সবই নিম করোলি বাবা-র আশীর্বাদ! ২ কোটিতে তৈরি হনুমান অংশ-এর আয় ৪০০ কোটি হতে পারে, মত ট্রেড অ্য়ানালিসিস্টদের
বক্স অফিসে শুরুটা ছিল অত্যন্ত ধীর। অথচ সেই ছবিই এখন কার্যত রীতিমতো ঝড় তুলেছে। মাত্র ২ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি ‘হনুমান অংশ’ ইতিমধ্যেই ১৫০ কোটির বেশি ব্যবসা করে ফেলেছে। মুক্তির ৩২ দিন পরেও দেশজুড়ে ১৩০০-র বেশি স্ক্রিনে চলছে ছবি। ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৌড় এখানেই থামার নয়।
প্রথম দিকে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছিল ‘হনুমান অংশ’। কিন্তু ছবির বিষয়বস্তু এবং দর্শকদের মুখে মুখে প্রচারের জেরে বদলে যায় গোটা চিত্র। মাত্র ২ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি এই ছবি এখন পর্যন্ত ১৫০ কোটির বেশি গ্রস কালেকশন করেছে।

নিম করৌলি বাবার জীবন, তাঁর কাহিনি এবং তাঁর অলৌকিক অভিজ্ঞতার দাবি করা ভক্তদের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ছবিটি। শুরুতে প্রচারের ক্ষেত্রেও খুব বেশি জোর দেওয়া হয়নি। কিন্তু দর্শকদের আগ্রহই ধীরে ধীরে ছবির পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৩০০-রও বেশি স্ক্রিনে চলছে ‘হনুমান অংশ’।
৩০০ কোটি ছোঁয়া কি সম্ভব?
মুক্তির ৩২ দিন পরেও ছবির এই দাপট দেখে ট্রেড মহলে তৈরি হয়েছে নতুন হিসাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ছবিটি ৩০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ এক মাসেরও বেশি সময় প্রেক্ষাগৃহে টিকে থাকাটাই বর্তমান সময়ে একটি ছবির জন্য বড় সাফল্য।
ট্রেড বিশ্লেষক তরণ আদর্শ ছবির শুরুতে নির্মাতাদের দেওয়া ‘এক টিকিট কিনলে একটি ফ্রি’ ধরনের অফার নিয়েও কথা বলেছেন। তাঁর মতে, তখন নির্মাতাদের সামনে হয়তো খুব বেশি বিকল্প ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।
‘দর্শকরাই এখন ছবির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’
তরণ আদর্শের কথায়, এখন আর সেই অফারের প্রয়োজন নেই। কারণ ছবিটি নিজের কনটেন্টের জোরেই দর্শক টানছে। দর্শকরাই কার্যত ছবির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরাই ‘হনুমান অংশ’-কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
ছবির সাফল্যকে অতীতের ‘জয় সন্তোষী মা’-এর সঙ্গে তুলনাও করেছেন তরণ। তাঁর স্মৃতিতে, ছোটবেলায় বহু মানুষ পুজোর থালা নিয়ে সেই ছবি দেখতে যেতেন এবং প্রেক্ষাগৃহের বাইরে জুতো খুলে রাখতেন। ‘হনুমান অংশ’-এর ক্ষেত্রেও নাকি এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছে—কেউ কেউ খালি পায়ে ছবিটি দেখতে গিয়েছেন।
২০০ থেকে ৪০০ কোটি—কত দূর যাবে ‘হনুমান অংশ’?
পঞ্চম সপ্তাহের পরেও ছবির ব্যবসা নিয়ে আশাবাদী ট্রেড মহল। তরণ আদর্শের মতে, এখন সবটাই দর্শকদের হাতে। এমনকী অষ্টম সপ্তাহে ছবির আয় যদি পঞ্চম সপ্তাহের তুলনায় বেশি হয়, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্যদিকে ট্রেড বিশেষজ্ঞ অতুল মোহনের হিসাব আরও বড়। তাঁর মতে, আগামী সপ্তাহে ছবির ব্যবসা আরও বাড়তে পারে। তাঁর দাবি, ছবিটি ২০০ কোটি, ৩০০ কোটি এমনকী ৪০০ কোটি টাকার লাইফটাইম কালেকশনও করতে পারে।
এদিকে বেশ কিছু স্কুল পড়ুয়াদের ছবিটি দেখানোর পরিকল্পনা করছে বলেও জানা যাচ্ছে। ট্রেড বিশেষজ্ঞ রাজ বনসল মনে করেন, এই ধরনের ছবির বক্স অফিস পারফরম্যান্স আগে থেকে অনুমান করা অত্যন্ত কঠিন। আর গিরিশ জোহরের প্রশ্ন, ‘অবসেশন’ যদি এতটা ব্যবসা করতে পারে, তাহলে ‘হনুমান অংশ’-কে ২০০ কোটির মধ্যে আটকে রাখার কারণ কী? ফলে এখন সবার নজর, শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে কোথায় গিয়ে থামে এই ছবির অবিশ্বাস্য দৌড়।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


