সতীপীঠ কালীঘাট' নিয়ে বিতর্ক, পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ লেখিকা দেবারতির

জি বাংলার 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর মূল কাহিনী নিজের লেখা বলে দাবি করলেন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গল্প জমা দেওয়ার পর প্রযোজনা সংস্থা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, এমনকি পারিশ্রমিকের জন্য দেওয়া চেকও বাউন্স করে। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন তিনি।

Published on: Jul 5, 2026, 10:40:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

জি বাংলা-র ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ নিয়ে প্রখ্যাত বাঙালি লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় সামনে আনলেন গুরুতর অভিযোগ। দেবারতি দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের মে মাসে জি বাংলার জন্য প্রস্তাবিত 'কালীঘাট' কেন্দ্রিক একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকের মূল কাহিনী লেখার জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায় প্রযোজনা সংস্থা Roycineworks Pvt. Ltd.। এরপর দেবারতি এক বছরের গল্প, চরিত্র, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নাট্যরূপ ও সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ ইউনিভার্স তৈরি করে জমা দেন। অভিযোগ, সেই কাহিনী জমা দেওয়ার পর থেকেই প্রযোজক সুব্রত রায় যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে শুরু করেন এবং বারবার অর্থপ্রদানের আশ্বাস দিলেও তা পূরণ করেননি।

জি বাংলা-র ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ নিয়ে বিস্ফোরক দেবারতি মুখোপাধ্যায়।
জি বাংলা-র ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ নিয়ে বিস্ফোরক দেবারতি মুখোপাধ্যায়।

দেবারতি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি নিজে থেকে কোনদিনও কোন প্রযোজনা বা প্রকাশনা সংস্থায় যোগাযোগ করিনি। এক্ষেত্রেও আমায় যেচে ডাকা হয়েছিল।প্রথমে যখন আমাকে বলা হয় এটা একটি টেলিভিশন সিরিয়ালের কাজ, আমি নিজেই 'না' করে দিয়েছিলাম। কারণ আমার পরিচয় ঔপন্যাসিক, আমি জানি যে ধরণের টেলিসিরিয়াল বাংলা চ্যানেলে চলে, তার সঙ্গে আমার স্বাভাবিক সাহিত্যগত কাজের জায়গার সামঞ্জস্য নেই। কিন্তু আমাকে বারবার বলা হয়, এই প্রোজেক্ট অন্যরকম। বলা হয়, এটা সাধারণ ডেইলি সোপ নয়, এর কেন্দ্রে থাকবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কালীঘাট মন্দির, রাজা প্রতাপাদিত্য, বাংলার অতীত, লোকবিশ্বাস, mythology, history, social conflict এবং একটা বড় creative universe. আর আমায় স্ক্রিপ্ট নয়, মূল কাহিনী বুনে দিতে হবে, সেখান থেকে স্ক্রিপ্টরাইটাররা দৈনন্দিন স্ক্রিপ্ট বানাবেন। এই কথাগুলোয় আমি বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সুব্রত রায় বয়স্ক মানুষ, রানি রাসমনি নামক জনপ্রিয় সিরিয়ালের প্রযোজক, আমি তাঁর কথায় বিশ্বাস করে কাজ শুরু করি।’

দেবারতি জানান যে, এই কাজ কোনো মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে লিখিতভাবে হয়েছে। তাঁর কাছে অফিসিয়াল মেইল আছে। যেখানে লেখা আছে, তিনি ধারাবাহিকটির জন্য ‘লং স্টোরি’ লিখবেন, আর চিত্রনাট্যকর, পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ হেডের সঙ্গে নিয়মিত কথা হবে। সঙ্গে কাহিনীকার হিসেবে তাঁর নামও যাবে। এরপর দেবারতি চলতি বছরের ১৫ মে লেখা জমাও দেন।

দেবারতি অভিযোগ করেছেন যে, ‘গোটা গল্প পাঠানোর পরই ম্যাজিক! সুব্রত রায় সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বলা হয়, 'চ্যানেল দেখছে।' আর তারপর শুরু হয় date after date। এরমাঝেই আমি আবিষ্কার করি জি বাংলায় এই নতুন আসা সিরিয়ালের প্রোমো। আমি আবার যোগাযোগ করি। আমায় প্রথমে ১০ জুন বলা হয়। তারপর আবার দেরি। আমার পক্ষ থেকে বারবার ফলো-আপ করা হয়। আমার সহকারী লিলিও বহুবার ফলো-আপ করে। প্রতিবারই আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্মানিক আসে না। শেষপর্যন্ত আমি জি-তে জানাই, তাদের পক্ষ থেকে চাপাচাপির পর আমাকে একবার অনলাইন ট্রান্সফার, একবার অন্য কিছু নানারকম টালবাহানার পর বলা হয় 'এসে চেক নিয়ে যেতে হবে।'’

দেবারতি অভিযোগ তুলেছেন, তাঁকে একটি পোস্ট-ডেটেড চেক দেওয়া হয়। তিন দিন অপেক্ষা করার পর তিনি যখন সেটি ব্যাংকে জমা দেন তখন 'Funds Insufficient' কারণে সেটি বাউন্স করে। তাঁর দাবি, গল্পের কৃতিত্ব, পারিশ্রমিক এবং মেধাস্বত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জমা দেওয়া স্টোরি ম্যাটেরিয়াল তাঁর মৌলিক সৃষ্টিকর্ম এবং তাঁর লিখিত সম্মতি, যথাযথ ক্রেডিট ও বাণিজ্যিক চুক্তি ছাড়া তা কোনওভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

এই ঘটনার জেরে দেবারতি চেক বাউন্সের মামলা-সহ মেধাস্বত্ব রক্ষা, ক্ষতিপূরণ, পেশাগত ক্ষতি ও অনুমতি ছাড়া গল্প ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি জি বাংলা কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন।

দেবারতি লিখেছেন, ‘আমি বহুদিন চুপ থেকেছি। যথেষ্ট হয়েছে। এত কাজের মধ্যে প্রতিদিন এই নিয়ে খোঁচানো সম্ভব নয়। লেখকদের সঙ্গে এই প্রতারণা দীর্ঘকাল ধরে চলছে। লিখিত এগ্রিমেন্টের পরেও একজন লেখকের শ্রম, কল্পনা, গবেষণা, গল্প, চরিত্র এবং সৃষ্টির অধিকারকে এভাবে অস্বীকার করা যায় না। আমরা ঠকছি, ভবিষ্যতেও ঠকব, কিন্তু মানুষ অন্তত সত্যিটা জানুক!’

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More