'কমলা নিবাস'-এ দেবাদৃতার বিপরীতে পরম! 'অনেক সময় যে দ্বিধাটা কাজ করে…', নায়কের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন নায়িকা

জি বাংলায় নতুন মেগা 'কমলা নিবাস' আসছে। এই মেগাতেই বেশ কিছুটা বিরতির পর 'পল্লবী'র চরিত্রে ধরা দেবেন অভিনেত্রী দেবাদৃতা বসু। বিরতির পর নতুন চরিত্রে ফেরা থেকে দেবশঙ্কর-সোহিনী-পরমদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে কথা বললেন দেবাদৃতা।

Published on: Mar 10, 2026, 09:01:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

জি বাংলায় নতুন মেগা 'কমলা নিবাস' আসছে। এই মেগাতেই বেশ কিছুটা বিরতির পর 'পল্লবী'র চরিত্রে ধরা দেবেন অভিনেত্রী দেবাদৃতা বসু। নতুন মেগায় তাঁর বাবা-মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করবেন দেবশঙ্কর হালদার ও সোহিনী সেনগুপ্ত। এখানেই শেষ নয় ধারাবাহিকে নায়িকার বিপরীতে দেখা মিলবে পরমব্রত চট্টপাধ্যায়ের। বিরতির পর নতুন চরিত্রে ফেরা থেকে দেবশঙ্কর-সোহিনী-পরমদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে কথা বললেন দেবাদৃতা।

'কমলা নিবাস'-এ দেবাদৃতার বিপরীতে পরম! 'অনেক সময় যে দ্বিধাটা কাজ করে…', নায়কের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন নায়িকা
'কমলা নিবাস'-এ দেবাদৃতার বিপরীতে পরম! 'অনেক সময় যে দ্বিধাটা কাজ করে…', নায়কের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন নায়িকা

বেশ কিছুটা বিরতির পর মেগায় ফেরা। মাঝের সময়টা কেমন কাটলো দেবাদৃতার? তিনি বলেন, ‘ভালোই কেটেছে। কাছের মধ্যে, মেগার শিডিউলের মধ্যে তো পরিবারকে ভালো ভাবে সময় দেওয়া যায় না। নিজের অন্যান্য কাজও করা যায় না। এই বিরতিতে সেই সব কাজগুলো করতে পেরেছি। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে পেরেছি।’

পল্লবী হয়ে ধারাবাহিকে ফিরছেন তিনি। তাঁর চরিত্রটা ঠিক কেমন? প্রশ্নে দেবাদৃতা বলেন, ‘মেগায় আমার চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা নরম মনের মেয়ে। তবে খুব চাপা। অন্যান্য অনেক মেয়ের মতো সেও বিয়ে, একটা সংসারের স্বপ্ন দেখে। আবার অন্যদিকে তার মা-বাবার স্বপ্ন একটা বাড়ির। এই টানাপোড়েনটা মেয়েটার মধ্যেও অনেক প্রভাব ফেলে। গল্প যত এগোবে, তত ভালো করে চরিত্রটাকে চেনা যাবে। এই চরিত্রটা ভীষণ ভালনারেবল। তাই খুব যত্ন নিতে হচ্ছে। পল্লবী চরিত্রটার সঙ্গে দর্শকরা রিলেট করতে পারবেন। কারণ এই চরিত্রটা আমাদের আশপাশ থেকেই নেওয়া।’

তবে নতুন মেগায় একাধিক চমক নিয়ে ফিরেছেন নায়িকা। তাঁর মা-বাবার ভূমিকায় দেখা মিলবে দেবশঙ্কর-সোহিনীর। এমন সব শক্তিশালী অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা ঠিক কেমন? অভিনেত্রীর কথায়, 'ওঁদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভীষণ ভালো। দু'জনকে আগে অনেক আগে থেকে আমি ফলো করি। ওঁরা তো ভীষণ ভালো অভিনেতা। কিন্তু যখন একসঙ্গে ফ্লোরে কাজ করি তখন কখন ওঁরা অনুভব করান না যে, কার কী ব্যাকগ্রাউন্ড। তার পরিবর্তে আমাদের একে অপরের সঙ্গে যে সুন্দর রসায়ন সেটা পর্দায় ফুটে উঠবে।'

দেবাদৃতা আরও বলেন, 'আমার ব্যক্তিগত ভাবে ভীষণ ভালো লাগছে। কারণ আমি দেবুদার (দেবশঙ্কর হালদার) সঙ্গে অনেক আগে থেকে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমাদের থিয়েটারে কাজ হয়েছিল। আমার বাবা, আমার বোন ওঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু আমি মেগার জন্য করতে পারিনি। এবার ওঁর সঙ্গে কাজ করতে পারব। পাশাপাশি ওঁকে আমরা একটু অন্যরকম ভাবে দেখতে পাবো, এটা আমার খুব ভালো লাগছে।'

কিন্তু এমন সব সিনিয়র অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ, তাঁদের থেকে কী কী টিপস পেলেন নায়িকা? এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেই দেবাদৃতা জবাব দেন, ‘আমি ওটা কখনও অনুভব করিনি যে ওঁরা আমাকে টিপস দিচ্ছেন বা সে রকম কিছু। কিন্তু আমি নিজে নিজে শিখছি ওঁদের কাজ দেখে। তবে এটা কেবল সিনিয়র বলে নয়। আমার থেকে জুনিয়র হোক বা আমার সমবয়সী, সকলের থেকেই আমি শেখার চেষ্টা করি। আর ওঁরা ভীষণ ভাবে সব কিছুতে সাহায্য করেন। ওঁরা মানুষ হিসেবে এত ওপেন যে, আলাদা করে মনে হয় না ওঁরা কিছু শেখাচ্ছেন। একটা কথোপকথোনের মধ্যে দিয়েই সবটা সুন্দর ভাবে হয়ে যায়।’

কিন্তু কেবল দেবশঙ্কর-সোহিনী নন, নায়িকার বিপরীতে থাকবেন পরমব্রত সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরমদা খুবই প্রতিভাবান অভিনেতা। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ও ভীষণ ভালো। সব সময় ভীষণ ভাবে সাহায্য করে। নতুন কাজ করলে অনেক সময় যে দ্বিধাটা কাজ করে পরমদার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সেটা কখনও মনে হয়নি। অনেক দিন পর পরমদা মেগায় ফিরছেন সেটাও একটা ভালোলাগার জায়গা।’

তবে এত কিছুর পরও টিআরপি শেষ কথা বলবে। টিআরপি এই চাপ কাজের উপর কতটা প্রভাব ফেলে? প্রশ্নে দেবাদৃতা বলেন, ‘এটা তো কেবল মেগা নয়, ছবির ক্ষেত্রেও কোন ছবি চলবে বা চলবে না সেটার একটা চাপ থাকে। তেমন কোন মেগা চলবে বা চলবে না তার একটা চাপ তো থাকবেই। আর সব সময় যে মেগা হিট হবে এমনটাও নয়। এটাই স্বাভাবিক। কিছু ভালো লাগবে, কিছু খারাপ লাগবে। আবার নতুন আসবে এভাবেই হয়।’

তবে বর্তমানে বেশ কিছু মেগা খুব অল্পদিনের মধ্যেই টিআরপির কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে তা দেবাদৃতা কীভাবে দেখছেন? প্রশ্নে নায়িকার সাফ জবাব, ‘অনিশ্চয়তা অনেক দিন আগে থেকেই ছিল। এটা আলাদা করে, নতুন করে দেখার কিছু নেই। আমার মনে হয় টিআরপি চাপটা থাকা ভালো। প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকলে সেটা নিজের উন্নতির জন্যই ভালো। সেটা না হলে, চলছে, চলবে, একটা গা ছাড়া ব্যাপার চলে আসবে।’