চলতে চলতে-সহ ৫টা ছবি থেকে ঐশ্বর্যকে বের করে দেন শাহরুখ! পরে চেয়েছিলেন ক্ষমা, নেপথ্যে সলমন
চলতে চলতে ছবিতে রানি নয়, নায়িকা ছিলেন ঐশ্বর্য। শ্যুটিং শুরুর পর কেন তাঁকে ছবি থেকে বের করে দেন শাহরুখ?
বলিউডের পর্দায় শাহরুখ খান এবং ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের জুটি সবসময়ই হিট। 'দেবদাস', 'মহব্বতেঁ' -এর মতো একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমায় তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। যদিও তাঁদের অনস্ক্রিন জার্নির শুরুটা ভাইবোন (জোশ) হিসাবে। একটি সময় এমনও এসেছিল যখন শাহরুখের প্রযোজনায় তৈরি হতে যাওয়া প্রায় ৫টি ছবি থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল ঐশ্বর্যকে।

'চলতে চলতে' ছবি এবং সেট-এর ঝামেলা
২০০৩ সালের জনপ্রিয় ছবি 'চলতে চলতে'-র প্রথম পছন্দ ছিলেন ঐশ্বর্য রাই। কিন্তু শুটিং শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর বদলে ছবিতে এন্ট্রি নেন রানি মুখোপাধ্যায়
সলমন খানের হাঙ্গামা: গুঞ্জন ও একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় ঐশ্বর্য ও সলমন খানের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। সলমন চলতে চলতে ছবির সেটে এসে ঐশ্বর্যর ঝামেলা সৃষ্টি করেন, যার ফলে শুটিংয়ে বাধা সৃষ্টি হয় এবং পুরো টিমের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়।
ক্ষমা চেয়েও মেলেনি সমাধান: পরবর্তী সময়ে সলমন ও ঐশ্বর্য দুজনেই শাহরুখের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেও প্রযোজক ও মেকার্সরা আর ঝুঁকি নিতে চাননি।
এক ধাক্কায় ৫টি ছবি হাতছাড়া ঐশ্বর্যর
প্রখ্যাত সঞ্চালক সিমি গারেওয়ালের চ্যাট শো-তে এসে ঐশ্বর্য নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, শাহরুখ খানের সাথে তাঁর অন্তত ৫টি সিনেমা হাতছাড়া হয়েছিল। 'চলতে চলতে' ছাড়াও সেই তালিকার মধ্যে ছিল 'বীর জারা' এবং 'কল হো না হো'-র মতো সুপারহিট সিনেমা।
ঐশ্বর্য সেই সাক্ষাৎকারে নিজের মনের কষ্ট প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘কিছু ছবি ছিল যা তিনি আমার সাথেই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়া আমাকে ছবিগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি আমার ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ অবাক ও মানসিক আঘাত পাবে, আর আমিও সেটাই পেয়েছিলাম।’
অনুতপ্ত শাহরুখ ও পেশাদার সিদ্ধান্ত
পরবর্তীকালে শাহরুখ খান নিজেও স্বীকার করেন যে ঐশ্বর্যকে এভাবে ছবি থেকে বাদ দেওয়াটা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। তিনি এর জন্য ঐশ্বর্যর কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
প্রযোজক হিসেবে বাধ্যবাধকতা: শাহরুখ জানান, একক প্রযোজক হিসেবে তাঁর হাত বাঁধা ছিল। তাঁর সাথে UTV এবং আরও ১০-১১ জনের একটি টিম যুক্ত ছিল। তিন-চার মাসের মধ্যে শুটিং শেষ করার একটা বড় চাপ ছিল এবং কোম্পানির সুনাম বা ক্ষতি এড়াতেই এই যৌথ পেশাদার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
শাহরুখ সবসময়ই ঐশ্বর্যকে তাঁর অন্যতম প্রিয় সহ-অভিনেত্রী এবং অত্যন্ত পেশাদার শিল্পী হিসেবে গণ্য করেন। সলমনের সঙ্গে প্রেম ভাঙার বড় খেসারত দিতে হয়েছিল ঐশ্বর্যকে। তবে ভেঙে পড়েননি রাই সুন্দরী। নিজের শর্তেই নিজের কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। পরবর্তীতে কেরিয়ারের শীর্ষে অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন অ্যাশ। মাতৃত্বের পর নিজের কেরিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে আরাধ্যাকে নিজের পুরো সময় দিয়েছেন তিনি।
শাহরুখ খান বলেছিলেন, প্রযোজক হিসেবে আমার হাত বাঁধা ছিল কারণ আমিই একমাত্র প্রযোজক নই। আমার একদল টিম আছে এবং এবার ইউটিভিও আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। এটি 10-11 জন একসাথে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ছিল। শাহরুখ খান বলেছিলেন যে কোম্পানির বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকির মধ্যে ছিল এবং প্রযোজকরা 3-4 মাসের মধ্যে ছবিটি শেষ করতে চেয়েছিলেন। কথোপকথনে শাহরুখ খান ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রশংসা করে বলেছিলেন যে তিনি খুব পেশাদার এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি একটি পেশাদার সিদ্ধান্ত ছিল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


