বিশ্বাস ব্রাদার্সের দাদাগিরি খতম! 'শ্য়ুটিং রুখে তোলা চেয়েছিল,সাহায্য করেনি মমতা দিদি': হিমাংশু ধানুকা
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকাল আর টলিপাড়ার ‘অঘোষিত সম্রাট’ অরূপ বিশ্বাসের একাধিপত্য— দুইয়েরই অবসান ঘটল এক ঝটকায়। এই ঐতিহাসিক জয়ের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এসকে মুভিজের কর্ণধার হিমাংশু ধানুকা।
টালিগঞ্জ মানেই অরূপ বিশ্বাস— এই দীর্ঘকালীন সমীকরণ ২০২৬-এর মে মাসে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। বিজেপির পাপিয়া অধিকারীর কাছে হেভিওয়েট অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় নিশ্চিত হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন প্রভাবশালী প্রযোজক হিমাংশু ধানুকা। কোনো লুকোছাপা নয়, বরং স্বরূপ বিশ্বাস ও অরূপ বিশ্বাসের ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে নাম না করেই তোপ দাগলেন তিনি। তবে হিংমাশু যে বিশ্বাস ব্রাদার্সের দিকেই আঙুল তুলছেন তা স্পষ্ট।

পুরনো ক্ষত বনাম বাংলার মানুষের রায়:
হিমাংশু ধানুকা মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই অন্ধকার সময়ের কথা, যখন লন্ডনের মাটিতে টলিউডের ছবির শুটিং আটকে দিয়েছিল ফেডারেশন। তিনি লিখেছেন, ‘কয়েক বছর আগে যখন ব্রিটেনে আমাদের ছবির শুটিং মাঝপথে থমকে গিয়েছিল, তখন জনসমক্ষে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় সব পক্ষ থেকে শুধু নীরবতা মিলেছিল।’ ধানুকার স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে, যাঁদের অঙ্গুলিহেলনে সে সময় টেকনিশিয়ানদের কাজ করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
জনতার গর্জন ও গণতন্ত্রের জয়:
বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়ে ধানুকা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘আজ বাংলার মানুষ কথা বলেছে। গণতন্ত্রে মানুষের গলার স্বরই শেষ কথা। এই জনাদেশ শুধু রাজনৈতিক নয়, এটা পরিবর্তনের চাহিদা, দায়বদ্ধতা এবং প্রতিভাকে সম্মান জানানোর লড়াই।’ তাঁর মতে, টলিউডের সৃজনশীল মানুষদের এবার আর কারো দয়ায় বা ভয়ে কাজ করতে হবে না।
ফেডারেশনের ‘দাদাগিরি’র অবসান?
স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘকাল ধরে ফেডারেশনের মাথায় থেকে স্টুডিও পাড়া নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ধানুকার এই পোস্ট যেন সেই ‘সিস্টেম’কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এবার টলিপাড়ার ইকোসিস্টেম আরও স্বচ্ছ হবে এবং মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের যোগ্য সম্মান মিলবে।
টালিগঞ্জে উলটপুরাণ:
বিজেপির পাপিয়া অধিকারীর এই জয় শুধু একটি আসনের জয় নয়, এটি টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর বিশ্বাস ভাইদের একচ্ছত্র আধিপত্যের পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই টলিপাড়ার অলিতে-গলিতে চাপা উত্তেজনা— অনেকেই আশা করছেন, এবার হয়তো সত্যিই ‘ভয়মুক্ত’ হয়ে কাজ করার পরিবেশ ফিরবে।
হিমাংশু ধানুকার এই বিস্ফোরক পোস্টের পর স্বরূপ বা অরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ২০২৬-এর এই ফল যে টলিউডের রাজনীতির খোলনলচে বদলে দেবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


