Titikkha-Papiya: অরূপ বিশ্বাস হেরে ভূত! টলিগঞ্জে পদ্ম ফোটালেন শাশুড়িমা,পাপিয়াকে শুভেচ্ছা ‘বউমা’ তিতিক্ষার
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে বড় অঘটনটি বোধহয় ঘটে গেল টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে। দীর্ঘদিনের আধিপত্য আর ‘বিশ্বাস ব্রাদার্সের’ দর্প চূর্ণ করে শেষমেশ জয়ের হাসি হাসলেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। পাপিয়া অধিকারীর পর্দার ‘বউমা’ তিতিক্ষা দাসের আবেগঘন শুভেচ্ছা বার্তা এখন চর্চার বিষয়।
টালিগঞ্জ মানেই ছিল অরূপ বিশ্বাস আর স্বরূপ বিশ্বাসের একাধিপত্য। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফল যেন সেই দীর্ঘদিনের মিথ ভেঙে চুরমার করে দিল। হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসকে পরাজিত করে বিধানসভার পথে পা বাড়ালেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানালেন অভিনেত্রী তিতিক্ষা দাস, যিনি ‘দত্ত অ্যান্ড বউমা’ ধারাবাহিকে পাপিয়ার ‘বউমা’র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জিতেছিলেন।

তিতিক্ষার আদুরে বার্তা:
পাপিয়ার সঙ্গে একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করে তিতিক্ষা লিখেছেন, ‘আমার জীবনের প্রথম কো-অ্যাক্টর পাপিয়া অধিকারীকে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন। জয় হিন্দ, জয় ভারত!’ তিতিক্ষার এই পোস্ট থেকে স্পষ্ট যে, পর্দার বাইরেও তাঁদের সম্পর্ক ঠিক কতটা গভীর। রাজনৈতিক লড়াই যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কাছে যে সবকিছু তুচ্ছ, তিতিক্ষার এই পোস্ট তারই প্রমাণ।
বিশ্বাস ব্রাদার্সের পতন:
টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার অঘোষিত সম্রাট হিসেবে পরিচিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু এবার ‘পরিবর্তন’ দেখল এই কেন্দ্র। পাপিয়া নিজের এই জয়কে ‘সাধারণের জয়’ হিসেবে দেখছেন। ভোটের প্রচারে পাপিয়া বারবার বলেছিলেন, স্টুডিও পাড়ায় যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা তিনি বদলাতে চান। ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর দেখা গেল, ভোটাররা পাপিয়ার সেই ডাকই শুনেছেন। জয়ের মালা গলায় পরেও পাপিয়া বলেন, ‘ওই দুই ভাই তো কাউকে কাজই করতে দেয়নি। আমি স্বপ্নের টলিগঞ্জ গড়ব’।
পর্দার লড়াই এবার বিধানসভায়:
পাপিয়া অধিকারী মানেই এক সময়ের দাপুটে নায়িকা, আর এখন ছোট পর্দার প্রিয় মুখ। ‘দত্ত অ্যান্ড বউমা’ ধারাবাহিকে তাঁর তেজস্বিনী রূপ মানুষ পছন্দ করেছিলেন। এবার সেই তেজ নিয়েই তিনি পা রাখতে চলেছেন বিধানসভায়। তিতিক্ষার মতো তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের সমর্থন পাপিয়ার এই জয়কে আরও বর্ণময় করে তুলেছে।
বিজয়োল্লাসে টলিপাড়া:
পাপিয়ার এই জয়ে টলিপাড়ার অন্দরেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ‘লবিবাজি’ খতম হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন অনেকেই। পাপিয়া জানিয়েছেন, তাঁর এই জয় কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, বরং টালিগঞ্জের প্রতিটি মানুষের এবং সেই সব শিল্পীর যারা ভয় না পেয়ে নিজের কাজটা করতে চায়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


