Kajol-Ajay: ‘বাবা তো বিয়েতেই রাজি ছিলেন না!’, কেরিয়ারের তুঙ্গে অজয়কে বিয়ে, মুখ খুললেন কাজল
দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য অজয়-কাজলের। সম্পর্কের বয়স ৩২ বছর। কিন্তু জানেন কি কেরিয়ারের শীর্ষে মেয়ের সঙ্গে অজয় দেবগণের বিয়েতে মত ছিল না কাজলের বাবার।
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল অভিনেত্রী কাজল (Kajol) কেরিয়ারের একদম স্বর্ণযুগে দাঁড়িয়ে অভিনেতা অজয় দেবগন (Ajay Devgn)-কে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে দাঁড়িয়ে কেরিয়ারের শীর্ষে বিয়ে করা ও মা হওয়া নিয়ে কত শত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা নিয়ে সাংবাদিক নয়নদীপ রক্ষিত (Nayandip Rakshit)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন কাজল!

সাক্ষাৎকারে কাজল স্পষ্ট জানান, তাঁর এই সিদ্ধান্ত অনেককেই চমকে দিয়েছিল, এমনকি তাঁর নিজের পরিবারেও ছিল দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
‘বাবা নিজেই চাননি আমি তখন বিয়ে করি!’: কাজল
কাজল জানান, কেরিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় বিয়ে করার সিদ্ধান্তে বহু মানুষ তাঁকে নিষেধ করেছিলেন। কাজল বলেন, ‘অনেকেই আমাকে তখন বিয়ে করতে বারণ করেছিলেন, যার মধ্যে আমার নিজের বাবাও (শোমু মুখোপাধ্যায়) ছিলেন! বাবা সোজাসুজি বলেছিলেন যে এই মুহূর্তে আমার বিয়ে করা একদম উচিত নয়।’ তবে মা তনুজা বিষয়টিকে বেশ সহজভাবে নিয়েছিলেন। অজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তনুজা কাজলকে শুধুই জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত কি না এবং দুজনের মধ্যে একটি দীর্ঘ ও খোলামেলা আলোচনাও হয়েছিল।
সাইরা বানু ও শর্মিলা ঠাকুরের পথ অনুসরণ!
কেরিয়ারের শীর্ষে বিয়ে করে কাজল কোনো নিয়ম ভেঙেছেন বা নতুন রেকর্ড গড়েছেন— এই ধারণার সঙ্গে অবশ্য স্পষ্ট দ্বিমত পোষণ করেছেন অভিনেত্রী। কাজলের যুক্তি, ‘অনেকে মনে করেন আমি নাকি বিয়ে করে কোনো নিয়ম ভেঙেছি, কিন্তু আমি এর সঙ্গে একেবারেই একমত নই। আমার আগে সাইরা বানু, শর্মিলা ঠাকুরের মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীরা ছিলেন, যাঁরা কেরিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন এবং বিয়ের পরেই কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বড় হিট সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন! তাই আমি নতুন আলাদা কিছুই করিনি।’
নিজের সিদ্ধান্ত ও আত্মবিশ্বাসে অটল থেকে কাজল প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সঠিক জীবনসঙ্গী আর নিজের প্রতি ভরসা থাকলে কেরিয়ার ও সংসার দুটোই সমান তালে সাফল্যের সঙ্গে সামলানো যায়!
১৯৯৯ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে বাড়ির ছাদেই ছাঁদনাতলায় বসেছিলেন এই যুগল। আজ তাঁদের দুই সন্তান— ক্যানভাস কাঁপানো মেয়ে নিশা (Nysa) এবং ছেলে যুগ (Yug)।
কিন্তু জানেন কি, বলিউডের এই আইকনিক জুটির প্রেমের শুরুটা কোনো রোমান্টিক রূপকথার মতো ছিল না? প্রথম পরিচয়ে অজয়কে একেবারেই পছন্দ হয়নি কাজলের!
'প্রথম দেখাতেই অপছন্দ!': কেমন ছিল প্রথম সাক্ষাৎ?
১৯৯৫ সালে 'হালচাল' (Hulchul) সিনেমার সেটে প্রথম আলাপ হয় অজয় ও কাজলের। কাজল তখন খটখটে, চঞ্চল ও ভীষণ কথা বলা এক উদীয়মান তারা, অন্যদিকে অজয় চরম শান্ত, চুপচাপ ও রিজার্ভড প্রকৃতির।
প্রথম দেখায় অজয়ের এই চুপচাপ স্বভাব দেখে কাজল ভেবেছিলেন, ছেলেটির বিশাল অ্যাটিটিউড! পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে কাজল রসিকতা করে বলেছিলেন, 'প্রথমবার কাজ করার পর ভেবেছিলাম, লোকটা সারাদিন এক কোণে বসে চেইন স্মোক করে, কারো সাথে কথা বলে না... এত গম্ভীর কেন? এর সাথে আবার কাজ করব নাকি!'
অসুখী প্রেম ও এক গোপন পরামর্শ থেকে বদলে যাওয়া মোড়:
'হালচাল'-এর শ্যুটিংয়ের সময় দুজনেরই আলাদা সঙ্গী ছিল। কাজল তাঁর সেই সময়ের এক প্রেমিকের সাথে সমস্যা হলে পরামর্শ নেওয়ার জন্য সেটে অজয়ের কাছেই যেতেন! অজয় কোনো জ্ঞান না দিয়ে একজন দক্ষ শ্রোতার মতো কাজলের সব কথা শুনতেন এবং ঠান্ডা মাথায় পরামর্শ দিতেন।
ধীরে ধীরে তাঁদের এই বন্ধুত্ব এক অন্য মাত্রা পায়। দুজনেরই মনভাঙার পর্বের পর স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের কাছাকাছি আসেন তাঁরা।
না ছিল প্রপোজাল, না কোনো হাঁটু গেড়ে বসা ডেট!
মজার বিষয় হলো, অজয় বা কাজলের মধ্যে কখনোই কেউ একে অপরকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'আই লাভ ইউ' বা 'বিয়ে করবে?' বলে প্রপোজ করেননি! কোনো রাজকীয় ক্যান্ডেল লাইট ডিনারও হয়নি।
একে অপরের সাথে সময় কাটাতে কাটাতে দুজনই বুঝে গিয়েছিলেন যে তাঁরা সারাজীবন একসাথেই থাকতে চান। চার বছর চুটিয়ে ডেট করার পর, ১৯৯৯ সালে মিডিয়ার কোনো হইচই ছাড়াই অতি সাধারণ ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে সারেন এই পাওয়ার কাপল।
আজ দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের সমস্ত চড়াই-উতরাই একসঙ্গে পার করে নিজেদের সুখী দাম্পত্যে ভালোবাসা বজায় রেখেছেন এই 'অপোজিট অ্যাট্রাক্টস' জুটি!
১৯৯৯ সালে গোপনে অজয় দেবগণকে বিয়ে করেন কাজল। তাঁদের দুই সন্তান নিশা ও যুগ।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


