Biryani: সিপিএমের পতাকা নিয়ে মন্তব্যে এখনও চর্চায় সায়ন্তিকা! জানেন কি কেন বিরিয়ানির হাঁড়িতে বাঁধা থাকে এই লাল কাপড়?
বিরিয়ানির হাঁড়ি আর সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিশ্চয়ই আপনারা কেউই ভোলেননি। কিন্তু জানেন কি, বিরিয়ানির পাত্রের গায়ে লাল কাপড় বাঁধার চল কীভাবে হয়েছিল?
কদিন আগেই বিরিয়ানির হাঁড়ি আর সিপিএমের পতাকা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বরানগরের তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের প্রচার চলাকালীন বাম শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘মেরুদণ্ড নেই, লাল পতাকা এখন তো শুধু বিরিয়ানির হাঁড়িতেই দেখা যায়, ওটাই ঢাকার কাজে লাগে’। অবশ্য এরপর সায়ন্তিকাকে এক হাত নিয়েছিলেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি সায়ন্তিকার করা মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেন যে, বিরিয়ানির হাঁড়িটাই সায়ন্তিকার মত দেখতে।

নির্বাচনের আবহে এরকম রাজনৈতিক তরজা নতুন কিছু নয়। যদিও বর্তমানে বঙ্গে সরকার গড়েছে বিজেপি সরকার। সিপিএমন বা তৃণমূল দুপক্ষই হেরে ভূত। তবে সায়ন্তিকাকে বা সিপিএমের পতাকা নিয়ে তৈরি হওয়া মিমগুলি এখনো রয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, কেন বিরিয়ানির হাঁড়িতে ব্যাবহার হয় লাল কাপড়?
কেন বিরিয়ানির হাঁড়ির গায়ে বাঁধা থাকে এই লাল কাপড়?
দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনতে গিয়ে নিশ্চয়ই এর আগে বহুবার এই লাল কাপড়টি আপনার চোখে পড়েছে। মাথায় প্রশ্নও এসেছে, কেন সবসময় বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড়েই জড়ানো থাকে। আপনিও যদি বিরিয়ানি-প্রেমী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে জানতে হবে বৈ কি!
লাল রংকে বরাবরই আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এখনও বিদেশ থেকে বড় কোনও অতিথি এলে পাতা হয় লাল গালিচা। অনেকেরই বিশ্বাস বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল রঙের কাপড় বাঁধা হয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তবে এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। এর পিছনে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন সাম্রাজ্য হারিয়ে ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন তখন তাঁকে পারস্য সম্রাট গালিচার উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে ছিলেন। সেইসময় হুমায়ুনকে খাদ্য পরিবেশনের সময় রুপালি পাত্রর খাবারগুলি লাল কাপড়ে ঢেকে ও চিনামাটির খাবারগুগুলি সাদা কাপড়ে ঢেকে তাঁর কাছে নিয়ে আসা হত পরিবেশনের জন্য়। যা মুগ্ধ করে হুমায়ুনকে। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাজ্যেও এই রীতি চালু হয়। খাবার পরিবেশনের এই প্রথা ও রঙের ব্যবহার লখনৌ শহরের নবাবরাও অনুসরণ করা শুরু করে দেন। মূলত রাজকীয় ও দামি খাবার বোঝাতে বিরিয়ানির হাঁড়ির গায়ে লাল কাপড় জড়িয়ে রাখার চল শুরু হয় তখন থকেই।
এবর থেকে না হয়, যখনই সায়ন্তিকার কথা উঠবে বা বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছে জাগবে আপনাদের মনে, তখন এই তথ্য পরিবার, পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে চমকে দেবেন সকলকে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


