স্নান করার সময়ও ঠোঁটে জ্বলত সিগারেট, দিনে প্রায় ৬০টা! কার কথায় শেষ ২০ বছর সিগারেটে হাত দেননি নানা?
ছেলের মৃত্যুশোক ভুলতে সিগারেট আঁকড়ে ধরেন। ৫৬ বছর বয়সে এসে চিরতরে সিগারেটকে বিদায় জানান নানা পাটেকর। কার কথায়?
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা নানা পাটেকরের আচমকা প্রয়াণে গোটা দেশ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পর্দায় তাঁর দাপুটে অভিনয় আর ব্যক্তিজীবনে নিঃস্বার্থভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন ‘ক্রান্তিবীর’ খ্যাত এই তারকা। তাঁর প্রয়াণের পর আবারও চর্চায় উঠে এসেছে অভিনেতার জীবনের নানা অজানা ও আবেগঘন অধ্যায়। একসময় যিনি দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খেতেন, তিনি কীভাবে রাতারাতি ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিলেন— লল্লনটপ-কে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সেই কাহিনি শোনান খোদ নানা।

ছেলের মৃত্যুতে চরম মানসিক আঘাত ও তীব্র ধূমপান:
সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর প্রকাশ করেছিলেন যে, জীবনে এক চরম সংকটময় মুহূর্তে তিনি মারাত্মকভাবে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর প্রথম সন্তান দুর্বাসের অকালপ্রয়াণ ঘটেছিল মাত্র আড়াই বছর বয়সে। জন্মের পর থেকেই তাঁর শরীরে কিছু জটিলতা ছিল— ঠোঁটে সমস্যা ও এক চোখে দেখতে না পাওয়া। নানা আফসোস করে বলেছিলেন, সন্তানকে প্রথম দেখার পর তাঁর মাথায় এসেছিল ‘লোকজনে কী বলবে’, যা পরবর্তীতে তাঁকে চরম অপরাধবোধে ও মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল। এই মানসিক আঘাত থেকেই তিনি দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খাওয়া শুরু করেন। এমনকি স্নান করার সময়ও তাঁর ঠোঁটে জ্বলত সিগারেট এবং তাঁর গাড়িতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ থাকায় কেউ বসতে পর্যন্ত চাইত না। আড়াই বছরের ছেলেকে হারানোর গ্লানি আরও ঘিরে ধরেছিল নানাকে। আর তিনি আষ্টেপৃষ্টে ধরেছিলেন সিগারেটকে।
বোনের এক কথায় জীবন পরিবর্তন:
অবশেষে ৫৬ বছর বয়সে এসে চিরতরে সিগারেটকে বিদায় জানান নানা পাটেকর। তবে এর নেপথ্যে ছিল তাঁর বোনের এক মর্মস্পর্শী উক্তি। নানার বোন তাঁর নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সন্তানের মৃত্যুর ঠিক আট দিন পর নানাকে ধূমপান করে কাশতে দেখে বোন আকুল হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আর কী কী দেখতে হবে আমাকে?’
বোনের মুখ থেকে এই কথাটি শোনার পরই অভিনেতার বিবেক নাড়া দেয়। তিনি স্থির করেন, ‘আজকের দিন থেকে আর সিগারেট ছোঁব না’। এইভাবে একের পর এক দিন পার হতে হতে টানা পাঁচ দিন কাটে। পঞ্চম দিনে বোনকে ফোন করে জানান যে তিনি আর ধূমপান করছেন না। সেই দিনের পর থেকে টানা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বদঅভ্যাস থেকে পুরোপুরি দূরে থেকেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
অভিনয় জীবনের পাশাপাশি নিজের জীবনের এই ধরনের চরম বাস্তব ও কঠিন অনুভূতির কথা নিঃসংকোচে প্রকাশ করাই নানা পাটেকরকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘ভগবান’ সমতুল্য করে তুলেছিল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


