বে হাইকোর্টের এই রায়ে তা পরিষ্কার!
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


