Govinda Daughter: ‘আমি তো আর সাধু নই!' বাবা-মা'র ডিভোর্স চর্চা,পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব গোবিন্দা কন্যা

গোবিন্দা এবং সুনীতার দাম্পত্য ভাঙার গুঞ্জন নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মেয়ে টিনা আহুজা। বাবার পরকীয়া চর্চা নিয়েও নীরবতা ভাঙলেন গোবিন্দা-কন্যা।

Published on: Jun 17, 2026, 20:04:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউডের ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ গোবিন্দার দাম্পত্য কলহ মাস কয়েক ধরেই চর্চায়। স্ত্রী সুনীতা আহুজা প্রকাশ্যে নায়কের পরকীয়া নিয়ে মন্তব্য় করেছেন, বারংবার তাঁদের ডিভোর্সের গুঞ্জন সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল— যুগের পর যুগ ধরে এই তারকা দম্পতির সম্পর্ক ভাঙা-মুখরোচক খবর পেজ থ্রি-র পাতা ভরালেও তারকা দম্পতির দুই সন্তান মারাত্মকভাবে প্রভাবিত।

‘আমি তো আর সাধু নই!' বাবা-মা'র ডিভোর্স চর্চা,পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব গোবিন্দা কন্যা
‘আমি তো আর সাধু নই!' বাবা-মা'র ডিভোর্স চর্চা,পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব গোবিন্দা কন্যা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই অন্তহীন গুঞ্জন ও বিবাহবিচ্ছেদের ভুয়ো খবর নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট উগরে দিলেন গোবিন্দা-কন্যা টিনা আহুজা (Tina Ahuja)। মা সুনীতার সাম্প্রতিক কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য এবং বাবার ‘পরকীয়া’ বিতর্ক নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

‘আমি কোনও সাধু-সন্ত নই যে গায়ে লাগবে না’— টিনা আহুজা

‘দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে টিনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মা-বাবার সম্পর্ক নিয়ে নানারকম নোংরা রটনা দেখে বড় হয়েছেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে এই গসিপের ধরনও বদলেছে।

টিনার কথায়, ‘আমি এই জিনিসটা একদম ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। প্রতি দশকে এদের কাছে একটা নতুন গল্প থাকে। আগে এগুলো ম্যাগাজিনে ছাপা হতো, তারপর ইন্টারনেটে এলো, আর এখন তো ইনস্টাগ্রাম আর ইউটিউবের দুনিয়া। দেখুন, আমিও তো একজন রক্তমাংসের মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই খুব খারাপ লাগে যখন দেখি যে খবরের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই, সেটাকেই দিনের পর দিন টেনেহিঁচড়ে বড় করা হচ্ছে এবং অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে’।

ক্লিকবেট খবরের সমালোচনা করে টিনা আরও যোগ করেন, ‘আমি তো আর কোনও সাধু নই যে এসবে আমার কিছু যাবে-আসবে না। এটা মানসিকভাবে অবশ্যই ডিস্টার্বিং। কিন্তু এই গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে টিকতে হলে গায়ের চামড়া মোটা করতে হয়। যখন আপনি আপনার পরিবারের আসল সত্যিটা জানেন, তখন এসবের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।’

‘কোমল’ বিতর্ক এবং গোবিন্দার সাফাই

গোবিন্দ ও সুনীতার সম্পর্কের টানাপোড়েনের গুঞ্জন নতুন করে দানা বাঁধে যখন একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে সুনীতা নাম না করে গোবিন্দের বিরুদ্ধে পরকীয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সুনীতা রাগ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে তিনি ‘কোমল’ নামটি চরম ঘৃণা করেন এবং এটি তাঁর জীবনে সমস্যা তৈরি করেছে। নেটিজেনরা ধরে নেন, গোবিন্দ হয়তো এই নামের কোনও নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।

পরবর্তীতে এই বিষয়ে মুখ খোলেন স্বয়ং গোবিন্দা। সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পরকীয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার কোনও হিরোইন বলতে পারবে না যে আমি কখনও কারও সাথে অভব্য আচরণ করেছি। সুনীতা যে ‘কোমল’-এর নাম নিচ্ছে, আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি আজও চুপ আছেন এবং একটা শব্দও বলেননি। আজকের যুগের মেয়ে হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।’

কমেডি শো-র মঞ্চে সুনীতার নতুন ‘খোঁচা’!

বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় শো ‘লাফটার শেফস ৩’ (Laughter Chefs 3)-এ অতিথি হিসেবে এসেছিলেন সুনীতা আহুজা। সেখানে তিনি মজার ছলে গোবিন্দকে লক্ষ্য করে এমন এক খোঁচা দেন, যা শুনে সবার চোখ কপালে ওঠে। প্রসঙ্গত, গত বছর গোবিন্দ নিজের লাইসেন্সড রিভলভার পরিষ্কার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিজের পায়ে গুলি চালিয়ে ফেলেছিলেন।

সেই দুর্ঘটনার রেশ টেনে শো-র অন্যতম প্রতিযোগী তথা গোবিন্দার ভাগ্নে ক্রুষ্ণা অভিষেকের স্ত্রী কাশ্মীর শাহ-কে উদ্দেশ্য করে সুনীতা বলেন, ‘কাশ্মীর, তোমায় একটা কথা বলি, যে স্বামী স্ত্রীকে সম্মান করে সে-ই আসল হিরো। আর যে ‘আঁখিও সে গোলি মারে’ (গোবিন্দের বিখ্যাত গান), কিন্তু নজর যখন কোনও ‘থার্ড পার্টি’ বা তৃতীয় ব্যক্তির দিকে চলে যায়... তখন সে নিজের হাঁটুতেই গুলি মেরে বসে!’

সুনীতার এই কমেন্টের পর নেটপাড়ায় আবার গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, গোবিন্দ-সুনীতার হাসিখুশি দাম্পত্যের আড়ালে এখনও পরকীয়া ও অভিমানের মেঘ পুরোপুরি কাটেনি।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More