Hiran Chatterjee: ‘শিক্ষিতের পরিচয় তাঁর মুখের ভাষায়…', ঝরঝরে সংস্কৃত উচ্চারণ, হিরণের শপথ পাঠে মুগ্ধ নেটপাড়া
বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না। দুটো বিয়ে কিংবা দেবের সঙ্গে দ্বৈরথের জেরে চর্চায় থেকেছেন হিরণ। তবে এবার মুগ্ধ করল ঝরঝরে সংস্কৃতে তারকা বিধায়কের শপথ পাঠ।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম নজরকাড়া লড়াই ছিল হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্রে। সেখানে ঘাসফুল শিবিরের শক্ত ঘাঁটিতে পদ্ম ফোটানোর দায়িত্ব ছিল বিতর্কিত অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কাঁধে। ব্যক্তিগত জীবনে ঝড়, দুটো বিয়ে নিয়ে আইনি ঝামেলার মাঝেও দল ভরসা রেখেছিল হিরণে। ৪ঠা মে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। জয়ের পর এবার তাঁর শপথ গ্রহণের কায়দা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিধানসভার অলিন্দে কোনও সাধারণ ভাষায় নয়, বরং শুদ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণে শপথ নিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন শ্যামপুরের নতুন বিধায়ক।

শুদ্ধ উচ্চারণ ও আভিজাত্য:
হিরণ যে উচ্চশিক্ষিত এবং রুচিশীল, তা তাঁর শপথ পাঠের ভিডিওটি দেখলেই স্পষ্ট হয়। কোনো আড়ষ্টতা ছাড়াই অত্যন্ত সাবলীলভাবে দেবভাষা সংস্কৃতের প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন তিনি। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, 'শিক্ষিতের পরিচয় তাঁর মুখের ভাষায় এবং সংস্কৃতিতে। হিরণবাবু বুঝিয়ে দিলেন তিনি শুধু পর্দার নায়ক নন, মাটির কাছাকাছি থাকা একজন শিক্ষিত প্রতিনিধিও।'
চ্যালেঞ্জের জয়:
শ্যামপুর আসনটি বিজেপির জন্য জেতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু হিরণ সেখানে নিজের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে জয় হাসিল করেছেন। জয়ের পর তাঁর এই মার্জিত আচরণ এবং প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সংস্কৃতে শপথ নেওয়া বিরোধী শিবিরকেও কিছুটা অবাক করেছে। নেতিবাচক ট্রোলিং বা ব্যক্তিগত আক্রমণকে দূরে সরিয়ে হিরণ এখন নিজের ‘কাজ’ এবং ‘ব্যক্তিত্ব’ দিয়েই লাইমলাইটে থাকতে চাইছেন।
ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা:
সংস্কৃতে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে হিরণ যেন ঐতিহ্যের জয়গান গাইলেন। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে লিখেছেন, বিধানসভায় এমন শিক্ষিত ও মার্জিত মানুষের উপস্থিতি সুস্থ রাজনীতির বার্তাবাহক।
শ্যামপুরের মানুষের আশা, যে নিষ্ঠার সঙ্গে হিরণ সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ করে শপথ নিলেন, সেই একই নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি আগামী দিনে তাঁর বিধানসভা এলাকার মানুষের সেবা করবেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


