OTT-তে মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ‘ব্যান’ দিলজিৎ-এর সুতলেজ, কেন্দ্র সরকারের ‘নিরাপত্তা’র কোপ, কেন?

মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত ছবি সুলতেজ এখনও জি ফাইভ গ্লোবালে স্ট্রিম হচ্ছে। তবে ভারতে এই ছবির স্ট্রিমিং বন্ধ। 

Published on: Jul 7, 2026, 09:00:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সেন্সর বোর্ডের সাথে দীর্ঘ তিন বছরের টানাপোড়েন এবং একাধিকবার নাম বদলের পর অবশেষে গত শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫ (ZEE5)-এ মুক্তি পেয়েছিল অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ (Diljit Dosanjh) অভিনীত বহুল চর্চিত ছবি ‘সুতলেজ’ (Satluj)। কিন্তু মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবারের প্রাইম টাইমে ভারতীয় দর্শকদের জন্য এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে আচমকাই গায়েব হয়ে গেল ছবিটি।

জি৫-এ মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ‘ব্যান’ দিলজিৎ-এর সুতলেজ,কেন্দ্র সরকারের কোপ! কেন
জি৫-এ মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ‘ব্যান’ দিলজিৎ-এর সুতলেজ,কেন্দ্র সরকারের কোপ! কেন

কেন এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা বা ‘শ্যাডো ব্যান’?

সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ পেয়েই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এই ছবি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে জি৫ কর্তৃপক্ষ। এর পেছনে ২০২১ সালের আইটি নিয়মের ‘বাধ্যবাধকতা’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ’-এর কারণ দর্শিয়েছে কেন্দ্র।

সেন্সর এড়াতে ওটিটি-র ছদ্মবেশ! আসল সত্য কী?

ছবিটির এই আকস্মিক অন্তর্ধানের কারণ খোলসা করে এক সরকারি আধিকারিক পিটিআই-কে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে এই ছবিটির নির্মাতারা যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন, তখন ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। সেই সময় সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) ছবিটিতে নজিরবিহীন ১২৭টি কাট সাজেস্ট করেছিল, যা মেনে নেননি নির্মাতারা। ফলে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তি আটকে যায়। সরকারি আধিকারিকের কথায়, 'নির্মাতারা সেন্সর বোর্ডের নির্দেশিত কাটগুলো নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করে, দীর্ঘদিন বসে রইলেন। এরপর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেহেতু সিবিএফসি (CBFC)-র এক্তিয়ারভুক্ত নয়, সেই সুযোগ নিয়ে তাঁরা ‘সুতলেজ’ নামে সম্পূর্ণ নতুন শিরোনামে কোনও কাট ছাড়াই ছবিটি ওটিটি-তে নিঃশব্দে রিলিজ করে দেন। বিষয়টি সরকারের নজরে আসতেই ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইন্সের অধীনে ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ’-এর কারণে জি-কে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে ছবি রিলিজ করতে হবে।

কে এই যশবন্ত সিং খালরা?

হানি ত্রেহান পরিচালিত এই ছবিটি পাঞ্জাবের ইতিহাসের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ছবিতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ মূলত মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরা (Jaswant Singh Khalra)-র চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাঞ্জাবে চরমপন্থী দমনের নামে পুলিশের বিরুদ্ধে হাজার হাজার অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ বেআইনিভাবে পুড়িয়ে ফেলার যে অভিযোগ উঠেছিল, যশবন্ত সিং খালরা তা নিয়েই তদন্ত করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে খালরা নিজেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরবর্তীকালে ২০০৫ সালে পাঞ্জাব পুলিশের চারজন কর্মীকে ওনাকে অপহরণ ও খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিষয়বস্তু অত্যন্ত রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল হওয়ায় সরকার মনে করছে এটি সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।

‘অফিস খোলার আগেই ব্যান আসবে জানতাম’— প্রতিক্রিয়া দিলজিতের

আমেরিকায় মিউজিক ট্যুরে থাকা দিলজিৎ দোসাঞ্জ সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে দিলজিৎ জানান, এমনটা যে ঘটবে তা তিনি আগেই আন্দাজ করেছিলেন।পাঞ্জাবিতে দিলজিৎ বলেন, ‘শুক্রবার ছবিটা রিলিজের সময়ই আমার মনে হয়েছিল এমন কিছু একটা ঘটবে। আমার মনে হয়েছিল সোমবার সরকারি অফিসগুলো খুললেই হয়তো ছবিটা ব্যান হবে, কিন্তু রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই যে এটা নামিয়ে দেওয়া হবে তা ভাবিনি। আমরা ছবিটার কোনো প্রচার (Promotion) করিনি, এভাবেই রিলিজ করে দিয়েছিলাম। প্রচার করলে দু’দিনও টিকত না। তবে আমি সন্তুষ্ট যে এর মধ্যেই মানুষ ছবিটা ডাউনলোড করে দেখে নিয়েছেন। যা বলার ছিল, তা মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।’

অন্যদিকে জি৫ কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, তারা ‘সুতলেজ’ এবং এই ছবির ক্রিয়েটিভ ভিশনের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াচ্ছে এবং আইনি ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ছবিটিকে ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে ভারতের বাইরে ‘জি৫ গ্লোবাল’ (ZEE5 Global)-এ ছবিটি এখনও দেখা যাচ্ছে। ছবিতে দিলজিৎ ছাড়াও অর্জুন রামপাল এবং সুবিন্দর ভিকি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More