Diljit Dosanjh: ‘ঝাণ্ডা দেখিয়ে চলে যাও…পরোয়া করি না’, কানাডায় দাঁড়িয়ে খালিস্থানপন্থীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলজিৎ-এর

কানাডার মঞ্চে তখন উপচে পড়া ভিড়, সুরের জাদুতে মেতেছেন হাজার হাজার দর্শক। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন। দর্শকাসনের একাংশে খলিস্তান-পন্থী পতাকা উড়তে দেখে গান থামিয়ে দিলেন পাঞ্জাবি সুপারস্টার দিলজিৎ

Published on: May 4, 2026, 07:00:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্তমানে কানাডায় নিজের ‘অরা’ (Aura) ট্যুর নিয়ে ব্যস্ত দিলজিৎ দোসাঞ্জ। কিন্তু সম্প্রতি একটি শো চলাকালীন খলিস্তান-পন্থী কিছু সমর্থক পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে মেজাজ হারান গায়ক। তবে মেজাজ হারালেও নিজের যুক্তি থেকে একচুল নড়েননি তিনি। সটান জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাজ গান গাওয়া, রাজনীতি করা নয়।

‘ঝাণ্ডা দেখিয়ে চলে যাও…পরোয়া করি না’, খালিস্থানপন্থীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলজিৎ-এর
‘ঝাণ্ডা দেখিয়ে চলে যাও…পরোয়া করি না’, খালিস্থানপন্থীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলজিৎ-এর

বিবাদের মূলে বিগ বি-র পা ছোঁয়া?

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর অক্টোবর মাসে। অমিতাভ বচ্চনের শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে হাজির হয়ে বিগ বি-র পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন দিলজিৎ। অমিতাভও তাঁকে ‘পাঞ্জাব দা পুত্তর’ বলে সম্মোধন করেন। কিন্তু এই সৌজন্যই কাল হলো। খলিস্তান-পন্থী গোষ্ঠী ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (SFJ) অভিযোগ তোলে যে, ১৯৮৪-র শিখ দাঙ্গায় প্ররোচনা দেওয়া অমিতাভের পা ছুঁয়ে দিলজিৎ নাকি শিখদের অপমান করেছেন। সেই রেশ টেনেই কানাডার কনসার্টে পতাকা দেখিয়ে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা হয়।

দিলজিতের কড়া হুঙ্কার:

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে মঞ্চ থেকে দিলজিৎ বলেন, ‘আমার কাজ চ্যারিটি করা নয়। তবুও আমি যে প্ল্যাটফর্মেই যাই না কেন, সবসময় পাঞ্জাবের কথা বলি। আমরা বলি জাতীয় মিডিয়া পাঞ্জাবকে গুরুত্ব দেয় না, তাই আমি কেবিসি-র মতো মঞ্চে গিয়েছি যাতে জাতীয় স্তরে আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারি। এমনকি জিমি ফ্যালনের শো-তেও গিয়েছি পাঞ্জাব আর ‘গুরু নানক জাহাজ’ (কোমাগাতা মারু) ঘটনা নিয়ে কথা বলতে। কোনও সিনেমা বা গানের প্রচার করতে নয়।’ এরপরই সেই মোক্ষম সংলাপ ছুড়ে দেন তিনি— ‘জিনে ঝাণ্ডে দিখানে দিখাই চালো’ (যাদের যত পতাকা দেখানোর ইচ্ছে, দেখিয়ে যাও)।

ভালোবাসার বার্তা:

হুমকি বা ট্রোলিংয়ে যে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দিলজিৎ। তিনি বলেন, ‘আমার গুরু শিখিয়েছেন ‘এক ওঙ্কার’। এই পৃথিবী আমার কাছে এক। কেউ আমাকে ট্রোল করুক বা হিংসে করুক, আমি সবসময় ভালোবাসার বার্তাই দিয়ে যাব। আমি পরোয়া করি না কে কী ভাবল।’

জাতীয়তাবোধ বনাম বিতর্ক:

জিমি ফ্যালনের শো-তে ১৯১৪-র কোমাগাতা মারু ঘটনার মতো ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে দিলজিৎ আগেই প্রমাণ করেছেন তিনি শিকড়কে ভোলেননি। কিন্তু রাজনৈতিক পতাকা দেখিয়ে কনসার্ট ভেস্তে দেওয়ার এই চেষ্টাকে তিনি যে প্রশ্রয় দেবেন না, তা এদিনের কড়া মূর্তিতেই পরিষ্কার।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More