Kriti Sanon: কৃতির ‘বিকিনি’ পোশাক নিয়ে বিতর্ক, ভারতীয় সংস্কৃতিকে অবমাননা, ক্ষমা চেয়ে রাখির বিজ্ঞাপন সরালো GIVA
‘কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত’, ক্ষমা চেয়ে কৃতির রাখির বিজ্ঞাপন মুছে দিল সংস্থা। কী ঘটেছে?
রাখি বন্ধনের মরশুমে এক জুয়েলারি সংস্থার নতুন বিজ্ঞাপন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক জনরোষ। GIVA সংস্থার বিজ্ঞাপনে বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের (Kriti Sanon) পরনের পোশাক নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ মারাত্মক আপত্তি তোলেন। সংস্কৃতি অবমাননার অভিযোগে তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মাধ্যম থেকে বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।

বিতর্কের সূত্রপাত:
গত ২০ জুলাই সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। সেখানে কৃতির পোশাকের ধরন দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেটিজেনরা। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী উৎসবে এই ধরণের আধুনিক পোশাক পরার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ওঠে, উৎসবের দিনেও কেন ভারতীয় সংস্কৃতি বজায় রাখা হবে না?
এই বিতর্কে মুখ খোলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। কৃতির নাম সরাসরি না নিলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে কঙ্গনা লেখেন, ‘আজকের দিনে মহিলাদের আলমারিতে শাড়ি, লেহেঙ্গা, সালোয়ার কামিজ থেকে শুরু করে সমস্ত ধরণের বৈচিত্র্যময় পোশাকের অভাব নেই। এত বিকল্প থাকা সত্ত্বেও নিজের দাদাকে রাখি বাঁধার সময় কেন কেউ বিকিনি বা অন্তর্বাস সদৃশ পোশাক বাছবেন? পোশাকের নির্বাচনটা যেন ইচ্ছে করেই অদ্ভুত আর দৃষ্টিকটু করা হয়েছে!’
কৃতির সপাট জবাব:
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের শিকার হয়ে নীরব থাকেননি কৃতি শ্যাননও। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কৃতি স্পষ্ট জানান, কোনো উৎসবের মূল ভাবাবেগ লুকিয়ে থাকে হৃদয়ে, পরনের পোশাকে নয়।
সংস্কৃতি বনাম পোশাক: কৃতি লেখেন, ‘আমরা নারীদের কী পরা উচিত তা নিয়ে কথা বলা কবে বন্ধ করব? যুগের সঙ্গে সঙ্গে এথনিক ফ্যাশনের বদল ঘটেছে, কিন্তু এখনও একজন নারী তাঁর সংস্কৃতিকে কতটা সম্মান করেন তা মোপা হয় তাঁর জামার নেকলাইন দেখে! সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য থাকে হৃদয়ে, জামার গলার মাপে নয়।’
: তিনি আরও যোগ করেন, রাখি বন্ধন হল ভালোবাসার সম্পর্ক ও সুরক্ষার অঙ্গীকার। তিনি ও তাঁর বোনও একে অপরকে রাখি বাঁধেন এবং তাঁদের এই ভালোবাসা পোষ্য কুকুরের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য, কারণ তারাও পরিবারেরই অংশ।
পিছু হঠল সংস্থা:
নেটিজেনদের লাগাতার বয়কট ও বিতর্কের মুখে অবশেষে বুধবার ইনস্টাগ্রাম থেকে বিবৃতি জারি করে ক্ষমা চায় সংস্থাটি। সংস্থা জানায়: ‘আমরা ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখি। সমস্ত পরিবারের সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এবং এবার আমরা সেই ভালোবাসার পরিধি পোষ্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। আমাদের এই বিজ্ঞাপনে যদি অসাবধানতাবশত কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
সামাজিক ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞাপনটি সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের ওই ইনস্টাগ্রাম পোস্টটির কমেন্ট সেকশনও বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


