Hema-Dharmendra: পরিবারের আপত্তিতে বিয়ে! ধর্মেন্দ্রর মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক কেমন ছিল ২য় বউ হেমার?

বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রেমের গল্পগুলোর মধ্যে ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর সম্পর্ক আজও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদিকে তখনকার সুপারস্টার ধর্মেন্দ্র ছিলেন বিবাহিত, অন্যদিকে দুই পরিবারেরই আপত্তি ছিল তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে। বিয়ের পর ধর্মেন্দ্রর পরিবারের সঙ্গে হেমা মালিনীর সম্পর্ক কেমন ছিল? 

Published on: Jun 13, 2026, 13:55:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনি এবং ধর্মেন্দ্র-র প্রেম ও বিয়ের গল্প বহু বছর ধরেই আলোচনার বিষয়। ধর্মেন্দ্র তখন যদিও বিবাহিত ছিলেন, ফলে তাঁদের সম্পর্ক শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ও পারিবারিক আপত্তির মুখে পড়ে। হেমা মালিনী একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তাঁর বাবা এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তবে ভালোবাসার কাছে শেষ পর্যন্ত সব বাধাই হার মানে এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন তাঁরা।

ধর্মেন্দ্রর মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক কেমন ছিল ২য় বউ হেমার?
ধর্মেন্দ্রর মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক কেমন ছিল ২য় বউ হেমার?

নিজের আত্মজীবনী ‘Hema Malini: Beyond The Dream Girl’-এ অভিনেত্রী শুধু তাঁদের প্রেমের গল্পই নয়, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে ধর্মেন্দ্রর বাবা কেওয়াল কিষাণ সিং দেওলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

হেমা মালিনীর কথায়, বিয়ের পর ধর্মেন্দ্রর বাবা কেওয়াল কিষাণ সিং দেওল প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে দেখা করতে আসতেন। শুধু তাই নয়, তিনি হেমা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও খুব পছন্দ করতেন। শ্বশুরের সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন যে কেওয়াল কিষাণ সিং দেওল ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের মানুষ।

অভিনেত্রী জানান, যখনই ধর্মেন্দ্রর বাবা তাঁদের বাড়িতে আসতেন, তখন তিনি হেমার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বসে চা খেতেন এবং মজার ছলে নানা কথা বলতেন। একবার আর্ম-রেসলিং বা হাতের শক্তি পরীক্ষার খেলায় তাঁদের হারিয়ে দিয়ে তিনি মজা করে বলেছিলেন, ‘তোমরা ঘি, মাখন আর লস্যির বদলে ইডলি-সাম্বার খাও, ওগুলো শক্তি দেয় না।’ তাঁর এই মন্তব্য শুনে হেমা মালিনীর বাবা হেসে উঠেছিলেন। এই ধরনের ছোট ছোট মুহূর্তই দুই পরিবারের মধ্যে একটি স্বাভাবিক ও আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।

আত্মজীবনীতে হেমা তাঁদের বিয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ১৯৮০ সালে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে ধর্মেন্দ্র ও তিনি বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর দুজন একসঙ্গেই সংসার শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁদের পরিবারে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান—এষা দেওল এবং অহনা দেওল।

হেমা মালিনী আরও একটি আবেগঘন ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর বইয়ে। তিনি জানান, বড় মেয়ে এশা দেওলের গর্ভাবস্থার সময় তাঁর শাশুড়ি সতবন্ত কৌর একদিন ডাবিং স্টুডিয়োতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সেখানে এসে তিনি হেমাকে আশীর্বাদ করেন এবং কিছু সময় কাটিয়ে ফিরে যান। এই ঘটনাটি অভিনেত্রীর কাছে আজও বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

যদিও ধর্মেন্দ্রর দুই পরিবারের মধ্যে প্রকাশ্যে খুব বেশি যোগাযোগ বা মেলামেশা দেখা যায়নি, তবুও সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্ব ছিল না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হেমা মালিনী। বিশেষ করে ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের সন্তানদের সঙ্গে তাঁর দুই মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

হেমা স্বীকার করেছেন যে ধর্মেন্দ্রর ছেলে সানি দেওল এবং ববি দেওল তাঁদের সৎ বোন এশা ও আহানার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ মুহূর্তে ভাই-বোনদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে, যা দুই পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সৌহার্দ্যের ইঙ্গিত বহন করে।

বহু বিতর্ক, সামাজিক চাপ এবং পারিবারিক আপত্তি সত্ত্বেও ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আর তাঁদের পারিবারিক জীবনের এই অজানা গল্পগুলোই প্রমাণ করে যে পর্দার বাইরেও সম্পর্কের বন্ধন কখনও কখনও সব বাধা অতিক্রম করে আরও গভীর হয়ে ওঠে।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More