‘সুপ্রিয়াদেবীও বলেছিলেন তোমার মধ্য়ে মহানায়ককে দেখতে পাই…’! উত্তম কুমারের সঙ্গে তুলনা, সুদীপার কথায় কী বললেন দেব?
সম্প্রতি দাদাগিরির তারকা-স্পেশাল এপিসোডে এসেছিলেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টোরাজরা। সেখানেই উত্তম কুমারের সঙ্গে দেবের তুলনা করেন সুদীপা। দেবের থেকে কী জবাব এল তাতে?
এখনো বাঙালির পছন্দের অভিনেতার তালিকায় প্রথমেই নাম আসে উত্তম কুমারের। বাংলার ম্যাটিনি আইকন তিনি। মৃত্যুর পর ৪৬ বছর পরেও, তিনি বাঙালির হৃদয়ে একইভাবে রাজত্ব করে চলেছেন। কদিন আগে ধুমধাম করে অভিনেতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন হয়েছে তিলোত্তমায়। সামিল হয়েছিলেন টলিপাড়ার নামজাদা মুখেরা। ছিলেন দেব-জিৎ-প্রেসনজিৎও।

সম্প্রতি দাদাগিরির যে প্রোমো সামনে এসেছে সেখানে দেখা যায় দেব-এর প্রশংসায় সুদীপা চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘তোমার সঙ্গে কোথাও গিয়ে একটা বাঙালি দর্শক মহানায়ক উত্তমকুমারের মিল পায়।’
এমন প্রশংসায় দেব তাঁর এক পুরনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘সুপ্রিয়াদির বাড়িতে গিয়েছি। উনি আমাকে এই কথাই বলেছিলেন। তোমার মধ্য়ে মহানায়ককে দেখতে পাই। তোমার হাসি…’!
তবে দেব অবশ্য এই তুলনায় একেবারেই রাজি নন। তাঁর মতে, ‘মহানায়ক উত্তমকুমার একজনই হন। ওঁর পরে কাউকে আর সেই তুলনা করা যাবে না।’ আর দেবের এই কথা কেড়ে নেয় সেখানে উপস্থিত সকলের মন। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকও হাজির ছিলেন সেই এপিসোডে। তিনি বলে ওঠেন, ‘ওই জন্য তুমি দাদাগিরির ওখানে দাঁড়িয়ে (সঞ্চালক), আর আমরা এখানে (প্রতিযোগী)।’
তবে দেখা গেল দাদাগিরি-র এই প্রোমো আসতে ট্রোল করল নেটপাড়া। একজন কমেন্টে লেখেন, ‘সুদীপার মনে হয় চোখের কোনো সমস্যা হয়েছে। কোন বাঙালি দেবকে উত্তমকুমার মনে করে জানি না।’ দেবকে নিয়েও ট্রোল হয়। তবে অভিনেতার হয়ে জবাব দিতে আসরে নামেন অভিনেতার অনুরাগীরা। একজন কমেন্ট করেন, ‘আগে প্রোমোটা ভালো করে শুনুন। এটা সুদীপা বলেছে। এমন না যে দেব শিখিয়ে দিয়েছে। সাথে দেবের জবাবটাও শুনুন ট্রোল করার আগে।’ আরেকজন লেখেন, ‘দেব একদম ঠিক বলেছেন, মহানায়ক একজন। আর তিনি বলেন উত্তম কুমার।’
মহানায়ক উত্তম কুমার ও অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক ছিল চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের গল্প। ১৯৬৩ সাল থেকে উত্তম কুমারের মৃত্যুর (১৯৮০) আগ পর্যন্ত প্রায় ১৭ থেকে ২০ বছর তাঁরা একত্রবাস করেছিলেন। জানা যায় যে, ১৯৬৩ সালের পৌষ মাসে শালগ্রাম শিলাকে সাক্ষী রেখে তাঁরা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন। যদিও আইনত কোনোদিনই উত্তমকুমার স্ত্রী গৌরী দেবীকে ডিভোর্স দেননি। উত্তমকুমারের অসুস্থতায় দিনরাত সেবা করেছিলেন সাবিত্রীদেবী। এমনকী কেরিয়ারও বিসর্জন দিয়েছিলেন। তবে উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর সুপ্রিয়া দেবীকে তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একাকীত্ব ও নানা মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


