Maya Satya Bhram: টক্সিকের জন্য় বাংলায় হল পাচ্ছে না প্রিয়াঙ্কা-সোহমের ছবি, বড় বিপদে মায়া সত্য ভ্রম, মানা হচ্ছে না নিয়ম?
বিশ্বের নানার চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত প্রিয়াঙ্কা-সোহমের মায়া সত্য় ভ্রম। অথচ বাংলাতেই ব্রাত্য এই ছবি, মুক্তির তিন দিন আগে মাথায় হাত নির্মাতাদের। টক্সিকের সাঁড়াশি চাপে বাংলাতে হলই পাচ্ছে না মায়া-সত্য-ভ্রম।
টক্সিকের ‘একনায়কতন্ত্র’-এর শিকার ইন্ডিপেনডেন্ট বাংলা ছবি ‘মায়া সত্য ভ্রম’। পরিচালক শমীক রায় চৌধুরী পরিচালিত এই ছবিতে লিড রোলে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং সোহম মজুমদার। ২৮শে অগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা এই ছবির। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সিনেমাহলই পাচ্ছে না ‘মায়া সত্য ভ্রম’।

মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দিল গোটা টিম। পরিচালক-প্রযোজক শমীক জানান, দুটো সরকারি হল নন্দন এবং রাধা-সহ মাত্র তিনটি হল পেয়েছে মায়া সত্য ভ্রম। অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর সুযোগটুকু দেওয়া হচ্ছে না এই ছবিকে। এই সপ্তাহে একটাই বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে, অথচ নিজের রাজ্যের ব্রাত্য বাংলা ছবি।
শমীক বলেন, টক্সিককে ৯০ শতাংশ বা ১০০ শতাংশ স্ক্রিন ছেড়ে দিতে হবে, এই শর্তেই নাকি যশের ছবিকে মুক্তি দিচ্ছে নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা।
হতাশা-র সুরে সোহম বলেন, ‘একটা বাংলা ছবি বাংলায় জায়গা পাবে না। এমন নয়, আমরা কম শো পাচ্ছি, আমরা শো-ই পাচ্ছি না। আমি ভাবতে পারছি না, আমাদের একটা লাইভ করতে হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। আমি এই মুহূর্তে খুব রেগে আছি। সব নিয়ম মেনে এই ছবিটা তৈরি হয়েছে। আমরা ফ্রি-তেও হল চাইছি না।’
সোহম আরও বলেন, ‘আমরা যদি ৩টে শো-ও পাই, তাহলেও আমরা ওই দিনই ছবিটা মুক্তি পাবে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।…. কোনও তামিল ছবি চেন্নাইতে এইভাবে সাফার করবে না। স্ট্রাগল থাকবে কিন্তু আমি বাংলায় বাংলা ছবি দেখাতে পারব না এটা হতে পারে না। আমি টক্সিকের বিরুদ্ধে নই। কারণ আমিও তো এই ধরণের ছবির অংশ থেকেছি। কিন্তু এটা তো বুলিং।’
সোহম বলেন, ‘নির্দিষ্ট অথোরিটি জানো এটা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়, এটাই চাই। সিস্টেম, গর্ভমেন্ট সবার কাছে অনুরোধ এটা চলতে পারে না। অনুরোধ করছি, দয়া করে এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিন। আগেও অনেক সিনিয়র পরিচালককে দেখেছি এই ধরণের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। যখন অন্য ভাষার ছবির জন্য তাঁদের ছবি মুশকিলে পড়েছে, কিন্তু তখনও তারা ৫০-৬০টা শো পেয়েছে। সে জায়গায় আমরা মাত্র ৩টে শো পেয়েছি…’।
এই লাইভের কমেন্ট বক্সে প্রযোজক রানা সরকার বলেন, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সরকারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে এই ব্য়াপারে। দয়া করে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরে যোগাযোগ করো’।
গত বছর অগস্ট মাসে মমতা সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বলা হয় ৩৬৫ দিনই সিনেমা হলে অন্তত একটা বাংলা ছবির শো চালাতে হবে কর্তৃপক্ষকে। তাহলে কি সরকারের সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন হল মালিকরা? নাকি সরকার বদলের পর পরিবর্তন এসেছে সেই নিয়মে? এখন দেখবার সোহম-প্রিয়াঙ্কার ছবি কি সত্যি টক্সিকের সাড়াঁশি চাপে জায়গা পাবে না নিজের রাজ্যে? এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখবার।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


