‘আমার বাচ্চাগুলো ভালো নেই..তুই বেঁচে থেকেও তিলে তিলে মরবি’, মেয়ে সায়নীর আত্মহত্যা, অভিযুক্ত প্রেমিককে অভিশাপ মায়ের

হুগলির জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়নী চক্রবর্তীর আত্মহত্যার ক্ষত এখনও দগদগে পরিবারের মনে। কেটেছে প্রায় দু-সপ্তাহ। লাইভে এসে পরিবারে আরও এক মৃত্যুসংবাদ দিলেন মলি দেবী।

Published on: Jun 11, 2026, 20:01:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরিচিত মুখ, ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর আকস্মিক মৃত্যুর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তাঁর পরিবার ও অনুগামীরা। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হন সায়নী। মা-মেয়ের মিষ্টি জুটি এবং তাঁদের পোষ্যদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ব্লগিং একসময় লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেছিল। মেয়েকে হারানোর সেই অসীম যন্ত্রণা বুকে নিয়েই সায়নীর মৃত্যুর পর প্রথমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এলেন মা মলি চক্রবর্তী।

‘আমার বাচ্চাগুলো ভালো নেই..তুই বেঁচে থেকেও তিলে তিলে মরবি’, মেয়ে সায়নীর আত্মহত্যা, অভিযুক্ত প্রেমিককে অভিশাপ মায়ের
‘আমার বাচ্চাগুলো ভালো নেই..তুই বেঁচে থেকেও তিলে তিলে মরবি’, মেয়ে সায়নীর আত্মহত্যা, অভিযুক্ত প্রেমিককে অভিশাপ মায়ের

ক্যামেরার সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে মলিদেবী শুধু নিজের মনের কষ্টই উগরে দেননি, বরং সায়নীর মৃত্যুর জন্য দায়ী অভিযুক্ত প্রেমিকের উদ্দেশ্যে এক অভাগা মায়ের চরম অভিশাপও বর্ষণ করেছেন।

চার বছরের সম্পর্ক এবং ত্রিবেণীর যুবকের গ্রেপ্তার

সায়নীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলছিল পরিবার। মলি চক্রবর্তী জানান, হুগলির ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে গত চার বছর ধরে তাঁর মেয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং দুই পরিবারই এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে সায়নী ঠিক কী ধরণের যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা টের পাননি মা।

ইতিমধ্যেই সায়নীর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ওই যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। লাইভে এসে সায়নীর মা ক্ষোভ ও যন্ত্রণার সুরে বলেন:

‘অনেকদিন আগেই ধরা পড়েছে ছেলেটি। জানি না ও কতদিন জেলে থাকবে বা আদালত ওকে কতটা শাস্তি দেবে। তবে এক অভাগা মা হয়ে আমি আজ মন থেকে ওকে অভিশাপ দিচ্ছি— তুই কোনওদিন সুখী হবি না। তুই বেঁচে থেকেও তিলে তিলে মরবি!’

দিদির শোকে চলে গেল প্রিয় পোষ্য ‘বুজো’, পরিবারে দ্বিগুণ শোক

মলি এবং সায়নীর সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মূল আকর্ষণই ছিল তাঁদের অবলা পোষ্যরা। সায়নীর মৃত্যুর পর সেই অবলা প্রাণীগুলোর ওপর দিয়েও যেন ঝড় বয়ে গিয়েছে। বাড়ির থমথমে পরিবেশ এবং তাঁদের প্রিয় ‘দিদি’ সায়নীর অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারেনি তাঁরাও।

কান্নায় ভেঙে পড়ে মলিদেবী জানান, মেয়েকে হারানোর মাত্র দিনকয়েকের মধ্যেই তাঁরা তাঁদের প্রিয় পোষ্য ‘বুজো’ (Bujo)-কেও হারিয়েছেন। দিদির শোকে গত চার-পাঁচ দিন আগে বুজো মারা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁদের অপর পোষ্য ‘পরী’ খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে, আগের মতো আর হাসে না। সায়নীই ছিল গোটা পরিবারের চালিকাশক্তি, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবারের কারও আজ উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই।

‘ওদের মুখের দিকে তাকিয়েই ঘুরে দাঁড়াব’— অনুরাগীদের আশ্বাস মলির

লাইভে আসার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মলিদেবী তাঁর বাকি পোষ্যদের কথাই উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রথমে ভেবেছিলেন সায়নীকে ছাড়া আর কোনোদিন ক্যামেরার সামনে আসবেন না। কারণ তাঁর পুরো পৃথিবী জুড়ে শুধুই সায়নী ছিল। কিন্তু এই অবলা প্রাণীগুলোর মুখের দিকে তাকিয়েই তাঁকে বেঁচে থাকতে হবে এবং লড়তে হবে। সায়নীর অনুরাগীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়ে মলিদেবী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এই কঠিন পরিস্থিতি সামলে নিয়ে অবলা প্রাণীগুলোর জন্য তিনি আবারও নতুন কনটেন্ট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরে আসার চেষ্টা করবেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More