Jeetu Kamal: ‘আর্টিস্টদের ভয় পাই, তাই দূরে থাকি! একে দম্ভ বলতে পারেন…’, চিরদিনইর শেষদিন সহকর্মীদের ধুয়ে দিলেন জীতু
Jeetu Kamal: এবার ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (CTJA) মেগা ধারাবাহিকের শেষ দিনের শ্যুটিং ফ্লোর থেকে সহকর্মীদের আরও চাঁছাছোলা ও স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিলেন পর্দার আর্য সিং রায়। সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা থেকে শুরু করে নিজের ‘চরিত্র’ এবং ‘দম্ভ’ নিয়ে ওঠা সমস্ত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক জীতু।
একদিকে যখন সাংসদ সায়নী ঘোষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত টানাপোড়েন নিয়ে টলিপাড়ার অলিন্দে গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ছোট পর্দার জনপ্রিয় মেগা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেট থেকে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করলেন অভিনেতা জীতু কমল। রবিবার ছিল এই ধারাবাহিকের শেষ দিনের শ্যুটিং। আর আর্য সিংহ রায়ের চরিত্রকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে সহ-অভিনেতা ও টলিপাড়ার একাংশকে কার্যত ধুয়ে দিলেন তিনি। নিজের চরিত্র, তথাকথিত ‘দম্ভ’ এবং ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ খোলা চিঠি পোস্ট করলেন জীতু।

টেকনিশিয়ানদের ঢাল করে নিন্দুকদের জবাব:
ধারাবাহিকের সেটের সমস্ত টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে তোলা একটি মিষ্টি ছবি শেয়ার করে জীতু লেখেন, “এরা প্রত্যেকেই ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ান। আমার একটা প্রজেক্ট শেষ হলো, সেই প্রজেক্টেরই টেকনিশিয়ান। এক জায়গায় বহুদিন থাকলে বা কাজ করলে মনমালিন্য হয়, প্রেম হয়, ভালোবাসা হয়। মেগা সিরিয়াল তো তেমনই একটা জায়গা। কিন্তু এই টেকনিশিয়ানদের সাথে একটা মুহূর্তের জন্যও আমার কোনো মনমালিন্য হয়েছে কিনা, তা একটু আপনারা অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন তো!”
চরিত্র নিয়ে অপপ্রচারকারীদের কড়া বার্তা:
ইদানীং টলিপাড়ায় তাঁর ব্যবহার ও চরিত্র নিয়ে যে সমস্ত কানাঘুষো চলছে, তাকে সরাসরি নিশানা করে অভিনেতা লেখেন, ‘যে বা যারা বারবার প্রশ্ন তোলেন বা রটানোর চেষ্টা করেন দুর্ব্যবহার নিয়ে, আমার চরিত্র নিয়ে— তারা ভবিষ্যতেও করবেন, করুন। আমার ইচ্ছে হলে প্রত্যুত্তর দেব, নচেৎ দেব না। তবে এটা সত্যি, আমার যত সখ্যতা তা সবই টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে।’
‘আর্টিস্টদের ভয় পাই, তাই দূরে থাকি’:
সহ-অভিনেতা বা সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে টলিপাড়ায় যে গুঞ্জন রয়েছে, তারও এক অদ্ভুত ও সৎ ব্যাখ্যা দিয়েছেন জীতু। নিজের স্বভাবের কথা স্বীকার করে তিনি স্পষ্ট জানান— ‘হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আর্টিস্টদের (সহ-অভিনেতা) সঙ্গে আমার সখ্যতা গড়ে ওঠে না। আমি খুব একটা কথা বলতে পারি না তাদের সঙ্গে, ভয় পাই। তাই দূরে দূরে থাকি। দূরে থাকাটাকে যদি আপনারা আমার ‘দম্ভ’ বলেন, তাহলে সেটা দম্ভই সই! কিন্তু সেটাকে ‘দুর্ব্যবহার’ তো বলতে পারেন না।’
কাদা ছোড়াছুড়ির বিরুদ্ধে আগাম প্রতিরোধ:
এর আগের পোস্টেও জীতু কলাকুশলীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে লিখেছিলেন, যদি কারও কোনো ক্ষোভ বা হেনস্থার অভিযোগ থাকে, তবে তা যেন প্রজেক্ট চলাকালীনই জানানো হয়। কাজ শেষ হওয়ার বহু পরে কোনো ‘গোপন উদ্দেশ্যে’ যেন কাদা ছোড়াছুড়ি না করা হয়।
কাজ শেষ হওয়ার শেষ লগ্নে এসেও নিজের আত্মসম্মান ও স্পষ্টবাদিতা যেভাবে বজায় রাখলেন জীতু, তা বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। আর্টিস্টদের ‘ভয়’ পেয়ে দূরে থাকা এবং টেকনিশিয়ানদের আপন করে নেওয়ার এই স্বীকারোক্তি কার্যত টলিপাড়ার ভেতরের রাজনীতিকেই যেন আরও একবার প্রকাশ করে দিল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


