Gourav-Riddhima: শাশুড়ি প্রয়াত, আচার মেনে গৌরবকে জামাইষষ্ঠীর ভোজ খাওয়ালেন ঋদ্ধিমার বাবা
পুরোনো বিষাদ আর স্মৃতির মেঘ সরিয়ে, সমস্ত নিয়ম-আচার মেনে গৌরব চক্রবর্তীকে রাজকীয় ভোজে আপ্যায়ন করলেন ঋদ্ধিমার বাবা। আর এই আয়োজনে খুশির হাওয়া চার গুণ বাড়িয়ে দিল ঋদ্ধিমা-গৌরবের চোখের মণি— পুচকে ধীর।
২০২১ সালের সেই কঠিন সময়ে কোভিডের কেড়ে নেওয়া মায়ের স্মৃতি আজও ম্লান হয়নি ঘোষ পরিবারে। তবে ঋদ্ধিমার মা রিমা ঘোষ আজ ইহজগতে না থাকলেও, পরিবারের চিরন্তন ঐতিহ্য আর স্নেহের রীতিতে কোনো খামতি পড়তে দিলেন না ঋদ্ধিমার বাবা। জামাই গৌরব চক্রবর্তীকে স্নেহের বাঁধনে আগলে রেখে করলেন এলাহী জামাই আদর। আর এই আবহে আনন্দের হাওয়া চার গুণ বাড়িয়ে দিল ঋদ্ধিমা-গৌরবের কোলের পুচকে সন্তান— ছোট্ট ধীর।

তিন প্রজন্মের মেলবন্ধন
উৎসবের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এল এক মিষ্টি পারিবারিক ছবি। সেখানে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন তিন প্রজন্ম। নীল-ধূসর নকশাদার পাঞ্জাবিতে সেজেছেন জামাই গৌরব চক্রবর্তী। পাশে গাঢ় নীল ও সাদা পোশাকে হাসিমুখে ঋদ্ধিমা। আর তাঁদের মাঝখানে লাল টি-শার্টে খিলখিল করছে ছোট্ট ধীর। ডানদিকে ট্র্যাডিশনাল সিল্কের পাঞ্জাবিতে ঋদ্ধিমার বাবা— জামাই ও নাতিকে পাশে পেয়ে তাঁর মুখেও চওড়া হাসি। মাতৃবিয়োগের বিষাদ ও শূন্যতাকে কাটিয়ে ধীরের নিষ্পাপ উপস্থিতি যেন পুরো পরিবারের মুখে এক লহমায় আলো এনে দিয়েছিল।
পাতের পর পাতে পঞ্চব্যঞ্জন: ষষ্ঠীর রাজকীয় মেনু
জামাইষষ্ঠী মানেই তো জিভে জল আনা বাঙালি ভূরিভোজ। গৌরব চক্রবর্তীর পাতের জন্য সাজানো হয়েছিল একেবারের রাজকীয় মেনু। কাঁসা ও কাপ বাটির ছোঁয়ায় টেবিল জুড়ে যা যা পদ দেখা গেল, তার একটি খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
প্রধান অন্ন: থালার এক কোণে সুন্দর করে পরিবেশন করা সুগন্ধী বাসন্তী পোলাও এবং পাশে ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত।
ভাজাভুজির বাহার: একটি থালায় গোল করে কাটা মুচমুচে বেগুন ভাজা, পটল ভাজা, ঢ্যাঁড়শ ভাজা ও আলু ভাজা। এর পাশাপাশি পাতে রয়েছে সোনালী করে ভাজা বড় এক টুকরো ফিশ ফ্রাই এবং তোপসে মাছ ভাজাl
তরকারি ও ডাল: খাওয়া শুরুর জন্য বাটি ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে খাঁটি বাঙালি শুক্তো এবং সাথে রয়েছে ঘন সোনা মুগের ডাল।
আমিষের যুগলবন্দী: মাছের পদের মধ্যে বাটিতে সাজানো ঘন গ্রেভি সহ মাছের কالية এবং অন্য বাটিতে রাজকীয় গলদা চিংড়ির মালাইকারি। মাংস ছাড়া কি আর জামাই আদর জমে? তাই সাথে ছিল কড়া করে কষানো মাংসের বাটি।
মিষ্টিমুখ ও শেষ পাত: চাটনি-পাপড়ের পর শেষ পাতে ছিল এলাহী আয়োজন। রুপোর থালায় সাজানো রসগোল্লা, ল্যাংচা ও দু'রকমের সন্দেশ। সাথে হিমসাগর আমের টুকরো এবং জামাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনায় বাটি ভরা ঘন ক্ষীরের পায়েস।
মায়ের স্মৃতিকে বুকে নিয়েই, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ঘোষ বাড়ির জামাইষষ্ঠী আরও একবার ভালোবাসায় ও আন্তরিকতায় পূর্ণ হয়ে উঠল।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


