‘কেন তামাশায় পরিণত হল…’, গোবিন্দা-সুনীতার ডিভোর্স-চর্চা নায়কের মরা কেরিয়ারে প্রাণ ফেরাতে ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ নয় তো?

গোবিন্দা ও সুনীতা আহুজার সম্পর্কের মধ্যে ফাটলের খবর দীর্ঘদিন ধরেই শিরোনামে রয়েছে। সুনীতা প্রকাশ্যে গোবিন্দার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন এবং এখন তিনি সম্প্রতি তার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

Published on: Aug 20, 2026, 15:40:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বুধবার পারিবারিক আদালতের বাইরে সুনীতা আহুজাকে দেখা যাওয়ায় তাঁদের সম্ভাব্য বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে যশবর্ধন। তবে পরে গোবিন্দার ম্যানেজার স্পষ্ট করেন যে, সুনিতা তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গোবিন্দার ম্যানেজার শশী সিনহাকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে, সুনীতা যদি শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রত্যাহারই করবেন, তবে কেন তিনি তা করেছিলেন? তখন তিনি এ বিষয়ে নিজের মতামত জানান।

গোবিন্দা ও সুনীতা।
গোবিন্দা ও সুনীতা।

গোবিন্দা ও সুনীতার ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব

এনটিডি (NTD)-র সঙ্গে কথা বলার সময় গোবিন্দা মন্তব্য করেন যে, সুনীতার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করাটা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, বিষয়টি কেন জনসমক্ষে আনা হল তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁদের দম্পতি-জীবনের বিবাদ সংবাদমাধ্যমে চর্চিত হচ্ছে, যা তাঁদের ভাবমূর্তি ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

‘কেন বিষয়টি তামাশায় পরিণত হল…’

তিনি আরও বলেন, ‘এত দূর যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। পারিবারিক বিষয়গুলো বাড়িতে বসে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। যদি আজ আবেদন প্রত্যাহারই করতে হত, তবে কেন তা প্রথমে দায়ের করা হয়েছিল? এটাই আমাকে ব্যথিত করে। কেন আমরা নিজেদের নিয়ে এমন তামাশা তৈরি করলাম?’

‘আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত’

তিনি যোগ করেন যে, এই ঘটনায় গোবিন্দার বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর সবাইকে সুবুদ্ধি দিন; সবাই যেন কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন আচরণ করেন—এটাই আসল কথা। পরিবারের মধ্যে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান করা উচিত। সমস্যা কখনও কখনও জটিল আকার ধারণ করতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার সমাধান সম্ভব নয়।’

উল্লেখ্য যে, বুধবার আদালতের বাইরে সুনীতাকে দেখার পর পাপারাজ্জিরা যখন তাঁকে সেখানে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি একটি জন্মদিন উদযাপনের জন্য সেখানে এসেছেন।

গোবিন্দার বিরুদ্ধে সুনীতার প্রকাশ্যে অভিযোগ

এর কয়েক দিন আগে, গোবিন্দাকে যখন বিমানবন্দরে তাঁর সহ-অভিনেত্রী কোমল রানির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, তখন সুনীতা নিজের বরকে 'সুগার ড্যাডি' (sugar daddy) বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, নিজের মেয়ের বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর জন্য গোবিন্দার লজ্জা হওয়া উচিত।

গোবিন্দার প্রতিক্রিয়া

তবে পরে গোবিন্দা একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করে বলেন যে, সুনীতার জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করা উচিত নয় এবং তাঁর উচিত সীমার মধ্যে থাকা। তিনি সুনিতাকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অনুরোধ জানান।

পাবলিসিটি স্টান্ট নয় তো?

তবে সুনীতা ও গোবিন্দার এভাবে প্রকাশ্যে কখনো একে-অপরের নামে ভিডিয়ো বানিয়ে, বা মিডিয়ায় মুখ খুলে চলেছেন গোবিন্দা ও সুনীতা লম্বা সময় ধরে। এদিকে বহুসময়ই বহুদিন বাদে গোবিন্দা ফেরত আসছেন প্রেক্ষাগৃহে। ফ্লপ কেরিয়ারের মোড় ঘোরাতে জেনেবুঝে এই তর্কাতর্কি, মত নেটপাড়ার একাংশের। নেটপাড়ার ধারণা, এভাবেই হয়তো খবরে থাকতে চাইছেন গোবিন্দা। আর ডিভোর্সের পুরো ব্যাপারটাই নাটকীয় ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More