Pratibha Sinha: মা মালা সিনহার কথায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে আনেন ধর্ষণের অভিযোগ, কোথায় হারিয়ে গেলেন ‘পরদেশি’ গার্ল প্রতিভা?
মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে তাঁর মুখের মিল নিয়ে একটা সময় কম চর্চা হয়নি। খ্যাতনামী মায়ের অসফল কন্যা! এই ট্যাগ মুছতে পারেননি প্রতিভা সিনহা। প্রেমেও হয়েছিলেন ব্যর্থ। সেই ক্ষোভেই কি হারিয়ে গেলেনয
বলিউড চলচ্চিত্র শিল্পে অভিনেতা, অভিনেত্রী, গায়ক ও পরিচালকদের প্রেম এবং সম্পর্কের খবর প্রায়শই শোনা যায়। অনেকেই ভালোবাসার সম্পর্ককে পরিণয়ের রূপ দেন, আবার অনেকের প্রেম পরিণতি পায় না। তবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক অভিনেত্রীর গল্পও রয়েছে, যিনি প্রথমে প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে পারিবারিক চাপে পড়ে নিজের সঙ্গীর বিরুদ্ধেই একাধিক মারাত্মক অভিযোগ আনেন। এর ফলে সেই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়—আর এর পেছনে দায়ী ছিলেন অন্য কেউ নন, তাঁর নিজের মা।

যে গানের মাধ্যমে প্রতিভা পেয়েছিলেন পরিচিতি
এখানে কথা হচ্ছে প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মালা সিনহা এবং তাঁর কন্যা প্রতিভা সিনহাকে নিয়ে। মালা সিনহা নিজের জমানার অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী ছিলেন, কিন্তু তাঁর কন্যা প্রতিভা সিনহার ক্যারিয়ার ছিল অত্যন্ত ব্যর্থ। ৯০-এর দশকের শুরুতে ১৯৯২ সালে জয় মুখোপাধ্যায়ের ছেলে সুজয়ের বিপরীতে 'মেহবুব মেরে মেহবুব' ছবির মাধ্যমে প্রতিভা তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা করেন। তবে তিনি প্রকৃত পরিচিতি পান 'রাজা হিন্দুস্তানি' ছবির বিখ্যাত গান 'পরদেশি পরদেশি জানা নেহি...'-তে পারফর্ম করে। যদিও এর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সিনেমা জগৎকে চিরতরে বিদায় জানান।
মেয়েকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মা
ক্যারিয়ারের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিভা সিনহা মিউজিক ডিরেক্টর নদীম সাইফির প্রেমে পড়েন। তাঁরা দুজনে একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং একসঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিভার মা মালা সিনহা এই সম্পর্ক একেবারেই মেনে নিতে পারেননি। এর পেছনে দুটি বড় কারণ ছিল—প্রথমত, নদীম আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং দ্বিতীয়ত, তিনি অন্য ধর্মের ছিলেন। মালা সিনহা তাঁর মেয়েকে বোঝান যে প্রেমের চক্করে না পড়ে ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে। তবে প্রতিভা মায়ের কথা না শুনে লুকিয়ে নদীমের সঙ্গে দেখা করতে থাকেন।

স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতেও প্রস্তুত ছিলেন নদীম
বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নদীম, প্রতিভার ভালোবাসায় এতটাই পাগল ছিলেন যে তিনি নিজের স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতেও রাজি হয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে মালা সিনহা মেয়েকে নদীমের থেকে দূরে রাখার সবরকম চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিভা যখন পিছু হটতে রাজি হননি, তখন তিনি মেয়েকে চেন্নাই পাঠিয়ে দেন।

নদীমের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ
এরপর প্রতিভা সিনহা ও নদীমের প্রেম এক অভাবনীয় মোড় নেয়। মালা সিনহা মুম্বাইতে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। সেই প্রেস কনফারেন্সে প্রতিভার বক্তব্য সম্পূর্ণ বদলে যায়। নদীমের সঙ্গে প্রেমের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন এবং সঙ্গীতশিল্পীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ তোলেন।
এই ঘটনার পর নদীমও একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, মা ও মেয়ে মিলে তাঁর সঙ্গে খেলা খেলেছেন এবং তাঁর নাম ব্যবহার করে সস্তা পাবলিসিটি বা প্রচার পেতে চেয়েছিলেন। এই বিতর্কিত ঘটনার পর প্রতিভা সিনহা বলিউড ইন্ডাস্ট্রি থেকে চিরতরে উধাও হয়ে যান।

২০০০ সালের পর টিনসেল টাউনের লাইমলাইট থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেন প্রতিভা সিনহা। এখন তিনি নিজের বাবার পদবি ব্যবহার করেন প্রতিভা লোহানি। বলিউড থেকে শতহস্ত দূরে তিনি। জানা যায়, আজও বিয়ে করেননি প্রতিভা। কেরিয়ারের অসফলতা, প্রেমও পূর্ণতা পায়নি। সেই হতাশা থেকেই হয়ত হারিয়ে যান প্রতিভা। তবে রাজা হিন্দুস্থানি ছবির ‘পরদেশি’ গানে প্রতিভার সেই হৃদয়বিদারক নাচ আজও ভোলেনি দর্শক।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


