‘শালা মরেও আমার জান জ্বালিয়ে গেল, অপয়া-মহাশয়তান লোক একটা, মরেছে বলে কি হেনস্থাকারীর দোষ খতম?’ নানার মৃত্যু নিয়ে তনুশ্রী
‘সাধুপুরুষ লোকটা? না, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন মানিয়া সুরভের মামাতো ভাই। শয়তান মরেছে। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অসুর…’, বোমা ফাটালেন বাঙালি অভিনেত্রী।
প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের আচমকা প্রয়াণের পর বি-টাউনে যখন শোকের ছায়া, ঠিক তখনই অভিনেতার মৃত্যুকে ‘শয়তানের মৃত্য়ু’ বলে কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির সেটে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী, যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভারতে ‘মিটু’ আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল।

নানার মৃত্যু নিয়ে কটূক্তির জেরে সোশ্যাল মিডিয়ার রোষের মুখে পড়েন তনুশ্রী দত্ত। ক্ষোভ প্রকাশ করে সারা ভারত অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিতর্কের জবাব বাঙালি নায়িকা লেখেন— ‘কেউ মারা গেলেই কি তাঁর অতীত অপরাধ বা শোষণ মুছে যায়? ভুক্তভোগীদের মনের ক্ষত কিন্তু থেকে যায়।’
ভিডিয়ো বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি যা সহ্য করেছি, কেউ চারদিন সহ্য করতে পারবে না। ২০২০-র পর আমার প্রাণনাশের চেষ্টা চলেছে। আমার জীবনের প্রতিটা দিন দুর্বিসহ হয়ে ওঠেছিল এই লোকটার জন্য। একা নয়, কে সাধুপুরুষ লোকটা? না, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন মানিয়া সুরভের মামাতো ভাই। শয়তান মরেছে। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অসুর… কিছুদিন আগের কথা, কালীমন্দিরে গিয়ে আমি কান্নাকাটি করছিল। বলিউড মাফিয়াদের একজন মরেছে। আমার মনের শান্তি, আমার কৃষ্ণ আমার প্রার্থনা শুনেছে।’
কড়া নিন্দা সারা ভারত অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের:
তনুশ্রীর এই ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (AICWA)। সংস্থার সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত এক বিবৃতিতে তনুশ্রীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘কারো মৃত্যুর পর এই ধরনের ‘ইভিল ডেড’ শব্দ ব্যবহার অত্যন্ত আপত্তিকর, সংবেদনহীন এবং লজ্জাজনক। AICWA এর চরম বিরোধিতা করছে।’

‘আইনি জটিলতা ও ট্রোলিং’-এর পাল্টা জবাব:
সংস্থার নিন্দা সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় তনুশ্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৮ সালে তিনি এফআইআর (FIR) করলেও প্রমাণের অভাবে ২০১৯ সালে পুলিশ কেস বন্ধ করে দেয় এবং সম্প্রতি ২০২৫ সালে মুম্বই আদালত সময়সীমা পার হওয়ার অজুহাতে মামলাটি খারিজ করেছিল। তনুশ্রীর স্পষ্ট দাবি, একজন মৃত মানুষকে ‘কিংবদন্তি’ তকমা দিয়ে তাঁর করা অপরাধগুলো সমাজ কীভাবে ভুলে যেতে পারে, তা ভেবেই তিনি অবাক!
তনুশ্রী নানা পাটেকরকে ‘বুড্ডা’ বলে উল্লেখ করে বলেন, 'হর্ন ওকের সেটে তখন আমার ২৪ বছর বয়স ছিল। কেরিয়ার তখন তুঙ্গে, অথচ আমাকে যে মেন্টাল ট্রমা দিয়েছিল তার জেরে আমি শ্যুটিং সেটে যেতে পারতাম না। ও শয়তান নয়, মহাশয়তান'। অভিনেত্রীর কথায়, পুলিশ-প্রশাসন তাঁকে ন্যায়বিচার দিতে পারেনি। তাই মা, তাঁর প্রার্থনা শুনেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


