‘ট্রাম্পের মেয়ে কিন্তু আমায় ফলো করে…’! মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে জবাব দিলজিতের
গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে মার্কিন নাগরিকত্বের জল্পনা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম লাইভে সেই প্রসঙ্গ উঠতেই সরাসরি কোনও উত্তর না দিয়ে রসিকতার আশ্রয় নিলেন তিনি। একইসঙ্গে ভারতে জি ফাইভ থেকে তাঁর ছবি সতলুজ সরিয়ে নেওয়া নিয়েও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা।
সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভ সেশনে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সেখানে তাঁর কথিত মার্কিন নাগরিকত্ব, আমেরিকান পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন ওঠে। তবে কোনও দাবিই তিনি নিশ্চিত বা খণ্ডন করেননি। বরং হেসে বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি যা-ই বলি, সেটাই খবর হয়ে যায়।’ অভিনেতার কথায়, তাঁকে নিয়ে জল্পনা যেন কখনওই শেষ হয় না।

গ্রিন কার্ড প্রসঙ্গে মজার উত্তর
লাইভ চলাকালীন এক ভক্ত দিলজিৎকে মার্কিন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন। জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমি একটা কার্ড নিয়ে সেটাকে সবুজ রং করে দেব।’ এরপরই আবার তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বিষয় নিয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চান না।
'ভিসা ছাড়া সবাই যেন পৃথিবী ঘুরতে পারে'
লাইভে নিজের ভাবনাও ভাগ করে নেন দিলজিৎ। তাঁর মতে, পৃথিবী আরও উন্মুক্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভিসা ছাড়াই সবাই যেন পৃথিবীর যে কোনও দেশে যেতে পারে। পুরো পৃথিবী এক হয়ে যাওয়া উচিত।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়েকে নিয়ে কী বললেন?
এক ভক্ত মজা করে দিলজিৎকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সবাইকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেন। এই মন্তব্যে হেসে অভিনেতা বলেন, টআপনারা আমাকে কী ভাবেন? আমি তো শুধু একজন শিল্পী।' তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের মেয়ে তাঁকে ইনস্টাগ্রামে ফলো করলেও তাঁদের মধ্যে কখনও কোনও ব্যক্তিগত কথা হয়নি। দিলজিৎ বলেন, ‘আমি কখনও কারও কাছে কোনও অনুগ্রহ চাই না।’
কোথা থেকে শুরু হয় মার্কিন নাগরিকত্বের জল্পনা?
চলতি বছরের শুরুতে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দিলজিৎ ২০২২ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সেই বছর থেকেই তিনি আমেরিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, তাঁর স্ত্রী সন্দীপ কৌরও মার্কিন নাগরিক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ঠিকানাও নথিভুক্ত রয়েছে। তবে এই সমস্ত দাবি নিয়ে দিলজিৎ কখনও প্রকাশ্যে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য দেননি।
'সতলুজ' বিতর্ক নিয়েও মুখ খুললেন অভিনেতা
ইনস্টাগ্রাম লাইভের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর ছবি 'সতলুজ' নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাব দেওয়া। ছবিটি ভারতে জি ফাইভ-এ মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ছবিটি প্রায় তিন বছর মুক্তির অপেক্ষায় ছিল।দিলজিৎ জানান, সুযোগ পেলেই দর্শকদের ছবিটি দেখা উচিত। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, পঞ্জাব এবং ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে।
কেন সরানো হল জি ফাইভ থেকে?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রযুক্তি বিধিমালার উল্লেখ করে কেন্দ্র জি ফাইভ-কে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, ছবিটি প্রথমে 'পাঞ্জাব ৯৫' নামে সিবিএফসি-তে জমা পড়েছিল। সেন্সর বোর্ড ১২৭টি দৃশ্য বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিলেও নির্মাতারা তাতে সম্মত হননি। ফলে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ছাড়পত্র পায়নি। পরে ছবির নাম পরিবর্তন করে 'সতলুজ' রাখা হয় এবং সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হয়। যেহেতু ওটিটি রিলিজের জন্য সিবিএফসি-র ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক নয়, তাই ছবিটি স্ট্রিমিং শুরু হয়। পরে সরকারি নির্দেশের পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
কেন বিতর্কের কেন্দ্রে 'সতলুজ'?
সতলুজ ছবিটি পঞ্জাবের মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরা-র জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ২০২৩ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয় এবং সেখানে দিলজিৎ দোসাঞ্জের অভিনয় ও ছবির বিষয়বস্তু আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়। নির্বাচিত কয়েকটি দেশে ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ছবিটি মুক্তি পায়।
ভারতে ২ জুলাই জি ফাইভে স্ট্রিমিং শুরু হলেও ৫ জুলাই প্ল্যাটফর্মটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছবিটি সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


