‘৯৭% নম্বর ছিল, তাও…’, সুশান্ত মামলায় নাম জড়ানোয় চাকরি যায় রিয়ার ভাই ও বাবার

রিয়া চক্রবর্তী সম্প্রতি বলেছিলেন যে, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর কেউ তার ভাইকে চাকরি দেয়নি। চক্রবর্তী পদবির জন্য তাঁর বাবাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এমনকী তাঁদের পরিবারের থেকেমুখ ঘুরিয়েছিল সমাজও। এই ঘটনার পর অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্র্যান্ড শুরু করেন রিয়া চক্রবর্তী। 

Published on: Aug 17, 2026, 18:30:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এখন তাঁর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা মামলা এবং মাদক মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর, অভিনেত্রী ও তাঁর পরিবারকে গত বেশ কয়েক বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অভিনেত্রী জানান, কীভাবে এই মামলার কারণে তাঁর ছোট ভাইকে কলেজে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি, তাঁর বাবাকেও চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং সমাজও তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই কঠিন সময়ে, পরিবারটি একে অপরকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে গিয়েছিল। এখন রিয়া নিজের একটি পোশাকের ব্র্যান্ড চালান এবং বিভিন্ন রিয়েলিটি শো-তেও অংশগ্রহণ করেন।

সুশান্ত মামলায় নাম জড়ানোয় চাকরি যায় রিয়ার ভাই ও বাবার।
সুশান্ত মামলায় নাম জড়ানোয় চাকরি যায় রিয়ার ভাই ও বাবার।

রিয়া চক্রবর্তীর ভাইকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল

ফারাহ খান তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের একটি নতুন পর্বের জন্য রিয়া চক্রবর্তীর বাড়ি ঘুরিয়ে দেখান। এই সময়, ফারাহকে নিজের ব্র্যান্ড খোলার পেছনের কারণ রিয়া ব্যাখ্যা করেন। রিয়ার ব্র্যান্ডের প্রশংসা করে ফারাহ খান বলেন যে, দ্বিতীয় অধ্যায়টি দারুণভাবে এগিয়ে চলেছে। রিয়া উত্তর দেন, ‘আমার ভয় করছে। এত কষ্টের পর যখন বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে, তখন ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক।’ ফারাহ আরও বলেন যে, এখন ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; যা হওয়ার ছিল, তা হয়ে গিয়েছে। রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন কেন তিনি ‘চ্যাপ্টার ২’ ব্র্যান্ডটি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘শৌভিক এবং আমি চ্যাপ্টার ২ শুরু করি কারণ সে ক্যাট (CAT)-এ ৯৭% নম্বর পেয়েছিল। ২০২০ সালেও আমাদের একই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যে বছর সে ৯৭% নম্বর পেয়েছিল এবং আমার সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরই মধ্যে তার প্রথম ট্রাইমেস্টার শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমরা ফি দিয়ে দিয়েছিলাম। সে আইআইএম (IIM)-এ সুযোগও পেয়ে গিয়েছিল। এরপর ও জেলে গেল, ফলে সেই ট্রাইমেস্টারটিও শেষ হয়ে গেল।’

সুশান্ত ও রিয়া (Social Media)
সুশান্ত ও রিয়া (Social Media)

রিয়ার বাবাকেও তাঁর পদবির কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল

রিয়া আরও জানান যে, জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বাড়িতে অলসভাবে বসে থাকতেন। সমাজ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাঁর ভাইও চাকরি পাচ্ছিলেন না। তাঁর বাবার একটি ভালো চাকরি ছিল, কিন্তু পদবির কারণে তা চলে যায়। রিয়া আরও বলেন, 'শৌভিক তো চাকরিই পাচ্ছিল না। মানে, কেউই ওকে চাকরি দিতে রাজি ছিল না। বাবা একটি বড় হাসপাতালে মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে একটি বড় চাকরি পাচ্ছিলেন। ওরা তাঁর পদবির কথা জানতে পারে। আর বলে, 'দুঃখিত স্যার, উনি রিয়া চক্রবর্তীর বাবা।' এরপর আমরা ভাবলাম, 'আর না। মানুষের ওপর নির্ভর করা বন্ধ করা যাক। নিজেদের কিছু শুরু করা যাক'।' এরপর রিয়া ও তাঁর ভাই শৌভিক তাঁদের পোশাকের ব্র্যান্ড 'চ্যাপ্টার ২' চালু করেন।

রিয়া চক্রবর্তী এখন রিয়্যালিটি শোতেও অংশ নিচ্ছেন

রিয়া তাঁর ভাই শৌভিকের সঙ্গে একটি পোশাকের ব্র্যান্ড চালান। তাঁরা কয়েকটি রিয়্যালিটি শোতেও অংশ নিয়েছেন। রিয়া এখন 'ট্রেইটর'-এর সিজন ২ করছেন। খবর সত্যি হলে, তার ভাই শোভিককে বিগ বস ২০-তে দেখা যেতে পারে।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More